ঢাকা ০২:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

ইরানের ওপর বড় ধরনের সামরিক হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:০৭:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ২৭ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর উপস্থিতি বৃদ্ধির পাশাপাশি বিমানবাহী রণতরিতে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও বাঙ্কারবিধ্বংসী বোমা মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া ইসরায়েলের সামরিক প্রস্তুতি জোরদার হওয়ার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন দফায় হামলার সম্ভাবনা মাথায় রেখেই সামরিক বাহিনী নিজেদের অবস্থান তৈরি করছে। তবে নতুন করে মার্কিন সামরিক তৎপরতা বাড়ায় পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

আরব সাগরে মোতায়েনকৃত মার্কিন রণতরি ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনে নতুন করে গোলাবারুদ ও অস্ত্রশস্ত্র তোলা হচ্ছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, ইরানের ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনা এবং সুরক্ষিত সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র ও বাঙ্কারবিধ্বংসী বোমা মজুত করা হয়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সাংবাদিক শেলবি হলিডে রণতরি পরিদর্শনের সময় বিপুল অস্ত্রভাণ্ডার এবং যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত যুদ্ধবিমানগুলো প্রত্যক্ষ করেছেন। এসব কার্যক্রম মূলত ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য নতুন অভিযানেরই অংশ। বার্তা সংস্থা এএফপি ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

ওয়াশিংটনের এই বর্ধিত সামরিক তৎপরতাকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন বিশেষ দূত টম ব্যারাক জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহান্তেই হয়তো হামলা শুরু হতে পারে। আবার অনেক বিশ্লেষকের মতে, আগামী ৩ নভেম্বর মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরই বড় ধরনের সংঘাতের সূচনা হতে পারে। তবে অভিযানের নির্দিষ্ট সময়সীমা সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য মেলেনি।

বর্তমান উত্তেজনার কেন্দ্রে রয়েছে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা এবং ইরানের বিভিন্ন বন্দরে আরোপিত মার্কিন অবরোধ। যদিও সেপ্টেম্বরের পর থেকে স্থলভিত্তিক হামলার মাত্রা কিছুটা সীমিত ছিল, তবে বর্তমান সামরিক প্রস্তুতি বড় ধরনের সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশ্লেষকদের সতর্কবার্তা হলো, ইরানের মূল সামরিক স্থাপনাগুলো আগের হামলাতেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাই এবার আক্রমণ হলে তা সরাসরি বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে, যা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়ে তুলবে। ফলে নতুন করে হামলা চালানো হলে তার প্রভাব ক্রমেই বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর পড়তে পারে।

ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট রণতরি ও অতিরিক্ত মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট মোতায়েনের পরিকল্পনাও রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, সংঘাতের দ্রুত অবসান ঘটানো সম্ভব। তবে কূটনৈতিক পথে সমস্যার সমাধান হবে নাকি সামরিক শক্তি প্রয়োগ করা হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। এখন ওয়াশিংটনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপরই পুরো অঞ্চলের ভাগ্য নির্ভর করছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ইরানের ওপর বড় ধরনের সামরিক হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট সময় : ০৭:০৭:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর উপস্থিতি বৃদ্ধির পাশাপাশি বিমানবাহী রণতরিতে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও বাঙ্কারবিধ্বংসী বোমা মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া ইসরায়েলের সামরিক প্রস্তুতি জোরদার হওয়ার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন দফায় হামলার সম্ভাবনা মাথায় রেখেই সামরিক বাহিনী নিজেদের অবস্থান তৈরি করছে। তবে নতুন করে মার্কিন সামরিক তৎপরতা বাড়ায় পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

আরব সাগরে মোতায়েনকৃত মার্কিন রণতরি ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনে নতুন করে গোলাবারুদ ও অস্ত্রশস্ত্র তোলা হচ্ছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, ইরানের ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনা এবং সুরক্ষিত সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র ও বাঙ্কারবিধ্বংসী বোমা মজুত করা হয়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সাংবাদিক শেলবি হলিডে রণতরি পরিদর্শনের সময় বিপুল অস্ত্রভাণ্ডার এবং যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত যুদ্ধবিমানগুলো প্রত্যক্ষ করেছেন। এসব কার্যক্রম মূলত ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য নতুন অভিযানেরই অংশ। বার্তা সংস্থা এএফপি ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

ওয়াশিংটনের এই বর্ধিত সামরিক তৎপরতাকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন বিশেষ দূত টম ব্যারাক জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহান্তেই হয়তো হামলা শুরু হতে পারে। আবার অনেক বিশ্লেষকের মতে, আগামী ৩ নভেম্বর মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরই বড় ধরনের সংঘাতের সূচনা হতে পারে। তবে অভিযানের নির্দিষ্ট সময়সীমা সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য মেলেনি।

বর্তমান উত্তেজনার কেন্দ্রে রয়েছে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা এবং ইরানের বিভিন্ন বন্দরে আরোপিত মার্কিন অবরোধ। যদিও সেপ্টেম্বরের পর থেকে স্থলভিত্তিক হামলার মাত্রা কিছুটা সীমিত ছিল, তবে বর্তমান সামরিক প্রস্তুতি বড় ধরনের সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশ্লেষকদের সতর্কবার্তা হলো, ইরানের মূল সামরিক স্থাপনাগুলো আগের হামলাতেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাই এবার আক্রমণ হলে তা সরাসরি বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে, যা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়ে তুলবে। ফলে নতুন করে হামলা চালানো হলে তার প্রভাব ক্রমেই বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর পড়তে পারে।

ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট রণতরি ও অতিরিক্ত মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট মোতায়েনের পরিকল্পনাও রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, সংঘাতের দ্রুত অবসান ঘটানো সম্ভব। তবে কূটনৈতিক পথে সমস্যার সমাধান হবে নাকি সামরিক শক্তি প্রয়োগ করা হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। এখন ওয়াশিংটনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপরই পুরো অঞ্চলের ভাগ্য নির্ভর করছে।