দিল্লিতে তেরঙ্গা কর্মসূচির আগে অভিজিৎ দীপকে আটক
- আপডেট সময় : ০১:২৫:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬ ৩৬ বার পড়া হয়েছে
দিল্লির রাজপথে ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার প্রাক্কালে তেলাপোকা জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেকে শুক্রবার নিজ বাড়ি থেকে হেফাজতে নিয়েছে দিল্লি পুলিশ। এক সপ্তাহের ব্যবধানে তাকে দ্বিতীয়বারের মতো আটক করা হলো। মিছিল শুরুর মাত্র কয়েক মিনিট আগে চালানো এই পুলিশি পদক্ষেপের পর দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এমন যেকোনো পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার মতো বিকল্প ‘প্ল্যান বি’ তাদের তৈরি রয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ডাকা এক সংবাদ সম্মেলনে দীপকে আগেই আশঙ্কা প্রকাশ করে জানিয়েছিলেন যে তাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে এবং তিনি কারাবরণের জন্যও পুরোপুরি প্রস্তুত। গত শনিবারও তিনি মুম্বাই থেকে বিমানে রাজধানীতে পৌঁছানোর পরপরই বিমান থেকেই আটক হয়েছিলেন। একই দিনে মানডি হাউস এলাকায় বিক্ষোভ প্রদর্শনকালে সারা ভারত ছাত্র ফেডারেশন (আইসা) নেত্রী নেহা বোরাসহ আরও অনেক আন্দোলনকারীকে আটক করে পুলিশ। মূলত ভোটার তালিকার এসআইআর প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের গরমিলের অভিযোগ তুলে ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সিজেপি এবং বিরোধী ছাত্র-যুবরা এই প্রতিবাদ কর্মসূচি চালিয়ে আসছে। এক সপ্তাহের মধ্যে এটি দীপকের দ্বিতীয়বার আটক হওয়ার ঘটনা।
শুক্রবার দুপুরের দিকে অভিজিৎ দীপকের বাড়িতে হাজির হয়ে দিল্লি পুলিশের একটি দল তাকে প্রস্তাবিত ‘তিরঙ্গা যাত্রা’ বের না করতে নির্দেশ দেয়। ওই সময়ের একটি ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, কাঁধে একটি ছোট জাতীয় পতাকা জড়িয়ে সোফায় বসা দীপকে উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কারণ জানতে চান। তাকে দেওয়া আইনি নোটিশে উল্লেখ ছিল যে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাধারণ মানুষকে উসকানি দেওয়ার মাধ্যমে বেআইনি কার্যকলাপ চালিয়েছেন। নোটিশটি পড়ে শুনিয়ে দীপকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আপনারা এসব কী মশকরা শুরু করেছেন? একে কি নোটিশ বলে? যা মনে আসছে, তাই লিখে দিচ্ছেন!” একপর্যায়ে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে পুলিশকে বলেন, “বরং আমাকে ফাঁসিই দিয়ে দিন না।” তিনি কোনো সহিংসতায় উসকানি দিয়েছেন এমন একটি ভিডিও প্রমাণ দেখানোর জন্য পুলিশ সদস্যদের প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ ছোড়েন, যখন পুলিশ সদস্যরা ঘরের ভেতরের দৃশ্য ভিডিও করছিলেন।
পুলিশের পক্ষ থেকে অবশ্য স্পষ্ট করে বলা হয় যে দেশের তেরঙা জাতীয় পতাকা বহন করা বেআইনি নয়, তবে পূর্বানুমোদন ছাড়া জনসমাগম ঘটানো কিংবা মিছিল বের করা প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞার লঙ্ঘন এবং এর দায়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে তাকে ‘ফ্ল্যাগ কোড’ বা জাতীয় পতাকা বিধি অনুযায়ী পতাকার যথাযথ মর্যাদা বজায় রাখার সরকারি নির্দেশনাও মনে করিয়ে দেওয়া হয়। সিজেপির ডাকা আন্দোলন পণ্ড করতে আগেই কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্ক পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করেছে প্রশাসন। আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করার স্বার্থে পুলিশ যন্তর মন্তরের পথে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা কনট প্লেস ও তার আশপাশে ‘ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা’-র ১৬৩ ধারা প্রয়োগ করে ১১ জনের বেশি মানুষের জমায়েতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
বিরোধী রাজনৈতিক শিবির থেকে দাবি করা হয়েছে, রাজধানীর বুকে বড় ধরনের নাগরিক প্রতিবাদ রুখতেই কেন্দ্রীয় পার্কটিতে সাধারণ মানুষের প্রবেশের ওপর দুই দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এর আগে যন্তর মন্তরে জাতীয় পতাকা ওড়ানোর দায়ে সিজেপির দুই নেতাকে পাঁচ দিনের জন্য তিহাড় জেলে পাঠানো হয়েছিল। এর তীব্র প্রতিবাদ জানাতে শুক্রবার বিকেল ৫টায় সেন্ট্রাল পার্কে সমবেত হয়ে জাতীয় পতাকা ওড়ানোর ডাক দেয় তেলাপোকা জনতা পার্টি, আম আদমি পার্টি এবং বিভিন্ন বামপন্থী যুব ও ছাত্র সংগঠন, যে কর্মসূচিতে কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও সমর্থন জানানো হয়েছিল। কিন্তু এই জমায়েত বানচাল করতে নিউ দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিল (এনডিএমসি) এক নোটিশে জানিয়ে দেয় যে প্রশাসনিক কারণে ১৬ ও ১৭ অক্টোবর কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্ক সাধারণের জন্য বন্ধ রাখা হবে এবং পুলিশকে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত কর্মসূচিকে ঘিরে কোনো ধরণের বিশৃঙ্খলা এড়াতে পুরো দিল্লিতে ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। শান্তি বজায় রাখতে ৬ হাজারের বেশি দিল্লি পুলিশ সদস্য এবং সেন্ট্রাল আর্মড পুলিশ ফোর্সের (সিএপিএফ) ২২০টি কোম্পানি মোতায়েন করার পাশাপাশি সিসিটিভি নজরদারি বাড়ানো হয়। নিজ বাড়ি থেকে আটকের আগে দীপকে অভিযোগ করেছিলেন, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার সদস্যরা তার গতিবিধির ওপর নজর রাখছেন। অপরদিকে, উৎসবের এই মরশুমে বাণিজ্যের ক্ষতির যুক্তি দেখিয়ে ব্যবসায়ীরা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেও শীর্ষ আদালত সিজেপির এই বিক্ষোভ বন্ধে কোনো জরুরি আদেশ দিতে অস্বীকার করে। শুনানিতে বিচারকদের বেঞ্চ মন্তব্য করে, “আমরা আশা করি শুভবুদ্ধির উদয় হবে।” একই সাথে আদালত বিক্ষোভকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলে যেন তাদের আন্দোলনের কারণে সাধারণ নাগরিকদের চলাফেরায় কোনো ব্যাঘাত না ঘটে। পিটিআই জানিয়েছে, বিকেলে ৫টার মিছিল শুরুর আগেই কনট প্লেস, রাজীব চক, পালিকা বাজার, যন্তর মন্তর, সংলগ্ন মেট্রো স্টেশন ও লুটিয়েন্স দিল্লির সব গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অন্যান্য জেলা থেকেও অতিরিক্ত পুলিশ এনে নিরাপত্তাব্যবস্থা কঠোর করা হয়। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে ৬,০০০-এরও বেশি দিল্লি পুলিশ কর্মী, সেন্ট্রাল আর্মড পুলিশ ফোর্সের (সিএপিএফ) ২২০টি কোম্পানি এবং একটি বর্ধিত সিসিটিভি নেটওয়ার্ক মোতায়েন করা হয়েছে।
























