ঢাকা ০৩:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

মহেশখালীতে হচ্ছে জাপানি মডেলে ‘আদর্শ মৎস্যগ্রাম’

Live News Bangla71
  • আপডেট সময় : ০৩:০১:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬ ১৭৫ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বঙ্গোপসাগরের বিশাল নীল জলরাশিকে টেকসই অর্থনীতির শক্তিতে রূপান্তর এবং সামুদ্রিক সম্পদ রক্ষায় এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করল বাংলাদেশ।সাগর সংরক্ষণ, সামুদ্রিক মৎস্য রক্ষা এবং টেকসই নীল অর্থনীতি (ব্লু ইকোনমি) গড়ে তুলতে জাপানের খ্যাতনামা ‘সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশন’ (এসপিএফ)-এর সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে মহেশখালী ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (মিডা)।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের উপস্থিতিতে এই সমঝোতা স্মারক সই হয়। অনুষ্ঠানে মিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন এবং এসপিএফ-এর ওশান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (ওপিআরআই) সভাপতি অধ্যাপক মিৎসুতাকু মাকিনো নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সই করেন।

সমঝোতা সই প্রত্যক্ষ করার পর প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস সাগর দূষণ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের সাগর একটি বড় সম্পদ, কিন্তু এটি দিন দিন দূষিত হচ্ছে। সমুদ্রের কয়েক হাজার মিটার গভীরেও এখন প্লাস্টিক বর্জ্যের অস্তিত্ব পাওয়া যাচ্ছে। এই সমঝোতা আমাদের সাগর রক্ষা ও পরিষ্কার রাখতে ঢাল হিসেবে কাজ করবে।’আরও পড়ুন: সমুদ্র অর্থনীতি সুষ্ঠু ব্যবহারের রূপরেখা পরবর্তী সরকারকে দিতে চাই: বিডা চেয়ারম্যান

তিনি জানান, এই গবেষণায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরিন সায়েন্স ইনস্টিটিউট যুক্ত থাকবে। জাপানের নীল অর্থনীতির মডেল অনুসরণ করে মহেশখালীর তিনটি গ্রামকে ‘উমিগিও’ বা সামুদ্রিক শিল্পভিত্তিক আদর্শ মৎস্যগ্রাম হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ স্বাধীন দাতব্য প্রতিষ্ঠান। এই চুক্তির আওতায় বেশ কিছু বৈপ্লবিক পদক্ষেপ নেয়া হবে:

মডেল মৎস্যগ্রাম: জাপানের ‘উমিগিও’ ধারণায় মহেশখালীর তিনটি গ্রামকে আধুনিক ও স্বয়ংসম্পূর্ণ করা হবে।

অবকাঠামো উন্নয়ন: জেটি নির্মাণ, স্বয়ংক্রিয় মাছ অবতরণ কেন্দ্র, কোল্ডচেইন এবং উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।

গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণ: আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে গভীর সমুদ্র থেকে মাছ আহরণ এবং প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা স্থাপন করা হবে।
প্রশিক্ষণ ও নিরাপত্তা: জেলেদের কল্যাণ, সাগরে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং রফতানি বহুমুখীকরণে উন্নত প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।মিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বলেন, ‘বঙ্গোপসাগরের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে প্রয়োজনীয় বিজ্ঞান ও কৌশল জোরদার করা হবে। এই অংশীদারত্ব বাংলাদেশকে নতুন এক উচ্চতায় নিয়ে যাবে।’

অন্যদিকে অধ্যাপক মিৎসুতাকু মাকিনো আশা প্রকাশ করেন, এই সহযোগিতার মাধ্যমে জাপান-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরালো হবে এবং বাংলাদেশের উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে।

১৩ ও ১৪ জানুয়ারি ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘নর্থইস্ট ইন্ডিয়ান ওশান রিজিওনাল ডায়ালগ’-এর অংশ হিসেবে এই চুক্তি সই হয়। যেখানে বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপের বিশেষজ্ঞরা অংশগ্রহণ করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

মহেশখালীতে হচ্ছে জাপানি মডেলে ‘আদর্শ মৎস্যগ্রাম’

আপডেট সময় : ০৩:০১:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

বঙ্গোপসাগরের বিশাল নীল জলরাশিকে টেকসই অর্থনীতির শক্তিতে রূপান্তর এবং সামুদ্রিক সম্পদ রক্ষায় এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করল বাংলাদেশ।সাগর সংরক্ষণ, সামুদ্রিক মৎস্য রক্ষা এবং টেকসই নীল অর্থনীতি (ব্লু ইকোনমি) গড়ে তুলতে জাপানের খ্যাতনামা ‘সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশন’ (এসপিএফ)-এর সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে মহেশখালী ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (মিডা)।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের উপস্থিতিতে এই সমঝোতা স্মারক সই হয়। অনুষ্ঠানে মিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন এবং এসপিএফ-এর ওশান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (ওপিআরআই) সভাপতি অধ্যাপক মিৎসুতাকু মাকিনো নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সই করেন।

সমঝোতা সই প্রত্যক্ষ করার পর প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস সাগর দূষণ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের সাগর একটি বড় সম্পদ, কিন্তু এটি দিন দিন দূষিত হচ্ছে। সমুদ্রের কয়েক হাজার মিটার গভীরেও এখন প্লাস্টিক বর্জ্যের অস্তিত্ব পাওয়া যাচ্ছে। এই সমঝোতা আমাদের সাগর রক্ষা ও পরিষ্কার রাখতে ঢাল হিসেবে কাজ করবে।’আরও পড়ুন: সমুদ্র অর্থনীতি সুষ্ঠু ব্যবহারের রূপরেখা পরবর্তী সরকারকে দিতে চাই: বিডা চেয়ারম্যান

তিনি জানান, এই গবেষণায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরিন সায়েন্স ইনস্টিটিউট যুক্ত থাকবে। জাপানের নীল অর্থনীতির মডেল অনুসরণ করে মহেশখালীর তিনটি গ্রামকে ‘উমিগিও’ বা সামুদ্রিক শিল্পভিত্তিক আদর্শ মৎস্যগ্রাম হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ স্বাধীন দাতব্য প্রতিষ্ঠান। এই চুক্তির আওতায় বেশ কিছু বৈপ্লবিক পদক্ষেপ নেয়া হবে:

মডেল মৎস্যগ্রাম: জাপানের ‘উমিগিও’ ধারণায় মহেশখালীর তিনটি গ্রামকে আধুনিক ও স্বয়ংসম্পূর্ণ করা হবে।

অবকাঠামো উন্নয়ন: জেটি নির্মাণ, স্বয়ংক্রিয় মাছ অবতরণ কেন্দ্র, কোল্ডচেইন এবং উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।

গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণ: আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে গভীর সমুদ্র থেকে মাছ আহরণ এবং প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা স্থাপন করা হবে।
প্রশিক্ষণ ও নিরাপত্তা: জেলেদের কল্যাণ, সাগরে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং রফতানি বহুমুখীকরণে উন্নত প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।মিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বলেন, ‘বঙ্গোপসাগরের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে প্রয়োজনীয় বিজ্ঞান ও কৌশল জোরদার করা হবে। এই অংশীদারত্ব বাংলাদেশকে নতুন এক উচ্চতায় নিয়ে যাবে।’

অন্যদিকে অধ্যাপক মিৎসুতাকু মাকিনো আশা প্রকাশ করেন, এই সহযোগিতার মাধ্যমে জাপান-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরালো হবে এবং বাংলাদেশের উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে।

১৩ ও ১৪ জানুয়ারি ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘নর্থইস্ট ইন্ডিয়ান ওশান রিজিওনাল ডায়ালগ’-এর অংশ হিসেবে এই চুক্তি সই হয়। যেখানে বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপের বিশেষজ্ঞরা অংশগ্রহণ করেন।