ইরানে নতুন সামরিক অভিযানের পথে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু?
- আপডেট সময় : ১১:৪০:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ৪০ বার পড়া হয়েছে
আসন্ন নির্বাচনের আগে ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযান পরিচালনা করা যায় কি না, তা নিয়ে গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে টেলিফোনে আলোচনা হয়েছে। প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল উভয় দেশেই নির্বাচনী ডামাডোল চলছে, যেখানে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষা এবং ট্রাম্পের জন্য আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এ পদ ধরে রাখতে পারবেন কি না, তা নিয়ে এরই মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। কেউ কেউ আবার বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের ভাগ্যও নির্ধারণ হয়ে যেতে পারে। তবে এই পরিস্থিতির মধ্যেই দুই রাষ্ট্রনেতা আবার ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর ছক কষেছেন। তবে ট্রাম্প তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারেন—এমন ভাবনার কারণে উভয় দেশের সামরিক বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং প্রস্তুতির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। “তিনি এ বিষয়ে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কয়েকবার কথা বলেছেন, এবং প্রেসিডেন্ট বলেছেন, শুনুন, বিবি (নেতানিয়াহু) এগিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিন। ট্রাম্পের এই মতিগতি সম্পর্কে নিশ্চিত করেছেন এক মার্কিন কর্মর্তাও।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান গোপনে তাদের পারমাণবিক কাঠামোগুলো ফের গুছিয়ে তোলার চেষ্টা করছে—এমন গোয়েন্দা তথ্যে উদ্বিগ্ন নেতানিয়াহু সামরিক অভিযানের জন্য ট্রাম্পের ওপর চাপ প্রয়োগ করেছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকেই উভয় অঞ্চলের মধ্যে অস্থিরতা বিরাজ করছে। সেই ঘটনার সূত্রপাত থেকেই ইরান ও ইসরায়েল দফায় দফায় পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়েছে। তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে, সেই সন্দেহ থেকেই হামলা চালায় তারা। তার পর থেকে হামলা পাল্টা হামলায় প্রায়ই উত্তপ্ত হয়ে থাকছে পশ্চিম এশিয়া পরিস্থিতি।
আলোচনা ও সামরিক প্রস্তুতির সারসংক্ষেপ
- নেতানিয়াহুর প্রস্তাব: ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযানে যেতে ট্রাম্পের কাছে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী।
- প্রেসিডেন্টের পরামর্শ: ট্রাম্প তাকে প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন, তবে হামলার নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা বা চূড়ান্ত প্রতিশ্রুতি দেননি।
- সামরিক সতর্কতা: যুদ্ধের অনিশ্চয়তা ও ট্রাম্পের দ্বিধাদ্বন্দ্বের কারণে উভয় দেশের সামরিক বাহিনীকে উচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে।
হোয়াইট হাউজের পরিস্থিতি নিয়ে অবগত এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে ট্রাম্পের অভ্যন্তরে ভিন্নমত রয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) নেতৃস্থানীয়রা সামরিক অভিযান সমর্থনের পক্ষে থাকলেও, ট্রাম্পের অন্য উপদেষ্টারা বর্তমান পরিস্থিতিতে যুদ্ধের বদলে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা কঠোর করার পরামর্শ দিয়েছেন। যদিও প্রাথমিক আলাপে ট্রাম্পকে আগ্রহী মনে হয়েছিল, তবে বর্তমানে তিনি কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত বলে ইসরায়েলি সূত্রের দাবি।
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ট্রাম্প স্পষ্টভাবে কাউকে কোনো নিশ্চয়তা দেননি। এ নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের এক কর্মকর্তার মন্তব্য হলো—প্রস্তুত থাকার অর্থ এখনই হতে পারে, পরে হতে পারে, অথবা কখনোই না। এদিকে হোয়াইট হাউজের তরফ থেকে যুদ্ধ শুরু করার বিষয়ে আলোচনার তথ্য অস্বীকার করা হয়েছে। পাশাপাশি নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানিয়েছে যে, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন প্রশাসনের নিয়মিত যোগাযোগ থাকলেও আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে তারা কোনো মন্তব্য করবে না। গত বৃহস্পতিবার ট্রাম্প ভোটের আগে সরাসরি সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেও, তার পরবর্তী সিদ্ধান্তের অনিশ্চয়তায় পুরো অঞ্চল এখন উদ্বেগের মুখে রয়েছে।
























