ঢাকা ০২:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

ক্ষমতার বাহানায় বিএনপি সরকার আর সংস্কার করতে চায় না : আখতার হোসেন

Live News Bangla71
  • আপডেট সময় : ০৭:২৭:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬ ১৯৪ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ক্ষমতার বাহানায় বিএনপি সরকার আর সংস্কার করতে চায় না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন।

তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতাকে নিরঙ্কুশভাবে উপভোগ করতে চায়। কিন্তু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিত্বের ওপর যে দায়িত্ব অর্পিত হয়, সেটাকে ক্ষমতার দৃষ্টিতে দেখার যে মানসিকতা, সেখান থেকে তারা এখনো বের হতে পারেননি।

রোববার (৩ মে) সকালে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে এনসিপির সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির আয়োজিত জ্বালানি, অর্থনীতি সংস্কার ও গণভোট বিষয়ে জাতীয় কনভেনশনে তিনি এসব বলেন।

তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন ‘সংস্কারের বাহানায় যদি নির্বাচনটা হতে দেওয়া না হয়, সে কারণে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছেন।’ তারা বারবার নোট অব ডিসেন্টের কথা বলছেন। ঐকমত্য কমিশনে যখন আমরা আলাপ করেছিলাম, তখন নোট অব ডিসেন্টের অর্থ এই ছিল যে, আমরা মূল সিদ্ধান্তকে মেনে নিলাম, যার একটা ভিন্ন মত রয়েছে। তিনি সে ভিন্ন মতটা উল্লেখ করে রাখলেন। নোট অব ডিসেন্টটা এখানে মুখ্য বিষয় নয়। এখানে মূল যে সিদ্ধান্ত, রাজনৈতিক দলগুলো এবং ঐকমত্য কমিশন উপনীত হয়েছে সেটাই এখানে কার্যকর হবে।

আখতার হোসেন বলেন, গণভোট হয়ে যাওয়ার পরে বিএনপি কোন বিষয়ে রাজি বা কোন বিষয়ে নারাজি সেটার মুখ্য বিষয় হতে পারে না। সেই গণভোটের বিষয়গুলোর দিকে একটু তাকিয়ে দেখি। তারা বলছেন, যে চারটা কোশ্চেনের মধ্যে সাড়ে তিনটা কোশ্চেনে তাদের আপত্তি নাই। আধাটা কোশ্চেনে তাদের আপত্তি। আমরা আসলে ক্লিয়ার হতে চাই যে, গণভোটের কোন আধাটার বিষয়ে আপনাদের আপত্তি ছিল। কারণ গণভোটের প্রশ্নগুলোতে খুবই স্পষ্ট করে বলা ছিল যে, একটা উচ্চকক্ষ হবে ভোটের পিআর অনুযায়ী। তত্ত্বাবধয়ক সরকার হবে নতুন একটা ফর্মুলা অনুযায়ী, আর সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগ হবে একটা নিরপেক্ষ ভোটিংয়ের মধ্য দিয়ে, যে বিষয়গুলোতে আমরা সবাই একমত হয়েছিলাম।

তিনি আরও বলেন, ক্ষমতায় আসার আগে নির্বাচনের সময়টাতে আপনারা (বিএনপি) গণভোটে ‘হ্যাঁ’য়ের কথা বলেছিলেন। কারণ আপনারা জানতেন যে, তখন গণভোটে যদি আপনারা ‘না’য়ের পক্ষে অবস্থান নিতেন। জনগণও আপনাদের বিপক্ষে চলে যেত। সে জনগণ তো ভোটের পরে তারা নিষ্ক্রিয় হয়ে গেছে, ব্যাপারটা এমন না। শুধুমাত্র নির্বাচনের মধ্য দিয়েই বা পাঁচ বছর অপেক্ষা করেই তারপরে অনেক কিছু হবে, বিষয়টা তো এমনও না। বাংলাদেশের জনগণ তারা এই জিনিসগুলো দেখভাল করছে, তারা খেয়াল রাখছে এবং তারা সবাই প্রত্যাশা করছে।

বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে এনসিপির সদস্য সচিব বলেন, এখন আমরা শুধু এতটুকুই বলবো, সামনের দিনে আমরা দেখতে চাই, আপনারা আসলে কত ভালো আইন আপনারা নিয়ে আসেন। আমরা সেটা দেখার অপেক্ষায় থাকব। সেটা শুধু আমরা না, বাংলাদেশে আমজনতা সেটা দেখার অপেক্ষায় আছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ক্ষমতার বাহানায় বিএনপি সরকার আর সংস্কার করতে চায় না : আখতার হোসেন

আপডেট সময় : ০৭:২৭:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬

ক্ষমতার বাহানায় বিএনপি সরকার আর সংস্কার করতে চায় না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন।

তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতাকে নিরঙ্কুশভাবে উপভোগ করতে চায়। কিন্তু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিত্বের ওপর যে দায়িত্ব অর্পিত হয়, সেটাকে ক্ষমতার দৃষ্টিতে দেখার যে মানসিকতা, সেখান থেকে তারা এখনো বের হতে পারেননি।

রোববার (৩ মে) সকালে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে এনসিপির সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির আয়োজিত জ্বালানি, অর্থনীতি সংস্কার ও গণভোট বিষয়ে জাতীয় কনভেনশনে তিনি এসব বলেন।

তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন ‘সংস্কারের বাহানায় যদি নির্বাচনটা হতে দেওয়া না হয়, সে কারণে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছেন।’ তারা বারবার নোট অব ডিসেন্টের কথা বলছেন। ঐকমত্য কমিশনে যখন আমরা আলাপ করেছিলাম, তখন নোট অব ডিসেন্টের অর্থ এই ছিল যে, আমরা মূল সিদ্ধান্তকে মেনে নিলাম, যার একটা ভিন্ন মত রয়েছে। তিনি সে ভিন্ন মতটা উল্লেখ করে রাখলেন। নোট অব ডিসেন্টটা এখানে মুখ্য বিষয় নয়। এখানে মূল যে সিদ্ধান্ত, রাজনৈতিক দলগুলো এবং ঐকমত্য কমিশন উপনীত হয়েছে সেটাই এখানে কার্যকর হবে।

আখতার হোসেন বলেন, গণভোট হয়ে যাওয়ার পরে বিএনপি কোন বিষয়ে রাজি বা কোন বিষয়ে নারাজি সেটার মুখ্য বিষয় হতে পারে না। সেই গণভোটের বিষয়গুলোর দিকে একটু তাকিয়ে দেখি। তারা বলছেন, যে চারটা কোশ্চেনের মধ্যে সাড়ে তিনটা কোশ্চেনে তাদের আপত্তি নাই। আধাটা কোশ্চেনে তাদের আপত্তি। আমরা আসলে ক্লিয়ার হতে চাই যে, গণভোটের কোন আধাটার বিষয়ে আপনাদের আপত্তি ছিল। কারণ গণভোটের প্রশ্নগুলোতে খুবই স্পষ্ট করে বলা ছিল যে, একটা উচ্চকক্ষ হবে ভোটের পিআর অনুযায়ী। তত্ত্বাবধয়ক সরকার হবে নতুন একটা ফর্মুলা অনুযায়ী, আর সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগ হবে একটা নিরপেক্ষ ভোটিংয়ের মধ্য দিয়ে, যে বিষয়গুলোতে আমরা সবাই একমত হয়েছিলাম।

তিনি আরও বলেন, ক্ষমতায় আসার আগে নির্বাচনের সময়টাতে আপনারা (বিএনপি) গণভোটে ‘হ্যাঁ’য়ের কথা বলেছিলেন। কারণ আপনারা জানতেন যে, তখন গণভোটে যদি আপনারা ‘না’য়ের পক্ষে অবস্থান নিতেন। জনগণও আপনাদের বিপক্ষে চলে যেত। সে জনগণ তো ভোটের পরে তারা নিষ্ক্রিয় হয়ে গেছে, ব্যাপারটা এমন না। শুধুমাত্র নির্বাচনের মধ্য দিয়েই বা পাঁচ বছর অপেক্ষা করেই তারপরে অনেক কিছু হবে, বিষয়টা তো এমনও না। বাংলাদেশের জনগণ তারা এই জিনিসগুলো দেখভাল করছে, তারা খেয়াল রাখছে এবং তারা সবাই প্রত্যাশা করছে।

বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে এনসিপির সদস্য সচিব বলেন, এখন আমরা শুধু এতটুকুই বলবো, সামনের দিনে আমরা দেখতে চাই, আপনারা আসলে কত ভালো আইন আপনারা নিয়ে আসেন। আমরা সেটা দেখার অপেক্ষায় থাকব। সেটা শুধু আমরা না, বাংলাদেশে আমজনতা সেটা দেখার অপেক্ষায় আছে।