মুসলিম নাম নিয়ে ট্রাম্পের উপহাস, তীব্র সমালোচনার মুখে প্রেসিডেন্ট
- আপডেট সময় : ০৯:৪৩:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬ ৩৪ বার পড়া হয়েছে
জর্জিয়ার ডালটনে এক নির্বাচনী জনসভায় যোগ দিয়ে মুসলিমদের নাম নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের সমর্থনে আয়োজিত এই সমাবেশে ইরান প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের কারো নাম নিয়ে সন্দেহ হলে তাকে ‘মোহাম্মদ’ বলে ডাকলেই চলে। ট্রাম্পের দাবি, এতে সঠিক হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৬৫ শতাংশ এবং বছরের পর বছর ধরে তিনি এটি পরীক্ষা করে দেখছেন। সমাবেশে তিনি ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে দেওয়া হবে না বলেও পুনরায় হুঁশিয়ারি দেন। গত শুক্রবার জর্জিয়ার ডালটন মিউনিসিপ্যাল বিমানবন্দরের একটি হ্যাঙ্গারে নির্বাচনী সমাবেশে ইরান প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে এ নাম নিয়ে রসিকতা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ইরানকে নিয়ে কথা বলার এক পর্যায়ে ট্রাম্প রসিকতা করে বলেন যে, সেখানে কেউ প্রেসিডেন্ট হতে চান না। এরপর তিনি মঞ্চে উপস্থিত জনতাকে উদ্দেশ করে ‘হ্যালো, মোহাম্মদ’ বলে সম্বোধন করার ভান করেন। তবে তার এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে জনসমাবেশে তেমন কোনো ইতিবাচক সাড়া লক্ষ্য করা যায়নি। মুসলিম বিশ্বে হজরত মোহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি সম্মান প্রদর্শনের অংশ হিসেবে পুরুষ সদস্যদের নাম ‘মোহাম্মদ’ রাখার ব্যাপক প্রচলন রয়েছে, যা ধর্মীয় সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। মুসলিম বিশ্বে বহুল প্রচলিত পুরুষের নামগুলোর একটি মোহাম্মদ। ইসলামের নবী হজরত মোহাম্মদ (সা.)-এর নাম অনুসরণ করে অনেক মুসলিম পরিবারে ছেলেসন্তানের এই নাম রাখা হয়। তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্যে উপস্থিত জনতার কাছ থেকে খুব একটা সাড়া মেলেনি।
এদিকে ট্রাম্পের এমন আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বিভিন্ন মানবাধিকার ও মুসলিম অধিকার রক্ষা সংস্থা। তাদের মতে, ট্রাম্পের এই বক্তব্য বর্ণবাদী ও ইসলামবিদ্বেষী। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অভিবাসী এবং জাতিগত সংখ্যালঘুদের হেয় প্রতিপন্ন করতেই তিনি এমন কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। বিশেষ করে সোমালি ও মুসলিম আমেরিকানদের বিরুদ্ধে তিনি গত কয়েক দিন ধরে আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিয়ে আসছেন, যার লক্ষ্যবস্তু হয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আব্দুল এল-সায়েদ ও ইলহান ওমর।
উল্লেখ্য যে, চলতি বছরের শুরুর দিকে কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস বা সিএআইআর-এর বার্ষিক প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামবিদ্বেষ বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। সেই প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী কঠোর অবস্থান এবং ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভের ওপর নানা বিধিনিষেধের কারণে দেশে মুসলিম বিদ্বেষ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।
























