বদর প্রতিরক্ষা চুক্তি: মুসলিম বিশ্বে নতুন শক্তির উত্থান
- আপডেট সময় : ০৯:৩৮:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ২০ বার পড়া হয়েছে
মধ্যপ্রাচ্য ও বৈশ্বিক রাজনীতিতে সৌদি আরবকে বাদ দিয়ে তুরস্ক, কাতার, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার সমন্বয়ে গঠিত ‘বদর প্রতিরক্ষা চুক্তি’ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতা, আধুনিক প্রযুক্তির আদান-প্রদান এবং প্রচলিত রাজতান্ত্রিক বলয় থেকে বেরিয়ে এসে নিজেদের মতো করে একটি নতুন কৌশলগত ভারসাম্য তৈরির লক্ষ্যে দেশগুলো একত্রিত হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন থিংকট্যাংক ও আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থার বিশ্লেষকদের মতে, রিয়াদ যখন ওয়াশিংটনের সাথে নিজেদের নিরাপত্তা চুক্তি ও সম্পর্কের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে ব্যস্ত, তখন উদীয়মান এই চার দেশ নিজেদের সার্বভৌম নিরাপত্তা বলয় তৈরিতে বিকল্প পথ বেছে নিয়েছে। এই চুক্তির মূল কথা হলো—নিজেদের পায়ে দাঁড়ানো।’।
লন্ডনভিত্তিক রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের (রুসি) মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক গবেষক মাইকেল স্টিফেনস মনে করেন, ঐতিহাসিকভাবে মুসলিম বিশ্বের নিরাপত্তা কাঠামো সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর অর্থনৈতিক ক্ষমতা এবং মার্কিন সামরিক সহায়তার ওপর ভিত্তি করে টিকে ছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে তুরস্ক ও পাকিস্তান নিজেদের সামরিক শক্তির ওপর ভরসা করে স্বাধীনভাবে কাজ করতে চায়। কাতার ও ইন্দোনেশিয়ার অংশগ্রহণ বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, তারা আর একক আঞ্চলিক শক্তির নিয়ন্ত্রণে থাকতে আগ্রহী নয়।
তুরস্কের সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড সোশ্যাল রিসার্চের প্রধান ড. এরদোগান কারাকুশ জানান, এই জোট কোনো দেশের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের জন্য নয়, বরং প্রতিরক্ষা শিল্পে যৌথ উৎপাদন এবং কৌশলগত সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য তৈরি। সৌদি আরব যেখানে পশ্চিমা ব্লকের দিকে ঝুঁকছে, সেখানে আঙ্কারা ও ইসলামাবাদ নিজস্ব ড্রোন প্রযুক্তি ও সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে।
আটলান্টিক কাউন্সিলের বিশ্লেষক ড. সিনা আজিজি মন্তব্য করেন, সৌদি আরবকে এই জোটে না রাখার পেছনে আঞ্চলিক ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও পররাষ্ট্রনীতির পার্থক্য কাজ করেছে।
দোহা এখন নিজেদের নিরাপত্তার জন্য কেবল উপসাগরীয় মিত্রদের ওপর নির্ভর করে থাকতে চায় না। এছাড়া পাকিস্তানের সাবেক লেফটেন্যান্ট জেনারেল ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক তালাত মাসুদ মনে করেন, তুরস্কের আধুনিক প্রযুক্তি, পাকিস্তানের পারমাণবিক অভিজ্ঞতা এবং কাতার ও ইন্দোনেশিয়ার কৌশলগত শক্তি মিলে যে কোনো আঞ্চলিক চাপ মোকাবিলার উপযোগী এক শক্তিশালী বলয় গড়ে তুলবে।
বিশ্লেষকদের মতে, বদর চুক্তি কেবল একটি সামরিক সমঝোতা নয়, বরং এটি বৈশ্বিক বহুমাত্রিক ক্ষমতার যুগে একটি নতুন ভূকৌশলগত ভারসাম্য তৈরি করবে। এটি মুসলিম বিশ্বের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের একক প্রভাবকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে। এর পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌচলাচল নিশ্চিত করা এবং গাজায় যুদ্ধবিরতির মতো বিষয়গুলো নিয়েও এই দেশগুলোর সক্রিয় অবস্থানের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
























