প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়লেন ইশরাক হোসেন
- আপডেট সময় : ০৪:৫৫:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬ ৩৬ বার পড়া হয়েছে
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নিয়েছেন ইশরাক হোসেন। সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন এবং প্রধানমন্ত্রী তাকে এলাকার মাদক নির্মূল ও জনজীবনের অন্যান্য সমস্যা নিয়ে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন। আমি উনাকে বলেছি পুরো সময়টাতে ঢাকা-৬ আসন, পার্শ্ববর্তী এলাকা, পরবর্তীতে আরও যদি এলাকা থাকে সেখানকার মাদক নির্মূল এবং আমাদের জাতীয় জনজীবনের অন্যান্য সমস্যা নিয়ে কাজ করতে চাই। তিনি বলেছেন, ঠিক আছে যাও, এলাকা ঠিক কর, এলাকায় কাজ কর।’।
সম্প্রতি রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে ইশরাক হোসেনের অংশগ্রহণের বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এ ঘটনার প্রেক্ষিতেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। এ বিষয়ে ইশরাক হোসেন বলেন, জননিরাপত্তার স্বার্থে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের অভয় দিতে সেদিন তিনি অস্ত্রটি হাতে রেখেছিলেন। অভিযানে কোনো ভুল বা কারো প্রতি অন্যায় হয়ে থাকলে তার জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, শুরু থেকেই তার লক্ষ্য ছিল মাদক কারবারিদের আইনের আওতায় আনা এবং পুলিশ ও আদালতের মাধ্যমে তাদের শাস্তি নিশ্চিত করা। ‘কিন্তু আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমি কোনো ভুল সেদিন করিনি। আমি কেবল আমার নিরাপত্তার জন্য আমার হাতে অস্ত্রটা যতটুকু সময় প্রয়োজন ততটুকু রেখেছিলাম, পরবর্তীকালে সেটি আর দৃশ্যমান হয়নি’—বলেন তিনি। ইশরাক হোসেন বলেন, ‘শুরু থেকেই আমাদের উদ্দেশ্য ছিল একটাই যে আমরা তাদেরকে আইনের হাতে তুলে দেবো, পুলিশের হাতে সোপর্দ করব, কোর্টের মাধ্যমে তাদেরকে শাস্তির মুখোমুখি করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক আরো অভিযোগ করেন যে, পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংস করতে বিদেশি আধিপত্যবাদী শক্তি ড্রোন ব্যবহার করে সীমান্তে মাদকের চালান পাঠাচ্ছে। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সময় থেকেই তিনি এই মাদক সমস্যার বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন বলে উল্লেখ করেন। স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘ সময় ধরে ভয়ে মুখ খুলতে পারছিলেন না, কারণ মাদক কারবারিদের অস্ত্র ও অর্থের জোর ছিল প্রবল। তাদের কিছুটা সাহস দিতেই তিনি অভিযানে নেমেছিলেন বলে জানান। স্থানীয় বাসিন্দারা ভয়ে মুখ খোলে না বহু বছর, যারা ওখানে বাস করেন। কারণ এদের কাছে অস্ত্র রয়েছে, অর্থ রয়েছে এবং তারা যেকোনো কিছু করতে পারেন, সে কারণে এখানকার স্থানীয় বাসিন্দারাও মুখ খোলেন না।
উল্লেখ্য, সোমবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে পদত্যাগের বিষয়টি ঘোষণা করেছিলেন ইশরাক হোসেন। নির্ধারিত সময়ের কিছু আগেই সংবাদ সম্মেলনস্থলে উপস্থিত হয়ে তিনি কয়েক শ নেতা-কর্মীর উপস্থিতিতে নিজের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।

























