ঢাকা ০১:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির মূল দলিল প্রকাশ্যে আনল তুরস্ক

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:১৬:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬ ২৯ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে সই হওয়া ঐতিহাসিক ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’র মূল অনুলিপি পার্লামেন্টে জমা দিয়েছে আঙ্কারা। গত আগস্ট মাসে এই তিন দেশের স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে একটি নতুন সামরিক ও নিরাপত্তা জোটের আত্মপ্রকাশ ঘটে। লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই সূত্রে আঙ্কারার এই পদক্ষেপের বিষয়টি সামনে এসেছে। ১৬টি অনুচ্ছেদসংবলিত এই চুক্তির নির্দিষ্ট কোনো মেয়াদ নেই, ফলে এটি অনির্দিষ্টকালের জন্য কার্যকর থাকবে। তুরস্কের সরকার গতকাল মঙ্গলবার মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির মূল পাঠটি দেশটির পার্লামেন্ট পেশ করে। সচিবালয় পরিচালন সংক্রান্ত নিয়ম, কাঠামো ও মূল নীতিগুলো পরে প্রধান দেশগুলোর সর্বসম্মতিতে ঠিক করা হবে। মক্কা চুক্তি: নয়া আঞ্চলিক নিরাপত্তার সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ। এই চুক্তির ব্যাখ্যা বা বাস্তবায়ন নিয়ে কোনো বিরোধ দেখা দিলে তা দেশগুলোর মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করা হবে।

চুক্তির মূল দলিলে সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা অঞ্চলকে একক শত্রু হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি।

তবে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর নিরাপত্তা রক্ষায় ন্যাটোর অনুচ্ছেদ ৫-এর আদলে বেশ কিছু কঠোর সামরিক অঙ্গীকার যুক্ত করা হয়েছে। অনেকটা ন্যাটোর অনুচ্ছেদ ৫ এর মতো।

২ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, জোটের অন্তর্ভুক্ত কোনো দেশের ওপর বাইরের দেশ বা শক্তি সশস্ত্র আক্রমণ কিংবা সামরিক আগ্রাসন চালালে, তা সব সদস্য দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য হবে।

এমন পরিস্থিতিতে আক্রান্ত দেশকে রক্ষায় অন্য সদস্য রাষ্ট্রগুলো তাৎক্ষণিকভাবে সামরিক সক্ষমতা ও অন্যান্য সুবিধাসহ সর্বাত্মক সহায়তা দিতে বাধ্য থাকবে।

তবে জাতিসংঘের সনদ অনুযায়ী আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগের আগে নিরপেক্ষ মূল্যায়নের মাধ্যমে সহায়তার ধরণ নির্ধারণ করা হবে। এই উদ্দেশ্যে, জাতিসংঘ সনদের ৫১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আত্মরক্ষার অধিকার বাস্তবায়নের জন্য সাহায্য চাওয়ার পর একটি নিরপেক্ষ মূল্যায়নের মাধ্যমে সহায়তার পরিধি ও ধরণ নির্ধারণ করা হবে। ‘পক্ষগুলো’ তাদের সামরিক সক্ষমতা ও অন্যান্য সম্প।

নিরাপত্তা হুমকির ক্ষেত্রে প্রথম অনুচ্ছেদে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, কোনো সদস্য দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব বা আন্তর্জাতিক সীমানা ঝুঁকিতে পড়লে সম্মিলিত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সামরিক সহযোগিতার পাশাপাশি প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশ, সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়ন, যৌথ মহড়া ও প্রযুক্তি বিনিময়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে এই চুক্তিতে। এর মাধ্যমে একটি নতুন আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা জোট তৈরি হয়, যা স্বাক্ষরকারী দেশগুলোকে একে অপরের সুরক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ করে। চুক্তির প্রথম অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘যদি কোনো ‘পক্ষের’ আঞ্চলিক অখণ্ডতা, সার্বভৌমত্ব বা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমানা হুমকি বা বিপদের মুখে পড়ে, তবে ‘পক্ষগুলো’ সেই হুমকি বা বিপদ দূর করতে প্রয়োজনীয় সব পথ অবলম্বন করবে। একে অপরের সার্বভৌমত্বের প্রতি পারস্পরিক সম্মান, জাতিসংঘ সনদের নীতিসমূহ, আন্তর্জাতিক আইন এবং নিজ নিজ দেশের বিদ্যমান আইনের মূল নীতিগুলোকে বিবেচনায় রেখে; এবং প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব সম্পর্কিত বিদ্যমান সহযোগিতা, সমন্বয় ও সংহতকরণ ব্যবস্থাকে একটি যৌথ প্রতিরক্ষা। যৌথ স্বার্থের ওপর ভিত্তি করে ‘পক্ষগুলোর’ নিজেদের মধ্যে সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার ইচ্ছা পুনর্ব্যক্ত করে, যা তাদের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যকার পারস্পরিক কাজের সক্ষমতা, প্রস্তুতি ও কার্যকারিতা বৃদ্ধি করবে এবং এর মাধ্যমে ‘পক্ষগুলো’ ও তাদের জনগণের মধ্যে বিদ্যমান।

রাজনৈতিক ও সামরিক পরিচালনা কাঠামো

চুক্তি কার্যকর ও বাস্তবায়নে একটি উচ্চপর্যায়ের ‘কৌশলগত political ও প্রতিরক্ষা কমিটি’ গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। এই কমিটির কার্যপ্রণালী নিচে দেওয়া হলো এই কমিটির বৈঠক বছরে দুবার অনুষ্ঠিত হবে এবং দেশগুলো পর্যায়ক্রমে আয়োজক হবে।

  1. কৌশলগত দিকনির্দেশনা ও সামরিক বাধা দূর করতে এই কমিটি কাজ করবে, যেখানে তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সেনাপ্রধানরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।
  2. প্রয়োজন মনে করলে নীতিগত সিদ্ধান্তের সুবিধার্থে কমিটি প্রয়োজনীয় সাব-কমিটি গঠন করতে পারবে।
  3. চুক্তির ধারা বাস্তবায়নে সদস্য দেশগুলো নিজেদের মধ্যে আলাদা দ্বিপক্ষীয় বা ত্রিপক্ষীয় প্রোটোকল সই করতে পারবে।
  4. নতুন কোনো দেশকে জোটে যুক্ত করার নিয়ম বা নীতি নির্ধারণের একচ্ছত্র ক্ষমতা সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এই কমিটির হাতে থাকবে।
  5. চুক্তির প্রশাসনিক ও নিয়মিত কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য সৌদি আরবে একটি স্থায়ী সচিবালয় স্থাপন করা হবে।
  6. তিন বছরের মেয়াদে পর্যায়ক্রমে সদস্য দেশগুলো থেকে সচিবালয়ের মহাসচিব মনোনীত হবেন, যার মধ্যে প্রথম মহাসচিব হবেন পাকিস্তানের একজন প্রতিনিধি।
  7. এই নতুন কাঠামো বিদ্যমান অন্যান্য সামরিক ও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা কমিটির কার্যক্রমে কোনো বাধা তৈরি করবে না।

তথ্য ও গোপনীয়তা সুরক্ষার শর্তাবলী

সামরিক ও গোয়েন্দা তথ্যের নিরাপত্তায় চুক্তিতে বিশেষ গোপনীয়তার শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। আইনগত বাধ্যবাধকতাগুলো নিচে উল্লেখ করা হলো

  1. চুক্তির আওতায় আদান-প্রদান করা সমস্ত সামরিক ও প্রশাসনিক নথি এবং তথ্য জাতীয় আইন মেনে চরম গোপনীয়তায় রক্ষা করতে হবে।
  2. যেকোনো গোপন নথি বা তথ্য চুক্তির বাইরের কোনো তৃতীয় রাষ্ট্র, বেসরকারি কোম্পানি বা ব্যক্তির কাছে প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
  3. কেবলমাত্র উপযুক্ত নিরাপত্তা ছাড়পত্রপ্রাপ্ত এবং দাপ্তরিক প্রয়োজনে যাদের জানা জরুরি (নিড-টু-নো), তারাই এই গোপন তথ্য দেখার অনুমোদন পাবেন।

প্রতিরক্ষা শিল্প ও প্রযুক্তি বিনিময়

সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি তিন দেশ যৌথভাবে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে সম্মত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে

  • প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি যৌথভাবে উৎপাদন করার উদ্যোগকে উৎসাহিত করা।
  • বিশেষ প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও গবেষণায় যৌথ প্রজেক্ট পরিচালনা করা।
  • কারিগরি বিশেষজ্ঞদের বিনিময়ের মাধ্যমে অন্য সদস্য দেশের ভূখণ্ডে সামরিক শিল্পের প্রশিক্ষণ দেওয়া।
  • গবেষণা, উন্নয়ন ও সামরিক উদ্ভাবনের অভিজ্ঞতা পারস্পরিকভাবে বিনিময় করা।
  • যৌথ সম্মতিতে প্রতিরক্ষা খাতের অন্যান্য সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধি করা।

মেয়াদ ও চুক্তি থেকে প্রত্যাহারের নিয়মাবলী

চুক্তির মেয়াদ, অনুমোদন ও কার্যকরের প্রক্রিয়া সম্পর্কে দলিলে বলা হয়েছে

  1. সদস্য দেশগুলোর নিজ নিজ আইনি ও সামাজিক অনুমোদন শেষে চূড়ান্ত দলিল সচিবালয়ে জমা দেওয়ার দিন থেকেই চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে।
  2. চুক্তিটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বহাল থাকবে।
  3. কার্যকর হওয়ার প্রথম ১০ বছর পর, যেকোনো দেশ কূটনৈতিক মাধ্যমে অন্তত ৩ মাস আগে লিখিত নোটিশ দিয়ে চুক্তি থেকে সরে আসতে পারবে।
  4. কোনো দেশ চুক্তি থেকে বেরিয়ে গেলেও পূর্বে গৃহীত যৌথ প্রকল্প বা সামরিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হবে না।
  5. চুক্তি বাতিল বা কোনো দেশের সদস্যপদ সমাপ্ত হলেও আগের গোপন তথ্যের সুরক্ষার আইনি দায়িত্ব বজায় থাকবে।

আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় মাঠপর্যায়ে এবং কৌশলগত পর্যায়ে যৌথ গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের ওপর এই চুক্তিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির মূল দলিল প্রকাশ্যে আনল তুরস্ক

আপডেট সময় : ০৪:১৬:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে সই হওয়া ঐতিহাসিক ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’র মূল অনুলিপি পার্লামেন্টে জমা দিয়েছে আঙ্কারা। গত আগস্ট মাসে এই তিন দেশের স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে একটি নতুন সামরিক ও নিরাপত্তা জোটের আত্মপ্রকাশ ঘটে। লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই সূত্রে আঙ্কারার এই পদক্ষেপের বিষয়টি সামনে এসেছে। ১৬টি অনুচ্ছেদসংবলিত এই চুক্তির নির্দিষ্ট কোনো মেয়াদ নেই, ফলে এটি অনির্দিষ্টকালের জন্য কার্যকর থাকবে। তুরস্কের সরকার গতকাল মঙ্গলবার মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির মূল পাঠটি দেশটির পার্লামেন্ট পেশ করে। সচিবালয় পরিচালন সংক্রান্ত নিয়ম, কাঠামো ও মূল নীতিগুলো পরে প্রধান দেশগুলোর সর্বসম্মতিতে ঠিক করা হবে। মক্কা চুক্তি: নয়া আঞ্চলিক নিরাপত্তার সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ। এই চুক্তির ব্যাখ্যা বা বাস্তবায়ন নিয়ে কোনো বিরোধ দেখা দিলে তা দেশগুলোর মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করা হবে।

চুক্তির মূল দলিলে সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা অঞ্চলকে একক শত্রু হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি।

তবে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর নিরাপত্তা রক্ষায় ন্যাটোর অনুচ্ছেদ ৫-এর আদলে বেশ কিছু কঠোর সামরিক অঙ্গীকার যুক্ত করা হয়েছে। অনেকটা ন্যাটোর অনুচ্ছেদ ৫ এর মতো।

২ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, জোটের অন্তর্ভুক্ত কোনো দেশের ওপর বাইরের দেশ বা শক্তি সশস্ত্র আক্রমণ কিংবা সামরিক আগ্রাসন চালালে, তা সব সদস্য দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য হবে।

এমন পরিস্থিতিতে আক্রান্ত দেশকে রক্ষায় অন্য সদস্য রাষ্ট্রগুলো তাৎক্ষণিকভাবে সামরিক সক্ষমতা ও অন্যান্য সুবিধাসহ সর্বাত্মক সহায়তা দিতে বাধ্য থাকবে।

তবে জাতিসংঘের সনদ অনুযায়ী আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগের আগে নিরপেক্ষ মূল্যায়নের মাধ্যমে সহায়তার ধরণ নির্ধারণ করা হবে। এই উদ্দেশ্যে, জাতিসংঘ সনদের ৫১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আত্মরক্ষার অধিকার বাস্তবায়নের জন্য সাহায্য চাওয়ার পর একটি নিরপেক্ষ মূল্যায়নের মাধ্যমে সহায়তার পরিধি ও ধরণ নির্ধারণ করা হবে। ‘পক্ষগুলো’ তাদের সামরিক সক্ষমতা ও অন্যান্য সম্প।

নিরাপত্তা হুমকির ক্ষেত্রে প্রথম অনুচ্ছেদে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, কোনো সদস্য দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব বা আন্তর্জাতিক সীমানা ঝুঁকিতে পড়লে সম্মিলিত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সামরিক সহযোগিতার পাশাপাশি প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশ, সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়ন, যৌথ মহড়া ও প্রযুক্তি বিনিময়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে এই চুক্তিতে। এর মাধ্যমে একটি নতুন আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা জোট তৈরি হয়, যা স্বাক্ষরকারী দেশগুলোকে একে অপরের সুরক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ করে। চুক্তির প্রথম অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘যদি কোনো ‘পক্ষের’ আঞ্চলিক অখণ্ডতা, সার্বভৌমত্ব বা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমানা হুমকি বা বিপদের মুখে পড়ে, তবে ‘পক্ষগুলো’ সেই হুমকি বা বিপদ দূর করতে প্রয়োজনীয় সব পথ অবলম্বন করবে। একে অপরের সার্বভৌমত্বের প্রতি পারস্পরিক সম্মান, জাতিসংঘ সনদের নীতিসমূহ, আন্তর্জাতিক আইন এবং নিজ নিজ দেশের বিদ্যমান আইনের মূল নীতিগুলোকে বিবেচনায় রেখে; এবং প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব সম্পর্কিত বিদ্যমান সহযোগিতা, সমন্বয় ও সংহতকরণ ব্যবস্থাকে একটি যৌথ প্রতিরক্ষা। যৌথ স্বার্থের ওপর ভিত্তি করে ‘পক্ষগুলোর’ নিজেদের মধ্যে সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার ইচ্ছা পুনর্ব্যক্ত করে, যা তাদের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যকার পারস্পরিক কাজের সক্ষমতা, প্রস্তুতি ও কার্যকারিতা বৃদ্ধি করবে এবং এর মাধ্যমে ‘পক্ষগুলো’ ও তাদের জনগণের মধ্যে বিদ্যমান।

রাজনৈতিক ও সামরিক পরিচালনা কাঠামো

চুক্তি কার্যকর ও বাস্তবায়নে একটি উচ্চপর্যায়ের ‘কৌশলগত political ও প্রতিরক্ষা কমিটি’ গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। এই কমিটির কার্যপ্রণালী নিচে দেওয়া হলো এই কমিটির বৈঠক বছরে দুবার অনুষ্ঠিত হবে এবং দেশগুলো পর্যায়ক্রমে আয়োজক হবে।

  1. কৌশলগত দিকনির্দেশনা ও সামরিক বাধা দূর করতে এই কমিটি কাজ করবে, যেখানে তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সেনাপ্রধানরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।
  2. প্রয়োজন মনে করলে নীতিগত সিদ্ধান্তের সুবিধার্থে কমিটি প্রয়োজনীয় সাব-কমিটি গঠন করতে পারবে।
  3. চুক্তির ধারা বাস্তবায়নে সদস্য দেশগুলো নিজেদের মধ্যে আলাদা দ্বিপক্ষীয় বা ত্রিপক্ষীয় প্রোটোকল সই করতে পারবে।
  4. নতুন কোনো দেশকে জোটে যুক্ত করার নিয়ম বা নীতি নির্ধারণের একচ্ছত্র ক্ষমতা সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এই কমিটির হাতে থাকবে।
  5. চুক্তির প্রশাসনিক ও নিয়মিত কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য সৌদি আরবে একটি স্থায়ী সচিবালয় স্থাপন করা হবে।
  6. তিন বছরের মেয়াদে পর্যায়ক্রমে সদস্য দেশগুলো থেকে সচিবালয়ের মহাসচিব মনোনীত হবেন, যার মধ্যে প্রথম মহাসচিব হবেন পাকিস্তানের একজন প্রতিনিধি।
  7. এই নতুন কাঠামো বিদ্যমান অন্যান্য সামরিক ও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা কমিটির কার্যক্রমে কোনো বাধা তৈরি করবে না।

তথ্য ও গোপনীয়তা সুরক্ষার শর্তাবলী

সামরিক ও গোয়েন্দা তথ্যের নিরাপত্তায় চুক্তিতে বিশেষ গোপনীয়তার শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। আইনগত বাধ্যবাধকতাগুলো নিচে উল্লেখ করা হলো

  1. চুক্তির আওতায় আদান-প্রদান করা সমস্ত সামরিক ও প্রশাসনিক নথি এবং তথ্য জাতীয় আইন মেনে চরম গোপনীয়তায় রক্ষা করতে হবে।
  2. যেকোনো গোপন নথি বা তথ্য চুক্তির বাইরের কোনো তৃতীয় রাষ্ট্র, বেসরকারি কোম্পানি বা ব্যক্তির কাছে প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
  3. কেবলমাত্র উপযুক্ত নিরাপত্তা ছাড়পত্রপ্রাপ্ত এবং দাপ্তরিক প্রয়োজনে যাদের জানা জরুরি (নিড-টু-নো), তারাই এই গোপন তথ্য দেখার অনুমোদন পাবেন।

প্রতিরক্ষা শিল্প ও প্রযুক্তি বিনিময়

সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি তিন দেশ যৌথভাবে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে সম্মত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে

  • প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি যৌথভাবে উৎপাদন করার উদ্যোগকে উৎসাহিত করা।
  • বিশেষ প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও গবেষণায় যৌথ প্রজেক্ট পরিচালনা করা।
  • কারিগরি বিশেষজ্ঞদের বিনিময়ের মাধ্যমে অন্য সদস্য দেশের ভূখণ্ডে সামরিক শিল্পের প্রশিক্ষণ দেওয়া।
  • গবেষণা, উন্নয়ন ও সামরিক উদ্ভাবনের অভিজ্ঞতা পারস্পরিকভাবে বিনিময় করা।
  • যৌথ সম্মতিতে প্রতিরক্ষা খাতের অন্যান্য সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধি করা।

মেয়াদ ও চুক্তি থেকে প্রত্যাহারের নিয়মাবলী

চুক্তির মেয়াদ, অনুমোদন ও কার্যকরের প্রক্রিয়া সম্পর্কে দলিলে বলা হয়েছে

  1. সদস্য দেশগুলোর নিজ নিজ আইনি ও সামাজিক অনুমোদন শেষে চূড়ান্ত দলিল সচিবালয়ে জমা দেওয়ার দিন থেকেই চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে।
  2. চুক্তিটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বহাল থাকবে।
  3. কার্যকর হওয়ার প্রথম ১০ বছর পর, যেকোনো দেশ কূটনৈতিক মাধ্যমে অন্তত ৩ মাস আগে লিখিত নোটিশ দিয়ে চুক্তি থেকে সরে আসতে পারবে।
  4. কোনো দেশ চুক্তি থেকে বেরিয়ে গেলেও পূর্বে গৃহীত যৌথ প্রকল্প বা সামরিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হবে না।
  5. চুক্তি বাতিল বা কোনো দেশের সদস্যপদ সমাপ্ত হলেও আগের গোপন তথ্যের সুরক্ষার আইনি দায়িত্ব বজায় থাকবে।

আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় মাঠপর্যায়ে এবং কৌশলগত পর্যায়ে যৌথ গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের ওপর এই চুক্তিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।