ঢাকা ১২:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

ইসরায়েলি অভিযানের মুখে ফিলিস্তিনের হেবরন এখন ভুতুড়ে শহর

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৫৪:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ১৯ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের অবরুদ্ধ হেবরন শহর এখন এক ভীতিকর জনশূন্য এলাকায় পরিণত হয়েছে। গত শুক্রবার বন্দুকধারীর হামলায় দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার পর থেকেই শহরটিতে তীব্র সামরিক অভিযান চালাচ্ছে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী। ওই হামলায় সন্দেহভাজন দুই ফিলিস্তিনিও নিহত হয়েছেন। স্বাধীন সাংবাদিক জ্যাসপার নাথানিয়েল আল-জাজিরাকে জানান, এলাকাটি এখন কার্যত একটি ভুতুড়ে শহরে রূপ নিয়েছে, কারণ বাসিন্দাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, হামলায় সন্দেহভাজন হামলাকারী নিহত দুই ফিলিস্তিনি যে পাড়ায় থাকতেন, সেনাবাহিনী সেই ‘পুরো পাড়া’ তছনছ করে দিয়েছে। নাথানিয়েল আরও বলেন, ‘মনে হচ্ছে, সেনাবাহিনী নিজেরাই জানে না, এখানে তারা কী করছে। তিনি হেবরন শহরেই অবৈধভাবে বসবাস করেন। সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে এই হামলা হওয়ার পর তাঁরা প্রতিশোধ নিতে চেয়েছিলেন।

সেনাবাহিনীর অভিযানের মুখে স্থানীয় পরিবারগুলো ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার হয়েছে। নাথানিয়েল জানান, সন্দেহভাজন দুই ফিলিস্তিনির বসবাসের পাড়াটি পুরোপুরি তছনছ করে দেওয়া হয়েছে এবং বাসিন্দাদের জোর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। অনেক বাড়িতেই এখন ভাঙচুরের চিহ্ন বা ‘এক্স’ চিহ্ন এঁকে রাখা হয়েছে। তল্লাশিচৌকির কাছাকাছি অবস্থিত বাড়িঘরগুলোও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যেখানে পরিবারগুলোকে মাত্র কয়েক মিনিটের নোটিশে ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য করা হয়। নাথানিয়েল আরও বলেন, সেনাদের কার্যক্রম অস্পষ্ট এবং তারা সেখানে শুধু দাঁড়িয়ে থাকতেই দেখা যাচ্ছে।

আল-জাজিরার সাংবাদিক নূর ওদেহ এই অভিযানের পেছনে গভীর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য দেখছেন। হেবরন শহরের বাসিন্দা ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী ও কট্টরপন্থী নেতা ইতামার বেন-গভির এবং বর্তমান বসতিবিষয়ক মন্ত্রী এই সামরিক তৎপরতার পেছনে রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। মূলত নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান শক্ত করতে ও সমর্থকদের সন্তুষ্ট করতেই এই প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোতরিচ নিজেও এই ধ্বংসযজ্ঞের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ তিনিই দিয়েছেন। যে তল্লাশিচৌকিতে ওই হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল, তার কাছেও বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।

ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় কারণে হেবরন শহরটি উভয় পক্ষের কাছেই সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্লেষকদের মতে, এই সামরিক অভিযান নিছক নিরাপত্তা নয়, বরং শহরটি পুরোপুরি নিজেদের দখলে নেওয়ার একটি আদর্শগত প্রচেষ্টার অংশ। সেনাদের বিভিন্ন পাড়ার নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ এবং বাড়িঘর ধ্বংসের ঘোষণার মাধ্যমে এই অঞ্চলের সংঘাত ও রাজনৈতিক বিভাজন আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। এদিকে, পশ্চিম তীরে সেনা নিহতের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ’৬৭ সালের মতো কঠোর অভিযানের হুমকি দিয়ে রেখেছেন। তাই এই সামরিক অভিযান আসলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই সাজানো হয়েছে। এটি একটি আদর্শগত চূড়ান্ত লক্ষ্য পূরণে কাজ করছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ইসরায়েলি অভিযানের মুখে ফিলিস্তিনের হেবরন এখন ভুতুড়ে শহর

আপডেট সময় : ১০:৫৪:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের অবরুদ্ধ হেবরন শহর এখন এক ভীতিকর জনশূন্য এলাকায় পরিণত হয়েছে। গত শুক্রবার বন্দুকধারীর হামলায় দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার পর থেকেই শহরটিতে তীব্র সামরিক অভিযান চালাচ্ছে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী। ওই হামলায় সন্দেহভাজন দুই ফিলিস্তিনিও নিহত হয়েছেন। স্বাধীন সাংবাদিক জ্যাসপার নাথানিয়েল আল-জাজিরাকে জানান, এলাকাটি এখন কার্যত একটি ভুতুড়ে শহরে রূপ নিয়েছে, কারণ বাসিন্দাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, হামলায় সন্দেহভাজন হামলাকারী নিহত দুই ফিলিস্তিনি যে পাড়ায় থাকতেন, সেনাবাহিনী সেই ‘পুরো পাড়া’ তছনছ করে দিয়েছে। নাথানিয়েল আরও বলেন, ‘মনে হচ্ছে, সেনাবাহিনী নিজেরাই জানে না, এখানে তারা কী করছে। তিনি হেবরন শহরেই অবৈধভাবে বসবাস করেন। সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে এই হামলা হওয়ার পর তাঁরা প্রতিশোধ নিতে চেয়েছিলেন।

সেনাবাহিনীর অভিযানের মুখে স্থানীয় পরিবারগুলো ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার হয়েছে। নাথানিয়েল জানান, সন্দেহভাজন দুই ফিলিস্তিনির বসবাসের পাড়াটি পুরোপুরি তছনছ করে দেওয়া হয়েছে এবং বাসিন্দাদের জোর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। অনেক বাড়িতেই এখন ভাঙচুরের চিহ্ন বা ‘এক্স’ চিহ্ন এঁকে রাখা হয়েছে। তল্লাশিচৌকির কাছাকাছি অবস্থিত বাড়িঘরগুলোও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যেখানে পরিবারগুলোকে মাত্র কয়েক মিনিটের নোটিশে ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য করা হয়। নাথানিয়েল আরও বলেন, সেনাদের কার্যক্রম অস্পষ্ট এবং তারা সেখানে শুধু দাঁড়িয়ে থাকতেই দেখা যাচ্ছে।

আল-জাজিরার সাংবাদিক নূর ওদেহ এই অভিযানের পেছনে গভীর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য দেখছেন। হেবরন শহরের বাসিন্দা ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী ও কট্টরপন্থী নেতা ইতামার বেন-গভির এবং বর্তমান বসতিবিষয়ক মন্ত্রী এই সামরিক তৎপরতার পেছনে রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। মূলত নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান শক্ত করতে ও সমর্থকদের সন্তুষ্ট করতেই এই প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোতরিচ নিজেও এই ধ্বংসযজ্ঞের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ তিনিই দিয়েছেন। যে তল্লাশিচৌকিতে ওই হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল, তার কাছেও বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।

ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় কারণে হেবরন শহরটি উভয় পক্ষের কাছেই সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্লেষকদের মতে, এই সামরিক অভিযান নিছক নিরাপত্তা নয়, বরং শহরটি পুরোপুরি নিজেদের দখলে নেওয়ার একটি আদর্শগত প্রচেষ্টার অংশ। সেনাদের বিভিন্ন পাড়ার নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ এবং বাড়িঘর ধ্বংসের ঘোষণার মাধ্যমে এই অঞ্চলের সংঘাত ও রাজনৈতিক বিভাজন আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। এদিকে, পশ্চিম তীরে সেনা নিহতের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ’৬৭ সালের মতো কঠোর অভিযানের হুমকি দিয়ে রেখেছেন। তাই এই সামরিক অভিযান আসলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই সাজানো হয়েছে। এটি একটি আদর্শগত চূড়ান্ত লক্ষ্য পূরণে কাজ করছে।