ঢাকা ০২:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

ইয়েমেনে সেনা প্রশিক্ষণ শিবিরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ৫৮

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৮:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬ ৩৬ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শাবওয়া প্রদেশের একটি সামরিক প্রশিক্ষণ শিবিরে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। হুথি বিদ্রোহীদের ছোড়া তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে অন্তত ৫৮ জন সেনাসদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন দুই শতাধিক মানুষ এবং এখনো ১৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্রের তথ্যানুযায়ী, সোমবার যখন ওই শিবিরে সেনাবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ মহড়া চলছিল, তখনই অতর্কিতভাবে এই হামলা চালানো হয়। ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ শাবওয়ায় সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ শিবিরে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৫৮ জন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন ২ শতাধিক এবং নিখোঁজ হয়েছেন ১৪ জন। গত সেপ্টেম্বরে হুথি বাহিনী লোহিত সাগরের প্রবেশপথ ও গুরুত্বপূর্ণ নৌ-চলাচল পথ ‘বাব আল-মান্দেব প্রণালী’র কাছাকাছি এলাকাগুলোর দিকে অগ্রসর হওয়ার পর থেকেই তাদের সঙ্গে সৌদি সমর্থিত এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল সরকারের পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে। দক্ষিণ-মধ্য উপকূলীয় ইয়েমেনের জ্বালানি-সমৃদ্ধ প্রদেশ শাবওয়া, যা এডেন উপসাগরের তীরে অবস্থিত, সেখানে ইয়েমেনের বৃহত্তম শিল্প বিনিয়োগ—‘বালহাফ’ অবস্থিত। বালহাফের কারখানায় তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন করা হয়। সৌদি আরবের সরকার বা সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। অন্যদিকে, হুথিরা ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় পার্বত্য এলাকার তাইজ শহরটিকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে, যা হুথি-বিরোধী শক্তির সর্বশেষ বড় ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। হুথিরা বিশ্বের বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরবের ওপর হামলা জোরদার করেছে; তারা রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি ‘সৌদি আরামকো’কে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে। পরের বছর সৌদি আরবের নেতৃত্বে একটি সামরিক হস্তক্ষেপের ফলে পরিস্থিতি এক রক্তক্ষয়ী অচলাবস্থার দিকে মোড় নেয়। ইয়েমেন বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকটের সম্মুখীন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহইয়া সারী এই হামলার দায় স্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, তাদের লক্ষ্যবস্তুতে থাকা ওই প্রশিক্ষণ শিবিরটি সৌদি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ছিল। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের যাচাই করা একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, হামলার পর বিধ্বস্ত প্রশিক্ষণ মাঠের বিভিন্ন স্থানে হতাহতরা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছেন এবং সর্বত্র রক্তমাখা নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। শাবওয়ার গভর্নর আওয়াদ আল ওয়াজির নিশ্চিত করেছেন এ তথ্য।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সাল থেকে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ চলছে। সেই সময় হুথিরা রাজধানী সানা দখল করে নিলে বর্তমান সরকার দক্ষিণের দিকে সরে যেতে বাধ্য হয়। দীর্ঘ সংঘাতের পর ২০২২ সালে বিবদমান পক্ষগুলো একটি যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছিল, যা চলতি বছর পর্যন্ত কার্যকর ছিল। তবে এই বড় ধরনের প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় ইয়েমেনের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টিতে এই সংঘাত দীর্ঘকাল ধরে দেশটির জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে রেখেছে। ইয়েমেনের এই সংঘাত এখন ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বৃহত্তর লড়াইয়ের একটি নতুন ফ্রন্টে পরিণত হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ইয়েমেনে সেনা প্রশিক্ষণ শিবিরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ৫৮

আপডেট সময় : ০৯:৩৮:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শাবওয়া প্রদেশের একটি সামরিক প্রশিক্ষণ শিবিরে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। হুথি বিদ্রোহীদের ছোড়া তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে অন্তত ৫৮ জন সেনাসদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন দুই শতাধিক মানুষ এবং এখনো ১৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্রের তথ্যানুযায়ী, সোমবার যখন ওই শিবিরে সেনাবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ মহড়া চলছিল, তখনই অতর্কিতভাবে এই হামলা চালানো হয়। ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ শাবওয়ায় সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ শিবিরে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৫৮ জন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন ২ শতাধিক এবং নিখোঁজ হয়েছেন ১৪ জন। গত সেপ্টেম্বরে হুথি বাহিনী লোহিত সাগরের প্রবেশপথ ও গুরুত্বপূর্ণ নৌ-চলাচল পথ ‘বাব আল-মান্দেব প্রণালী’র কাছাকাছি এলাকাগুলোর দিকে অগ্রসর হওয়ার পর থেকেই তাদের সঙ্গে সৌদি সমর্থিত এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল সরকারের পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে। দক্ষিণ-মধ্য উপকূলীয় ইয়েমেনের জ্বালানি-সমৃদ্ধ প্রদেশ শাবওয়া, যা এডেন উপসাগরের তীরে অবস্থিত, সেখানে ইয়েমেনের বৃহত্তম শিল্প বিনিয়োগ—‘বালহাফ’ অবস্থিত। বালহাফের কারখানায় তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন করা হয়। সৌদি আরবের সরকার বা সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। অন্যদিকে, হুথিরা ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় পার্বত্য এলাকার তাইজ শহরটিকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে, যা হুথি-বিরোধী শক্তির সর্বশেষ বড় ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। হুথিরা বিশ্বের বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরবের ওপর হামলা জোরদার করেছে; তারা রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি ‘সৌদি আরামকো’কে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে। পরের বছর সৌদি আরবের নেতৃত্বে একটি সামরিক হস্তক্ষেপের ফলে পরিস্থিতি এক রক্তক্ষয়ী অচলাবস্থার দিকে মোড় নেয়। ইয়েমেন বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকটের সম্মুখীন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহইয়া সারী এই হামলার দায় স্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, তাদের লক্ষ্যবস্তুতে থাকা ওই প্রশিক্ষণ শিবিরটি সৌদি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ছিল। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের যাচাই করা একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, হামলার পর বিধ্বস্ত প্রশিক্ষণ মাঠের বিভিন্ন স্থানে হতাহতরা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছেন এবং সর্বত্র রক্তমাখা নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। শাবওয়ার গভর্নর আওয়াদ আল ওয়াজির নিশ্চিত করেছেন এ তথ্য।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সাল থেকে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ চলছে। সেই সময় হুথিরা রাজধানী সানা দখল করে নিলে বর্তমান সরকার দক্ষিণের দিকে সরে যেতে বাধ্য হয়। দীর্ঘ সংঘাতের পর ২০২২ সালে বিবদমান পক্ষগুলো একটি যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছিল, যা চলতি বছর পর্যন্ত কার্যকর ছিল। তবে এই বড় ধরনের প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় ইয়েমেনের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টিতে এই সংঘাত দীর্ঘকাল ধরে দেশটির জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে রেখেছে। ইয়েমেনের এই সংঘাত এখন ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বৃহত্তর লড়াইয়ের একটি নতুন ফ্রন্টে পরিণত হয়েছে।