যুদ্ধের প্রভাবে ছয় মাসে কাতারের রাজস্ব কমেছে ৪২ শতাংশ
- আপডেট সময় : ০১:৫৬:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ২৮ বার পড়া হয়েছে
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে কাতারের অর্থনীতিতে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশটির মোট রাজস্ব আয় প্রায় ৪২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে বলে জানিয়েছেন কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি। মঙ্গলবার দোহায় শুরা কাউন্সিলের বার্ষিক অধিবেশনের উদ্বোধনী ভাষণে তিনি এই তথ্য তুলে ধরেন। সৌদির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর। যুক্তরাষ্ট্রের পরেই দেশটির অবস্থান। কোনো আপস করা হবে না: হুঁশিয়ারি কাতারের আমিরের।
আমির জানান, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং রাস লাফান শিল্পনগরীর গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে সরাসরি হামলার ফলে দেশের রপ্তানি কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। রাস লাফানে ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় স্থাপনাটি ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌচলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় এলএনজি পরিবহনের প্রধান পথটি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে, যা দেশের সরকারি অর্থ ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে।
বিশ্বের অন্যতম প্রধান এলএনজি রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে কাতার এই মুহূর্তে কঠিন সময় পার করছে। বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) তাদের সর্বশেষ বৈশ্বিক প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, চলতি বছর কাতারের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি ১৫ দশমিক ৬ শতাংশ পর্যন্ত সংকুচিত হতে পারে। চলমান যুদ্ধের কারণে উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিকভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কাতার।
এমন প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও কাতার তাদের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন পরিকল্পনা থেকে সরে আসছে না। আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি আশ্বস্ত করেছেন যে, বিশ্বের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র নর্থ ফিল্ডের সম্প্রসারণ প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে চলছে। ২০৩০ সালের মধ্যে নর্থ ফিল্ডের সম্প্রসারণ সম্পন্ন হলে কাতারের বার্ষিক গ্যাস উৎপাদন সক্ষমতা ১৪ কোটি ২০ লাখ টনে উন্নীত হবে বলে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পারস্য উপসাগরের তলদেশ দিয়ে ইরানের ভূখণ্ড পর্যন্ত বিস্তৃত নর্থ ফিল্ড সম্প্রসারণের মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে কাতারের বার্ষিক গ্যাস উৎপাদন সক্ষমতা ১৪ কোটি ২০ লাখ টনে উন্নীত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি জ্বালানি খাতে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের বিষয়টিও জোরদার করছে দোহা। আমির উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রে এক্সনমোবিলের সাথে যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়নাধীন গোল্ডেন পাস এলএনজি প্রকল্পের কাজেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। কঠিন চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও গ্যাস অবকাঠামো আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বাড়ানোর এই প্রচেষ্টা দেশটির অর্থনীতির ঘুরে দাঁড়ানোর মূল শক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


























