ওসিকে রুমিন ফারহানা: আপনি বিরাট আওয়ামী লীগ ছিলেন
- আপডেট সময় : ০৯:০৫:১২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ৩২ বার পড়া হয়েছে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের ভূঁইয়ার সঙ্গে বাদানুবাদে জড়িয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে থানায় উপস্থিত হয়ে তিনি ওসির বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষ গ্রহণের বিষয়ে জবাবদিহি চান। এ সময় তিনি ওসিকে উদ্দেশ্যে করে বলেন, ‘আপনি তো বিরাট আওয়ামী লীগ ছিলেন।’ এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এ জন্যই মানুষ যা দেখছেন, ওরা আমার নিরাপত্তা দিচ্ছে। যাই হোক, সেটা নিয়ে আমার কোনো মাথাব্যথা নেই। ওই ব্যক্তিকে রুমিন ফারহানা শিখিয়ে থানায় এনেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। কিছু লোককে শিখিয়ে নিয়ে আসেন আজেবাজে কথা বলার জন্য। আর আমরা পূজায় পুরো থানা এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছিলাম। উনি যেই ব্যবহার আমার সঙ্গে করেছেন, সেটা একজন নির্বাচিত এমপির সঙ্গে করা যায় না।’।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সদ্য সমাপ্ত শারদীয় দুর্গাপূজার সময় পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের কর্মসূচিতে রুমিন ফারহানার জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে বলা হলেও ওসি তা করেননি। মূলত এই নিরাপত্তার ঘাটতি এবং থানাকে ঘিরে ওঠা দুর্নীতির নানা অভিযোগ নিয়ে কথা বলতে তিনি বৃহস্পতিবার রাতে থানায় যান এবং রাত ৯টা পর্যন্ত ওসির কক্ষে অবস্থান করেন। দাঙ্গা হওয়ার পরে যখন সব শান্ত হয়, তখন ওনারা যান।
অবস্থানকালে রুমিন ফারহানার সঙ্গে থাকা এক ব্যক্তি অভিযোগ তোলেন, ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া তার কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন। তবে ঘুষ নেওয়ার এই অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে নাকচ করে দেন ওসি। অন্যদিকে রুমিন ফারহানা অভিযোগ করে বলেন, ওসি তাকে জানিয়েছেন তিনি নির্বাচিত সংসদ সদস্য, তাই তার নিরাপত্তার দায়িত্ব জনগণই দেবে। সংসদ সদস্য আরও দাবি করেন, এলাকাটি অত্যন্ত দাঙ্গাপ্রবণ হওয়ার পরও ওসির বিরুদ্ধে বিভিন্ন ইটভাটা থেকে অর্থ আদায় ও মাটি কাটার কাজ থেকে অনৈতিকভাবে টাকা নেওয়ার বিস্তর অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে সরাইল থানার ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, সংসদ সদস্য শত শত লোক সঙ্গে নিয়ে থানায় এসে এক ধরনের অস্থির পরিবেশ তৈরি করেন। রুমিন ফারহানার ইটভাটা থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি স্পষ্ট জানান, প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতার কারণে ব্যক্তিগতভাবে তৎকালীন সময়ে সংসদ সদস্যের জন্য পৃথক একটি পুলিশ টিম বরাদ্দ রাখা বেশ কঠিন ছিল। এ বিষয়গুলোই আমি আজকে জানতে এসেছিলাম।

























