প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ নিয়ে ধোঁয়াশা: মুখ খুললেন ইশরাক
- আপডেট সময় : ০৮:৩৭:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬ ৩৩ বার পড়া হয়েছে
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন—এমন খবরকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে তীব্র ধোঁয়াশা। রোববার বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী তাকে ডেকে নিয়ে এই নির্দেশনা দিয়েছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তবে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে পদত্যাগের নির্দেশের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট মহল থেকেও এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করা হয়নি। সংশ্লিষ্টরা এ ব্যাপারে রয়েছেন নীরব। রোববার রাতে একাধিক পত্রিকার অনলাইনে রিপোর্ট প্রচারিত হয়। যে বা যারা এই তথ্য দিয়েছে তারা উড়ো খবর দিয়েছে। সবাইকে অনুরোধ জানাবো— এই বিষয়ে আপনারা সতর্ক থাকবেন। আমরা সংশ্লিষ্ট সকল গণমাধ্যম ও দেশবাসীকে এই ধরনের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।
ঘটনার সূত্রপাত শনিবারের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে। এদিন নিজ সংসদীয় এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নিয়ে ইশরাক অস্ত্র প্রদর্শন করেন, যা নিয়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। এরপরই তার পদত্যাগের খবরটি সামনে আসে। তবে এই খবরটিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও গুজব হিসেবে উড়িয়ে দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। রোববার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক অডিও বার্তায় তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দেন, পদত্যাগের নির্দেশ পাওয়ার বিষয়টি সঠিক নয় এবং এর কোনো ভিত্তি নেই। এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো থেকে বিরত থাকার জন্য তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান। একই সাথে, যে সকল মাধ্যম এই বিভ্রান্তিকর খবর প্রকাশ করেছে, তাদেরকে অবিলম্বে তা প্রত্যাহার করে সঠিক তথ্য তুলে ধরার আহ্বান জানাচ্ছি।
প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত অবস্থানের পাশাপাশি তার প্রেস কর্মকর্তা মাহফুজ কবির মুক্তাও বিষয়টি নিয়ে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রতিবাদলিপিতে তিনি বলেন, ইশরাকের পদত্যাগ সংক্রান্ত সংবাদটি সম্পূর্ণ অসত্য, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতে এবং জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াতে একটি মহল কাল্পনিক তথ্য ছড়াচ্ছে। ইশরাক তার ওপর অর্পিত সরকারি দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে যাচ্ছেন বলেও প্রেস কর্মকর্তা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, শনিবারের অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনাটি ছিল কেবল আত্মরক্ষার্থে আইনসম্মত পদক্ষেপ, যার ব্যাখ্যা আগেই দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে অপপ্রচার চালালে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে প্রতিবাদলিপিতে। প্রকৃত সত্য হলো, প্রতিমন্ত্রী তার সরকারি ও রাজনৈতিক দায়িত্ব অত্যন্ত নিষ্ঠা ও সুনামের সাথে পালন করে যাচ্ছেন। অন্যথায়, অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সবশেষে গভীর রাতে ইশরাক নিজের ফেসবুক পেজে এক পোস্টে বিষয়টি নিয়ে তার অবস্থান পুনরায় ব্যাখ্যা করেন। তিনি লেখেন, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে কোনো সদস্যের প্রতি পদত্যাগ বা যেকোনো নির্দেশ আসা মাত্রই তা প্রথাগতভাবে বাধ্যতামূলক বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হয়ে যায়। তিনি স্পষ্ট করেন যে, এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত গৃহীত হলে তা তৃতীয় কোনো পক্ষের মাধ্যমে জানার প্রয়োজন পড়বে না। নিজের ক্ষেত্রে এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তিনি দ্রুততম সময়ের মধ্যে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দেশবাসীকে বিস্তারিত অবহিত করবেন বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।

























