ঢাকা ০২:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

ইয়েমেন যুদ্ধে পুনরায় সক্রিয় সংযুক্ত আরব আমিরাত

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৫৩:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬ ৩২ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইয়েমেন সংঘাতে আবারও সম্পৃক্ত হওয়ার বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। এই সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াইরত সরকারি বাহিনীকে পুনরায় অর্থায়নের প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের তথ্যানুযায়ী, হুতিবিরোধী বাহিনীকে বিমান সহায়তা প্রদানের বিষয়েও সৌদি আরবের সঙ্গে আমিরাত একমত হয়েছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তার স্বার্থে সৌদি ও আমিরাতের দীর্ঘদিনের মতপার্থক্য কমিয়ে সহযোগিতার সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠার ইঙ্গিত হিসেবেই এটিকে দেখছেন বিশ্লেষকরা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে ইয়েমেনের বিভিন্ন সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। দেশটির ভূমিকা হবে সৌদি আরবকে রক্ষা করা।

সৌদি আরব বর্তমানে নিয়মিত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে রয়েছে, যা তাদের বিমানবন্দর ও জ্বালানি অবকাঠামোর কার্যকারিতা ব্যাহত করছে। বিপরীতে, আমিরাত গত জানুয়ারিতে ইয়েমেন থেকে সব সামরিক সম্পদ প্রত্যাহার করে নেয় এবং আর্থিক সহায়তা বন্ধ করে দিয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এই অবস্থানের পরিবর্তন এসেছে। ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলের প্রভাবশালী ‘জায়ান্ট ব্রিগেড’-এর মতো বাহিনীগুলো, যারা হুতিবিরোধী লড়াইয়ে কার্যকর শক্তি, তারা অতীতে আমিরাতের কাছ থেকে অর্থায়ন ও প্রশিক্ষণ পেয়েছে। প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোর শাসকদের উদ্বেগের অন্যতম কারণ হুতিদের ক্রমবর্ধমান সামরিক অগ্রযাত্রা। এসব হামলায় দেশটির বিমানবন্দর ও জ্বালানি অবকাঠামোর কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে আমিরাতের কর্মকর্তারা উদ্বিগ্ন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইয়েমেনের ভবিষ্যৎ ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে এখনও জটিলতা রয়ে গেছে। দক্ষিণাঞ্চলীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীরা ১৯৬৭ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত বিদ্যমান সীমানা পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গণভোটের দাবি জানিয়ে আসছে। তবে এই গণভোটের বিষয়ে সৌদি আরব বা সংযুক্ত আরব আমিরাত এখনও কোনো সুনির্দিষ্ট অবস্থান পরিষ্কার করেনি। বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের (এসটিসি) বাহিনী এখন পর্যন্ত তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকার বাইরে যাওয়ার অনুমতি পায়নি। সৌদি আরব যদি গণভোটের প্রতি সমর্থন জানায়, তবেই হয়তো এই নিষেধাজ্ঞা শিথিল হতে পারে।

বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা আইদারুস আল-জুবাইদির সঙ্গে সৌদি কর্মকর্তাদের বর্তমানে সরাসরি কোনো যোগাযোগ নেই। এর আগে গত জানুয়ারিতে দক্ষিণ ইয়েমেনে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা ও গণভোটের ঘোষণার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে জুবাইদি আবুধাবিতে আশ্রয় নেন। সেই সময় সৌদি আরব এসটিসি বাহিনীর জন্য পাঠানো আমিরাতের অস্ত্রের একটি চালানে হামলা চালিয়েছিল এবং ইয়েমেনি সরকার জুবাইদির বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার মামলা দায়ের করেছিল। এই তিক্ত অভিজ্ঞতার পরেও আমিরাত এখন নতুন করে কৌশলগত পরিবর্তনের পথ বেছে নিয়েছে। গত জানুয়ারিতে দক্ষিণ ইয়েমেনের বিস্তীর্ণ এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং দুই বছরের মধ্যে স্বাধীনতার প্রশ্নে গণভোট আয়োজনের ঘোষণাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।

এডেনভিত্তিক আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকার গত সপ্তাহে সানার নিয়ন্ত্রণে থাকা হুতিদের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। তবে মারিবের কাছে মাজজার এবং বাব এল-মান্দেব প্রণালির আশপাশে এই অভিযানের সাফল্য এখন পর্যন্ত বেশ সীমিত। হুতিরা নানা ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও তাইজ ও মারিব শহর দখলের লক্ষ্য থেকে সরে আসেনি, যা আমিরাতের নীতিনির্ধারকদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।

এই সংঘাতের জেরে মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাতাহ আল-সিসি সৌদি আরবের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের লক্ষ্যে দেশটির সামরিক বাহিনীকে ক্ষমতা দেওয়ার জন্য পার্লামেন্টের জরুরি অধিবেশন ডেকেছেন। সিসি স্পষ্ট করেছেন যে, মিসর কোনো আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ নেবে না, বরং তাদের মূল লক্ষ্য হবে সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ইয়েমেন ঘিরে সৌদি আরব, আমিরাত ও মিসরের এই নতুন সমীকরণ আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ইয়েমেন যুদ্ধে পুনরায় সক্রিয় সংযুক্ত আরব আমিরাত

আপডেট সময় : ০৩:৫৩:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

ইয়েমেন সংঘাতে আবারও সম্পৃক্ত হওয়ার বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। এই সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াইরত সরকারি বাহিনীকে পুনরায় অর্থায়নের প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের তথ্যানুযায়ী, হুতিবিরোধী বাহিনীকে বিমান সহায়তা প্রদানের বিষয়েও সৌদি আরবের সঙ্গে আমিরাত একমত হয়েছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তার স্বার্থে সৌদি ও আমিরাতের দীর্ঘদিনের মতপার্থক্য কমিয়ে সহযোগিতার সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠার ইঙ্গিত হিসেবেই এটিকে দেখছেন বিশ্লেষকরা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে ইয়েমেনের বিভিন্ন সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। দেশটির ভূমিকা হবে সৌদি আরবকে রক্ষা করা।

সৌদি আরব বর্তমানে নিয়মিত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে রয়েছে, যা তাদের বিমানবন্দর ও জ্বালানি অবকাঠামোর কার্যকারিতা ব্যাহত করছে। বিপরীতে, আমিরাত গত জানুয়ারিতে ইয়েমেন থেকে সব সামরিক সম্পদ প্রত্যাহার করে নেয় এবং আর্থিক সহায়তা বন্ধ করে দিয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এই অবস্থানের পরিবর্তন এসেছে। ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলের প্রভাবশালী ‘জায়ান্ট ব্রিগেড’-এর মতো বাহিনীগুলো, যারা হুতিবিরোধী লড়াইয়ে কার্যকর শক্তি, তারা অতীতে আমিরাতের কাছ থেকে অর্থায়ন ও প্রশিক্ষণ পেয়েছে। প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোর শাসকদের উদ্বেগের অন্যতম কারণ হুতিদের ক্রমবর্ধমান সামরিক অগ্রযাত্রা। এসব হামলায় দেশটির বিমানবন্দর ও জ্বালানি অবকাঠামোর কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে আমিরাতের কর্মকর্তারা উদ্বিগ্ন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইয়েমেনের ভবিষ্যৎ ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে এখনও জটিলতা রয়ে গেছে। দক্ষিণাঞ্চলীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীরা ১৯৬৭ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত বিদ্যমান সীমানা পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গণভোটের দাবি জানিয়ে আসছে। তবে এই গণভোটের বিষয়ে সৌদি আরব বা সংযুক্ত আরব আমিরাত এখনও কোনো সুনির্দিষ্ট অবস্থান পরিষ্কার করেনি। বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের (এসটিসি) বাহিনী এখন পর্যন্ত তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকার বাইরে যাওয়ার অনুমতি পায়নি। সৌদি আরব যদি গণভোটের প্রতি সমর্থন জানায়, তবেই হয়তো এই নিষেধাজ্ঞা শিথিল হতে পারে।

বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা আইদারুস আল-জুবাইদির সঙ্গে সৌদি কর্মকর্তাদের বর্তমানে সরাসরি কোনো যোগাযোগ নেই। এর আগে গত জানুয়ারিতে দক্ষিণ ইয়েমেনে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা ও গণভোটের ঘোষণার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে জুবাইদি আবুধাবিতে আশ্রয় নেন। সেই সময় সৌদি আরব এসটিসি বাহিনীর জন্য পাঠানো আমিরাতের অস্ত্রের একটি চালানে হামলা চালিয়েছিল এবং ইয়েমেনি সরকার জুবাইদির বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার মামলা দায়ের করেছিল। এই তিক্ত অভিজ্ঞতার পরেও আমিরাত এখন নতুন করে কৌশলগত পরিবর্তনের পথ বেছে নিয়েছে। গত জানুয়ারিতে দক্ষিণ ইয়েমেনের বিস্তীর্ণ এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং দুই বছরের মধ্যে স্বাধীনতার প্রশ্নে গণভোট আয়োজনের ঘোষণাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।

এডেনভিত্তিক আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকার গত সপ্তাহে সানার নিয়ন্ত্রণে থাকা হুতিদের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। তবে মারিবের কাছে মাজজার এবং বাব এল-মান্দেব প্রণালির আশপাশে এই অভিযানের সাফল্য এখন পর্যন্ত বেশ সীমিত। হুতিরা নানা ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও তাইজ ও মারিব শহর দখলের লক্ষ্য থেকে সরে আসেনি, যা আমিরাতের নীতিনির্ধারকদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।

এই সংঘাতের জেরে মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাতাহ আল-সিসি সৌদি আরবের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের লক্ষ্যে দেশটির সামরিক বাহিনীকে ক্ষমতা দেওয়ার জন্য পার্লামেন্টের জরুরি অধিবেশন ডেকেছেন। সিসি স্পষ্ট করেছেন যে, মিসর কোনো আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ নেবে না, বরং তাদের মূল লক্ষ্য হবে সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ইয়েমেন ঘিরে সৌদি আরব, আমিরাত ও মিসরের এই নতুন সমীকরণ আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।