ঢাকা ০৩:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকার কর দাবি সংক্রান্ত নির্দেশ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৫১:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ৩৪ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পুনর্মূল্যায়নের পর পাঁচটি করবর্ষের বিপরীতে গ্রামীণ কল্যাণের কাছে দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা বকেয়া কর আদায়ের জন্য হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশনা স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। আজ রোববার চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক এই আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০১২-১৩ থেকে ২০১৬-১৭ পর্যন্ত পাঁচটি করবর্ষের বিপরীতে গ্রামীণ কল্যাণের কাছে এই বিশাল অংকের কর পাওনা রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। পুনর্মূল্যায়নের পর ২০১২-১৩, ২০১৩-১৪, ২০১৪-১৫, ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭—এসব করবর্ষের বিপরীতে প্রদেয় কর দাবি ঘিরে কর কমিশনারের সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে গ্রামীণ কল্যাণের করা পৃথক দুটি রিট খারিজ (রুল ডিসচার্জ) করে গত ১০ সেপ্টেম্বর রায় দেন হাইকোর্ট। যেহেতু তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন, সুতরাং রায়টি ডিফেকটিভ (ক্রটিপূর্ণ) হবে।

একই সঙ্গে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে গ্রামীণ কল্যাণের করা পৃথক দুটি লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) শুনানির জন্য আগামী ১৩ ডিসেম্বর দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত। আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। গ্রামীণ কল্যাণের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ছিলেন।

ঘটনার প্রেক্ষাপটে জানা যায়, সংশ্লিষ্ট কর কমিশনারের কর নির্ধারণের সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে গ্রামীণ কল্যাণ ২০১৭ সালে দুটি রিট আবেদন করেছিল।

এর আগে ১০ সেপ্টেম্বর বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রিট দুটি খারিজ করে রায় দেন। ১২ অক্টোবর সেই পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। এর মধ্যে ৩২ পৃষ্ঠার রায়ে যত দ্রুত সম্ভব বকেয়া কর আদায়ের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয় এবং ১৫ পৃষ্ঠার রায়ে নোটিশ জারির মাধ্যমে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়। দুটি রিটের একটিতে দেওয়া রায় ১৫ পৃষ্ঠার, অপরটি ৩২ পৃষ্ঠার। ৩২ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ের শেষাংশে আইন অনুযায়ী যত দ্রুত সম্ভব রিট আবেদনকারীর (গ্রামীণ কল্যাণ) কাছ থেকে বকেয়া কর আদায়ের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ঢাকার সংশ্লিষ্ট কর কমিশনারসহ বিবাদীদের প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়।

আইনি লড়াইয়ের এই পর্যায়গুলো বেশ দীর্ঘ। ২০১৭ সালে প্রথম রিট করার পর চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর হাইকোর্ট কর কমিশনারের আগের আদেশ বাতিল করেছিলেন এবং গ্রামীণ কল্যাণকে আইন অনুসারে ৬০ দিনের মধ্যে আপিল করার সুযোগ দিয়েছিলেন। সেই রায়ের বিরুদ্ধে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) লিভ টু আপিল করলে ২০২৪ সালের ১১ মার্চ আপিল বিভাগ তা নিষ্পত্তি করে নতুন করে হাইকোর্টে পুনঃ শুনানির নির্দেশ দেন।

পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ রুল খারিজ করে রায় দিলেও ২৯ আগস্ট তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, ওই বেঞ্চের দ্বিতীয় বিচারক অতীতে কোনো এক পর্যায়ে সরকারপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে এসব মামলায় যুক্ত ছিলেন, যা রায়কে ত্রুটিপূর্ণ করে তোলে। পরবর্তীতে প্রধান বিচারপতির আদেশে মামলা দুটি বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে পাঠানো হয়, যারা রুল খারিজ করে রায় দিয়েছিলেন।

বর্তমানে চেম্বার আদালতের আদেশের ফলে গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে এই বকেয়া অর্থ আদায়ে কোনো আইনি পদক্ষেপ আপাতত নেওয়া যাবে না। শুনানিতে গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ফিদা এম কামাল, আবদুল্লাহ আল মামুন ও সরদার জিন্নাত আলী উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মেহেদি হাসান। তিনি জানান, রায়ের নির্দেশনা অংশটুকু আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে, যার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানি শেষে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকার কর দাবি সংক্রান্ত নির্দেশ

আপডেট সময় : ০৫:৫১:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

পুনর্মূল্যায়নের পর পাঁচটি করবর্ষের বিপরীতে গ্রামীণ কল্যাণের কাছে দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা বকেয়া কর আদায়ের জন্য হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশনা স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। আজ রোববার চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক এই আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০১২-১৩ থেকে ২০১৬-১৭ পর্যন্ত পাঁচটি করবর্ষের বিপরীতে গ্রামীণ কল্যাণের কাছে এই বিশাল অংকের কর পাওনা রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। পুনর্মূল্যায়নের পর ২০১২-১৩, ২০১৩-১৪, ২০১৪-১৫, ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭—এসব করবর্ষের বিপরীতে প্রদেয় কর দাবি ঘিরে কর কমিশনারের সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে গ্রামীণ কল্যাণের করা পৃথক দুটি রিট খারিজ (রুল ডিসচার্জ) করে গত ১০ সেপ্টেম্বর রায় দেন হাইকোর্ট। যেহেতু তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন, সুতরাং রায়টি ডিফেকটিভ (ক্রটিপূর্ণ) হবে।

একই সঙ্গে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে গ্রামীণ কল্যাণের করা পৃথক দুটি লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) শুনানির জন্য আগামী ১৩ ডিসেম্বর দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত। আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। গ্রামীণ কল্যাণের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ছিলেন।

ঘটনার প্রেক্ষাপটে জানা যায়, সংশ্লিষ্ট কর কমিশনারের কর নির্ধারণের সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে গ্রামীণ কল্যাণ ২০১৭ সালে দুটি রিট আবেদন করেছিল।

এর আগে ১০ সেপ্টেম্বর বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রিট দুটি খারিজ করে রায় দেন। ১২ অক্টোবর সেই পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। এর মধ্যে ৩২ পৃষ্ঠার রায়ে যত দ্রুত সম্ভব বকেয়া কর আদায়ের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয় এবং ১৫ পৃষ্ঠার রায়ে নোটিশ জারির মাধ্যমে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়। দুটি রিটের একটিতে দেওয়া রায় ১৫ পৃষ্ঠার, অপরটি ৩২ পৃষ্ঠার। ৩২ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ের শেষাংশে আইন অনুযায়ী যত দ্রুত সম্ভব রিট আবেদনকারীর (গ্রামীণ কল্যাণ) কাছ থেকে বকেয়া কর আদায়ের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ঢাকার সংশ্লিষ্ট কর কমিশনারসহ বিবাদীদের প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়।

আইনি লড়াইয়ের এই পর্যায়গুলো বেশ দীর্ঘ। ২০১৭ সালে প্রথম রিট করার পর চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর হাইকোর্ট কর কমিশনারের আগের আদেশ বাতিল করেছিলেন এবং গ্রামীণ কল্যাণকে আইন অনুসারে ৬০ দিনের মধ্যে আপিল করার সুযোগ দিয়েছিলেন। সেই রায়ের বিরুদ্ধে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) লিভ টু আপিল করলে ২০২৪ সালের ১১ মার্চ আপিল বিভাগ তা নিষ্পত্তি করে নতুন করে হাইকোর্টে পুনঃ শুনানির নির্দেশ দেন।

পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ রুল খারিজ করে রায় দিলেও ২৯ আগস্ট তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, ওই বেঞ্চের দ্বিতীয় বিচারক অতীতে কোনো এক পর্যায়ে সরকারপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে এসব মামলায় যুক্ত ছিলেন, যা রায়কে ত্রুটিপূর্ণ করে তোলে। পরবর্তীতে প্রধান বিচারপতির আদেশে মামলা দুটি বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে পাঠানো হয়, যারা রুল খারিজ করে রায় দিয়েছিলেন।

বর্তমানে চেম্বার আদালতের আদেশের ফলে গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে এই বকেয়া অর্থ আদায়ে কোনো আইনি পদক্ষেপ আপাতত নেওয়া যাবে না। শুনানিতে গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ফিদা এম কামাল, আবদুল্লাহ আল মামুন ও সরদার জিন্নাত আলী উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মেহেদি হাসান। তিনি জানান, রায়ের নির্দেশনা অংশটুকু আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে, যার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানি শেষে।