গাজায় ইসরায়েলি অপরাধের বিচারের দাবিতে সোচ্চার কাতারের আমির
- আপডেট সময় : ০৮:০০:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ২৪ বার পড়া হয়েছে
গাজায় ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর চালানো সামরিক অভিযানকে গণহত্যা হিসেবে অভিহিত করেছেন কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানি। মঙ্গলবার দোহায় শুরা কাউন্সিলের ৫৫তম বার্ষিক অধিবেশনের উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, গাজায় যা ঘটছে তা নিঃসন্দেহে গণহত্যা এবং এর সাথে জড়িতদের কোনোভাবেই জবাবদিহিতা থেকে রেহাই দেওয়া উচিত নয়। তিনি অঞ্চলটির নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে কাতার তার নিরলস প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে বলে অঙ্গীকার করেন। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজ্জায় চলমান দখলদার অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলি গণহত্যার জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন কাতারের আমীর শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানি। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দোহায় কাতারের শুরা কাউন্সিলের ৫৫তম বার্ষিক অধিবেশনের উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, “গাজ্জা উপত্যকায় যা ঘটেছে, তা নিঃসন্দেহে গণহত্যা। গাজ্জায় ইসরাইলের যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টায় কাতার মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই দীর্ঘ সামরিক আগ্রাসনে ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন অন্তত ১ লাখ ৭৫ হাজার মানুষ, যাদের একটি বড় অংশই নারী ও শিশু। এছাড়া গাজ্জার প্রায় ৯০ শতাংশ অবকাঠামো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। সংঘাতের ভয়াবহতার মধ্যেই ২০২৪ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) দক্ষিণ আফ্রিকার দায়ের করা গণহত্যার মামলার শুনানিতেও বিভিন্ন দেশ অংশ নিয়েছে।
গাজায় শান্তি ফেরাতে কাতার, মিসর ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল। তবে দুঃখজনকভাবে চুক্তি সত্ত্বেও সামরিক অভিযান পুরোপুরি থামেনি। যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় আরও ১ হাজার ৪৯৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং ৫ হাজার ২৯৯ জন আহত হয়েছেন। এই মামলায় কয়েকটি দেশও যোগ দিয়েছে।
বর্তমানে ২৪ লাখ ফিলিস্তিনির মধ্যে প্রায় ২১ লাখ ৫০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ইসরায়েল গাজায় প্রয়োজনীয় খাদ্য, ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী প্রবেশের পথে কঠোর বাধা সৃষ্টি করছে, যা মানবিক সংকটকে চরমে নিয়ে গেছে। কাতারের আমির পুনরায় এই সংকট সমাধানে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মহলের সক্রিয় ভূমিকার ওপর জোর দিয়েছেন, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত ফিলিস্তিনিদের অধিকার ও জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।
























