ঢাকা ০২:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: নিহত ৫

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৫৩:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬ ২৯ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর এডেনের আল-মাশিক প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ চত্বরে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে হুতি বিদ্রোহীরা। গতকাল বৃহস্পতিবারের এই হামলায় অন্তত ৫ জন নিহত এবং ১৬ জন আহত হয়েছেন। হামলার ঘটনায় নিহতদের মধ্যে প্রাসাদের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মী ও বেসামরিক কর্মচারীরা রয়েছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী কাসিম বুহাইবেহ।

প্রাসাদের ভেতর অবস্থিত সরকারি বাহিনীর কমান্ড সেন্টার এবং সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের সদর দপ্তর লক্ষ্য করেই মূলত এই হামলা চালানো হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি বাহিনীর কমান্ড সেন্টারে তিনটি এবং জোটের সদর দপ্তরে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের তীব্র শব্দ শোনার পরপরই ওই এলাকা থেকে ধোঁয়া কুণ্ডলী পাকিয়ে উঠতে দেখা যায়। গত জুলাই মাসে গৃহযুদ্ধ নতুন করে তীব্র হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের মতো সুরক্ষিত এলাকায় এটিই প্রথম বড় ধরনের হামলা। এএফপির এক সাংবাদিক হামলার পর ঘটনাস্থল থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখেছেন।

হামলার সময় প্রধানমন্ত্রী শায়া আল-জিনদানি প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ চত্বরেই উপস্থিত ছিলেন। সৌভাগ্যবশত তিনি কোনো আঘাত পাননি। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান। তিনি এটিকে একটি কাপুরুষোচিত হামলা হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, নিরপরাধ মানুষ ও বেসামরিক স্থাপনার ওপর এই ধরনের আক্রমণ হুতিদের ধারাবাহিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডেরই অংশ।

এদিকে হুতিদের সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমের দাবি, তারা সৌদি জোটের সামরিক অভিযানের প্রধান কেন্দ্র এবং অস্ত্রভাণ্ডার লক্ষ্য করেই ওই হামলা চালিয়েছে। এছাড়া কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এবং তেলসমৃদ্ধ মারিব শহর লক্ষ্য করেও হুতিরা একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে বলে সরকারি বাহিনীর পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রতিরক্ষায় শত শত কোটি কোটি ডলার খরচ করেও কেন হুতিদের হামলা ঠেকাতে পারছে না সৌদি আরব।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সাল থেকে ইয়েমেনের বর্তমান সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার পর থেকেই দেশটিতে সংঘাত চরম আকার ধারণ করেছে। সৌদি আরবের পক্ষ থেকে সরাসরি অভিযোগ করা হয়েছে যে, ইরান হুতিদের অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধিতে উৎসাহিত করছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনে অস্থিরতা বৃদ্ধির পেছনে ইরানের হাত রয়েছে বলেও দাবি করেছে রিয়াদ। দেশটিতে সৌদি–সমর্থিত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি সরকারের কার্যক্রম এ প্রাসাদ থেকে পরিচালিত হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: নিহত ৫

আপডেট সময় : ০৪:৫৩:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর এডেনের আল-মাশিক প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ চত্বরে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে হুতি বিদ্রোহীরা। গতকাল বৃহস্পতিবারের এই হামলায় অন্তত ৫ জন নিহত এবং ১৬ জন আহত হয়েছেন। হামলার ঘটনায় নিহতদের মধ্যে প্রাসাদের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মী ও বেসামরিক কর্মচারীরা রয়েছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী কাসিম বুহাইবেহ।

প্রাসাদের ভেতর অবস্থিত সরকারি বাহিনীর কমান্ড সেন্টার এবং সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের সদর দপ্তর লক্ষ্য করেই মূলত এই হামলা চালানো হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি বাহিনীর কমান্ড সেন্টারে তিনটি এবং জোটের সদর দপ্তরে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের তীব্র শব্দ শোনার পরপরই ওই এলাকা থেকে ধোঁয়া কুণ্ডলী পাকিয়ে উঠতে দেখা যায়। গত জুলাই মাসে গৃহযুদ্ধ নতুন করে তীব্র হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের মতো সুরক্ষিত এলাকায় এটিই প্রথম বড় ধরনের হামলা। এএফপির এক সাংবাদিক হামলার পর ঘটনাস্থল থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখেছেন।

হামলার সময় প্রধানমন্ত্রী শায়া আল-জিনদানি প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ চত্বরেই উপস্থিত ছিলেন। সৌভাগ্যবশত তিনি কোনো আঘাত পাননি। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান। তিনি এটিকে একটি কাপুরুষোচিত হামলা হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, নিরপরাধ মানুষ ও বেসামরিক স্থাপনার ওপর এই ধরনের আক্রমণ হুতিদের ধারাবাহিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডেরই অংশ।

এদিকে হুতিদের সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমের দাবি, তারা সৌদি জোটের সামরিক অভিযানের প্রধান কেন্দ্র এবং অস্ত্রভাণ্ডার লক্ষ্য করেই ওই হামলা চালিয়েছে। এছাড়া কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এবং তেলসমৃদ্ধ মারিব শহর লক্ষ্য করেও হুতিরা একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে বলে সরকারি বাহিনীর পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রতিরক্ষায় শত শত কোটি কোটি ডলার খরচ করেও কেন হুতিদের হামলা ঠেকাতে পারছে না সৌদি আরব।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সাল থেকে ইয়েমেনের বর্তমান সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার পর থেকেই দেশটিতে সংঘাত চরম আকার ধারণ করেছে। সৌদি আরবের পক্ষ থেকে সরাসরি অভিযোগ করা হয়েছে যে, ইরান হুতিদের অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধিতে উৎসাহিত করছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনে অস্থিরতা বৃদ্ধির পেছনে ইরানের হাত রয়েছে বলেও দাবি করেছে রিয়াদ। দেশটিতে সৌদি–সমর্থিত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি সরকারের কার্যক্রম এ প্রাসাদ থেকে পরিচালিত হয়।