ঢাকা ১১:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের রক্ষণভাগে যেন বিশৃঙ্খলা বাড়াচ্ছেন লিসান্দ্রো মার্তিনেজ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:২৮:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬ ২৩ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ফুটবলের রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের সাধারণত ঠান্ডা মাথার অধিকারী হতে হয়, কারণ তাদের একটি ছোট ভুলও পুরো দলকে বড় মাশুল দিতে বাধ্য করে। ফুটবলে একটা কথা আছে, রক্ষণভাগের খেলোয়াড়ের মাথা সবচেয়ে বেশি ঠান্ডা থাকতে হয়।

সেই ভুল যদি হয় লাল কার্ড, তবে তার দায়ভার অনেক বেড়ে যায়। সেখানে যুক্তিবুদ্ধির উপস্থিতি অনেক দিন ধরেই অনিয়মিত।

চেলসির বিপক্ষে গত শনিবারের ম্যাচে লিসান্দ্রো মার্তিনেজ যে আগ্রাসী মেজাজ দেখিয়ে মাঠ ছেড়েছেন, তা ইউনাইটেডের বর্তমান ভঙ্গুর অবস্থারই প্রতিফলন। সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ মার্তিনেজ তখন রেফারির সঙ্গে ঝামেলায় জড়াতে যাচ্ছিলেন।

ম্যাচে শুরুতে মরগান রজার্সকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখার পর, মাত্র সাড়ে তিন মিনিটের মধ্যে ওয়েসলি ফোফানার ওপর যেভাবে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন মার্তিনেজ, তা ছিল চরম অবিবেচনাপ্রসূত। পরক্ষণেই ওয়েসলি ফোফানার দিকে উড়ে গেলেন হাত উঁচিয়ে। তবু ফরাসি ডিফেন্ডারের ওপর এমনভাবে ঝাঁপিয়ে পড়লেন, যেন ব্যক্তিগত কোনো শত্রুতা আছে।

রেফারি পিটার ব্যাংকস ভিএআর দেখে তাঁকে সরাসরি লাল কার্ড দেখানোর পাশাপাশি চেলসিকে পেনাল্টি উপহার দেন। সতীর্থরা তাঁকে শান্ত করার চেষ্টা করলেও মাঠ ছাড়ার সময় তিনি ছিলেন চূড়ান্ত হতাশ। লাল কার্ডের সঙ্গে চেলসিকে পেনাল্টিও দিলেন। অথচ এই ক্যারিকই তাঁকে দ্বিতীয়বার সুযোগ দিয়েছিলেন।

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বর্তমান ড্রেসিংরুমে যুক্তিবুদ্ধি যেন হারিয়ে গেছে। টানা তিনটি হারের ফলে প্রিমিয়ার লিগের অবনমন অঞ্চলের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা ক্লাবটির এই দুঃসময়ে লিসান্দ্রোর মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের কাছ থেকে নেতৃত্ব প্রয়োজন ছিল। কিন্তু মাঠে তার উল্টো চিত্রই ফুটে উঠেছে। এমনকি চেলসির প্রথম গোলের সময় প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়কে আটকাতে মার্তিনেজের কোনো কার্যকর উদ্যোগই দেখা যায়নি। অন্যদিকে, মাঠের বাইরে তিনি ক্লাবের দলবদল নীতি নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনা করতে পিছপা হন না। অক্টোবরে আতলেতিকো মাদ্রিদের কাছে হারের পর তিনি টেকনিক্যাল ডিরেক্টরের ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। কিন্তু মাঠে নিজের পারফরম্যান্সের তুলনায় এমন কথাবার্তা এখন সমর্থকদের কাছে অসহনীয় হয়ে উঠেছে। বলের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক ছিল না, বল জেতার সম্ভাবনাও ছিল না। উত্তর খুঁজতে গেলে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ড্রেসিংরুমের দিকে তাকাতে হবে। চেলসির কাছে ২-০ গোলে হারের ম্যাচে মার্তিনেজের লাল কার্ড পাওয়ার ঘটনা আসলে ইউনাইটেডের চলমান দুর্দশার ছোট্ট একটি প্রতিচ্ছবি। মার্তিনেজের মধ্যে অভিযোগ আছে, ক্ষোভ আছে, অসন্তোষ আছে।

লিসান্দ্রো মার্তিনেজের ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড অধ্যায়টি মোটেও সুখকর নয়। গত চার বছর ছয় মাসে তিনি প্রিমিয়ার লিগে খেলেছেন মাত্র ৭২ ম্যাচ। চোটের কারণে ৬০৯ দিন মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছে তাঁকে। ২০২২ সালে এরিক টেন হাগের অধীনে ৪ কোটি ৮০ লাখ পাউন্ডের বিনিময়ে আয়াক্স থেকে আসার পর থেকে টেন হাগের প্রিয় শিষ্য হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। তবে এখন পরিস্থিতি এমন যে, জানুয়ারিতে তাঁকে ছেড়ে দিলে ক্লাবটি হয়তো হিসাবের খাতা থেকে একটি বাড়তি বোঝা কমাতে পারবে। চেলসির বিপক্ষে হারের পর কোচ মাইকেল ক্যারিক এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি, যা ইঙ্গিত দেয় যে দলের ভেতরের পরিবেশ কতটা নাজুক। লিসান্দ্রো মার্তিনেজের মাথা যে সেদিন কতটা গরম ছিল, তা বুঝতে তাঁর মাঠ ছাড়ার দৃশ্যটা একবার চোখের সামনে আনতে হবে। রেকর্ড ট্রান্সফার ফি দিয়ে কেনা চেলসির উইঙ্গার তাঁকে ফাউল করেছিলেন, সেটি সম্ভবত ভালো লাগেনি মার্তিনেজের। সেই টেন হাগই ইউনাইটেডকে রাজি করিয়েছিলেন তাঁকে ৪ কোটি ৮০ লাখ পাউন্ডে কিনতে। এরপর কোচ মাইকেল ক্যারিকের পাশ দিয়ে মাথা নিচু করে মাঠ ছাড়তে হলো।

আয়াক্সে থাকার সময় প্রতিপক্ষের কাছে আতঙ্ক ছড়ানো ট্যাকলের কারণে তাঁর নাম হয়েছিল ‘দ্য বুচার’ বা কসাই। জাতীয় দলের জার্সিতে আর্জেন্টিনা ও ক্রিস্টিয়ান রোমেরোর সঙ্গে জুটি বেঁধে তিনি বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। কিন্তু ইউনাইটেডে এসে সেই আগ্রাসন এখন ধ্বংসাত্মক রূপ নিয়েছে। এ বছর এটি তাঁর দ্বিতীয় লাল কার্ড; গত এপ্রিলে লিডসের বিপক্ষে ডমিনিক কালভার্ট-লুইনের চুল টেনে ধরে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন। জাতীয় দলের সুশৃঙ্খল পরিবেশের বাইরে এসে ইউনাইটেডের রক্ষণে তিনি যেন নিজের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলছেন। এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমর্থকেরা তাঁকে দলের ‘গোলমাল পাকানো লোক’ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন। মার্তিনেজের আগ্রাসন দলের জন্য সম্পদ না হয়ে এখন বড় আপদ হিসেবেই দেখা দিচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের রক্ষণভাগে যেন বিশৃঙ্খলা বাড়াচ্ছেন লিসান্দ্রো মার্তিনেজ

আপডেট সময় : ০৫:২৮:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

ফুটবলের রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের সাধারণত ঠান্ডা মাথার অধিকারী হতে হয়, কারণ তাদের একটি ছোট ভুলও পুরো দলকে বড় মাশুল দিতে বাধ্য করে। ফুটবলে একটা কথা আছে, রক্ষণভাগের খেলোয়াড়ের মাথা সবচেয়ে বেশি ঠান্ডা থাকতে হয়।

সেই ভুল যদি হয় লাল কার্ড, তবে তার দায়ভার অনেক বেড়ে যায়। সেখানে যুক্তিবুদ্ধির উপস্থিতি অনেক দিন ধরেই অনিয়মিত।

চেলসির বিপক্ষে গত শনিবারের ম্যাচে লিসান্দ্রো মার্তিনেজ যে আগ্রাসী মেজাজ দেখিয়ে মাঠ ছেড়েছেন, তা ইউনাইটেডের বর্তমান ভঙ্গুর অবস্থারই প্রতিফলন। সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ মার্তিনেজ তখন রেফারির সঙ্গে ঝামেলায় জড়াতে যাচ্ছিলেন।

ম্যাচে শুরুতে মরগান রজার্সকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখার পর, মাত্র সাড়ে তিন মিনিটের মধ্যে ওয়েসলি ফোফানার ওপর যেভাবে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন মার্তিনেজ, তা ছিল চরম অবিবেচনাপ্রসূত। পরক্ষণেই ওয়েসলি ফোফানার দিকে উড়ে গেলেন হাত উঁচিয়ে। তবু ফরাসি ডিফেন্ডারের ওপর এমনভাবে ঝাঁপিয়ে পড়লেন, যেন ব্যক্তিগত কোনো শত্রুতা আছে।

রেফারি পিটার ব্যাংকস ভিএআর দেখে তাঁকে সরাসরি লাল কার্ড দেখানোর পাশাপাশি চেলসিকে পেনাল্টি উপহার দেন। সতীর্থরা তাঁকে শান্ত করার চেষ্টা করলেও মাঠ ছাড়ার সময় তিনি ছিলেন চূড়ান্ত হতাশ। লাল কার্ডের সঙ্গে চেলসিকে পেনাল্টিও দিলেন। অথচ এই ক্যারিকই তাঁকে দ্বিতীয়বার সুযোগ দিয়েছিলেন।

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বর্তমান ড্রেসিংরুমে যুক্তিবুদ্ধি যেন হারিয়ে গেছে। টানা তিনটি হারের ফলে প্রিমিয়ার লিগের অবনমন অঞ্চলের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা ক্লাবটির এই দুঃসময়ে লিসান্দ্রোর মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের কাছ থেকে নেতৃত্ব প্রয়োজন ছিল। কিন্তু মাঠে তার উল্টো চিত্রই ফুটে উঠেছে। এমনকি চেলসির প্রথম গোলের সময় প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়কে আটকাতে মার্তিনেজের কোনো কার্যকর উদ্যোগই দেখা যায়নি। অন্যদিকে, মাঠের বাইরে তিনি ক্লাবের দলবদল নীতি নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনা করতে পিছপা হন না। অক্টোবরে আতলেতিকো মাদ্রিদের কাছে হারের পর তিনি টেকনিক্যাল ডিরেক্টরের ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। কিন্তু মাঠে নিজের পারফরম্যান্সের তুলনায় এমন কথাবার্তা এখন সমর্থকদের কাছে অসহনীয় হয়ে উঠেছে। বলের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক ছিল না, বল জেতার সম্ভাবনাও ছিল না। উত্তর খুঁজতে গেলে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ড্রেসিংরুমের দিকে তাকাতে হবে। চেলসির কাছে ২-০ গোলে হারের ম্যাচে মার্তিনেজের লাল কার্ড পাওয়ার ঘটনা আসলে ইউনাইটেডের চলমান দুর্দশার ছোট্ট একটি প্রতিচ্ছবি। মার্তিনেজের মধ্যে অভিযোগ আছে, ক্ষোভ আছে, অসন্তোষ আছে।

লিসান্দ্রো মার্তিনেজের ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড অধ্যায়টি মোটেও সুখকর নয়। গত চার বছর ছয় মাসে তিনি প্রিমিয়ার লিগে খেলেছেন মাত্র ৭২ ম্যাচ। চোটের কারণে ৬০৯ দিন মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছে তাঁকে। ২০২২ সালে এরিক টেন হাগের অধীনে ৪ কোটি ৮০ লাখ পাউন্ডের বিনিময়ে আয়াক্স থেকে আসার পর থেকে টেন হাগের প্রিয় শিষ্য হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। তবে এখন পরিস্থিতি এমন যে, জানুয়ারিতে তাঁকে ছেড়ে দিলে ক্লাবটি হয়তো হিসাবের খাতা থেকে একটি বাড়তি বোঝা কমাতে পারবে। চেলসির বিপক্ষে হারের পর কোচ মাইকেল ক্যারিক এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি, যা ইঙ্গিত দেয় যে দলের ভেতরের পরিবেশ কতটা নাজুক। লিসান্দ্রো মার্তিনেজের মাথা যে সেদিন কতটা গরম ছিল, তা বুঝতে তাঁর মাঠ ছাড়ার দৃশ্যটা একবার চোখের সামনে আনতে হবে। রেকর্ড ট্রান্সফার ফি দিয়ে কেনা চেলসির উইঙ্গার তাঁকে ফাউল করেছিলেন, সেটি সম্ভবত ভালো লাগেনি মার্তিনেজের। সেই টেন হাগই ইউনাইটেডকে রাজি করিয়েছিলেন তাঁকে ৪ কোটি ৮০ লাখ পাউন্ডে কিনতে। এরপর কোচ মাইকেল ক্যারিকের পাশ দিয়ে মাথা নিচু করে মাঠ ছাড়তে হলো।

আয়াক্সে থাকার সময় প্রতিপক্ষের কাছে আতঙ্ক ছড়ানো ট্যাকলের কারণে তাঁর নাম হয়েছিল ‘দ্য বুচার’ বা কসাই। জাতীয় দলের জার্সিতে আর্জেন্টিনা ও ক্রিস্টিয়ান রোমেরোর সঙ্গে জুটি বেঁধে তিনি বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। কিন্তু ইউনাইটেডে এসে সেই আগ্রাসন এখন ধ্বংসাত্মক রূপ নিয়েছে। এ বছর এটি তাঁর দ্বিতীয় লাল কার্ড; গত এপ্রিলে লিডসের বিপক্ষে ডমিনিক কালভার্ট-লুইনের চুল টেনে ধরে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন। জাতীয় দলের সুশৃঙ্খল পরিবেশের বাইরে এসে ইউনাইটেডের রক্ষণে তিনি যেন নিজের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলছেন। এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমর্থকেরা তাঁকে দলের ‘গোলমাল পাকানো লোক’ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন। মার্তিনেজের আগ্রাসন দলের জন্য সম্পদ না হয়ে এখন বড় আপদ হিসেবেই দেখা দিচ্ছে।