ঢাকা ১১:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

যুদ্ধ অবসানে দোহায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পরোক্ষ আলোচনা শেষ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৩৫:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬ ১৯ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তজনা নিরসনে কাতারের মধ্যস্থতায় দোহায় অনুষ্ঠিত পরোক্ষ বৈঠক শেষ হয়েছে। আলোচনার ভিত্তিতে একটি খসড়া চুক্তি চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। পরিস্থিতি অনুকূল থাকলে দুই পক্ষ পুনরায় আলোচনায় বসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সোমবার (২ নভেম্বর) রয়টার্সকে দেওয়া এক তথ্যে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে যে, আলোচনা ইতিবাচক ছিল এবং কোনো অচলাবস্থার কারণে এটি শেষ হয়নি, বরং প্রস্তাব পর্যালোচনার জন্য সময় নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে কাতারের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষ করে দোহা ত্যাগ করেছেন ইরানি আলোচকরা। আলোচনায় অর্জিত অগ্রগতির ভিত্তিতে তৈরি সম্ভাব্য চুক্তির একটি খসড়া প্রস্তাব এখন পর্যালোচনা করা হচ্ছে। অন্যদিকে ট্রাম্পও নিজের অবস্থানে নমনীয় ও অনড়- দুই রূপই বজায় রেখেছেন।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, মূলত সেপ্টেম্বরে দেওয়া তেহরানের ৭ দফা পরিকল্পনা ঘিরেই এই আলোচনা আবর্তিত হয়েছে। এর মূল কেন্দ্রে রয়েছে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং ইরানের ওপর আরোপিত যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া। এই প্রক্রিয়ায় কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনে কাজ করেছেন ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি।

বাঘাই স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তেহরানের দাবিগুলো যৌক্তিক ও ন্যায়সঙ্গত। মার্কিন নৌ অবরোধের অবসান এবং ইরানের স্বার্থ ও ন্যায্য প্রয়োজন পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে সই করা হবে না। একইসঙ্গে, এসব শর্ত মানা না পর্যন্ত হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা বা তা উন্মুক্ত করার বিষয়টিও অনিশ্চিত। যদিও ট্রাম্প এর আগে তেহরানের প্রাথমিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন, তবে চলমান এই কূটনৈতিক তৎপরতা মূলত মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, আমাদের দাবিগুলো অত্যন্ত স্পষ্টভাবে এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। এমনকি এসব দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত বা সুরক্ষিত করাও সম্ভব নয়।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের আগে ইরানে নতুন কোনো সামরিক হামলা চালানো হবে না বলেও আভাস পাওয়া গেছে। তবে ভবিষ্যতে সামরিক পথ বেছে নেওয়ার সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেননি ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন নির্বাচন নিয়ে ইরানের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে ইসমাইল বাঘাই বলেন, নির্বাচনের ফলাফলের মাধ্যমে নতুন কোনো যুক্তরাষ্ট্রের জন্ম হবে—এমনটা মনে করে না তেহরান। সার্বিকভাবে দোহা আলোচনা বেশ ফলপ্রসূ হয়েছে বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

যুদ্ধ অবসানে দোহায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পরোক্ষ আলোচনা শেষ

আপডেট সময় : ১১:৩৫:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তজনা নিরসনে কাতারের মধ্যস্থতায় দোহায় অনুষ্ঠিত পরোক্ষ বৈঠক শেষ হয়েছে। আলোচনার ভিত্তিতে একটি খসড়া চুক্তি চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। পরিস্থিতি অনুকূল থাকলে দুই পক্ষ পুনরায় আলোচনায় বসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সোমবার (২ নভেম্বর) রয়টার্সকে দেওয়া এক তথ্যে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে যে, আলোচনা ইতিবাচক ছিল এবং কোনো অচলাবস্থার কারণে এটি শেষ হয়নি, বরং প্রস্তাব পর্যালোচনার জন্য সময় নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে কাতারের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষ করে দোহা ত্যাগ করেছেন ইরানি আলোচকরা। আলোচনায় অর্জিত অগ্রগতির ভিত্তিতে তৈরি সম্ভাব্য চুক্তির একটি খসড়া প্রস্তাব এখন পর্যালোচনা করা হচ্ছে। অন্যদিকে ট্রাম্পও নিজের অবস্থানে নমনীয় ও অনড়- দুই রূপই বজায় রেখেছেন।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, মূলত সেপ্টেম্বরে দেওয়া তেহরানের ৭ দফা পরিকল্পনা ঘিরেই এই আলোচনা আবর্তিত হয়েছে। এর মূল কেন্দ্রে রয়েছে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং ইরানের ওপর আরোপিত যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া। এই প্রক্রিয়ায় কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনে কাজ করেছেন ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি।

বাঘাই স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তেহরানের দাবিগুলো যৌক্তিক ও ন্যায়সঙ্গত। মার্কিন নৌ অবরোধের অবসান এবং ইরানের স্বার্থ ও ন্যায্য প্রয়োজন পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে সই করা হবে না। একইসঙ্গে, এসব শর্ত মানা না পর্যন্ত হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা বা তা উন্মুক্ত করার বিষয়টিও অনিশ্চিত। যদিও ট্রাম্প এর আগে তেহরানের প্রাথমিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন, তবে চলমান এই কূটনৈতিক তৎপরতা মূলত মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, আমাদের দাবিগুলো অত্যন্ত স্পষ্টভাবে এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। এমনকি এসব দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত বা সুরক্ষিত করাও সম্ভব নয়।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের আগে ইরানে নতুন কোনো সামরিক হামলা চালানো হবে না বলেও আভাস পাওয়া গেছে। তবে ভবিষ্যতে সামরিক পথ বেছে নেওয়ার সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেননি ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন নির্বাচন নিয়ে ইরানের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে ইসমাইল বাঘাই বলেন, নির্বাচনের ফলাফলের মাধ্যমে নতুন কোনো যুক্তরাষ্ট্রের জন্ম হবে—এমনটা মনে করে না তেহরান। সার্বিকভাবে দোহা আলোচনা বেশ ফলপ্রসূ হয়েছে বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে।