ঢাকা ০১:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

রোববার ইরানে নতুন মার্কিন হামলার সম্ভাবনা, জানালেন ডনাল্ড ট্রাম্প

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:১৯:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ১৯ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইরানে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক হামলার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। রোববার (২৫ অক্টোবর) ফ্লোরিডায় মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগাম ভোট দেওয়ার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, খুব শিগগিরই ইরানে ফের অভিযান চালানো হতে পারে। তবে একইসঙ্গে তেহরানের সঙ্গে একটি চমৎকার ও সুন্দর চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। সাংবাদিকরা হামলার সুনির্দিষ্ট সময় জানতে চাইলে ট্রাম্প সরাসরি উত্তর না দিয়ে রহস্য বজায় রাখেন এবং প্রশ্নটিকে বোকামিপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন। এর জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আপনারা কি সত্যিই মনে করেন, আমি আপনাদের সেটা বলে দেব?’। এমন প্রশ্নকে ‘বোকামিপূর্ণ’ বলে আখ্যা দেন ট্রাম্প। কিন্তু সমস্যা হলো, তারা কি চুক্তি মেনে চলবে।

ট্রাম্প আবারও দাবি করেছেন, ইরান যাতে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতেই এই চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। শুক্রবার তিনি ইরানের বিরুদ্ধে একটি ছোট্ট ‘এপিক ফিউরি’ অভিযান পরিচালনার হুমকি দিয়েছিলেন। এর আগে ৩ নভেম্বরের কংগ্রেস নির্বাচনের আগে ইরানে বড় ধরনের হামলা না চালানোর কথা বললেও পরিস্থিতি এখন ভিন্ন হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এদিকে, তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাক একটি পডকাস্টে চলতি সপ্তাহান্তেই হামলার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন। এদিন তাকে প্রশ্ন করা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে নতুন করে হামলা চালাবে কিনা। একই সময়ে মার্কিন বাহিনী অস্ত্র লোড করার পাশাপাশি সম্ভাব্য নতুন অভিযানের জন্য যুদ্ধবিমানও প্রস্তুত করছিল।

ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ওয়াশিংটন মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত যুদ্ধক্ষমতা ও সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন শুরু করেছে। এএফপি এবং ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট বিমানবাহী রণতরি এবং একটি মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে মার্কিন বাহিনীর। এছাড়া আরব সাগরে অবস্থানরত রণতরি ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনে বড় ধরনের সামরিক সরঞ্জাম ও অস্ত্র মজুদ করা হচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, রণতরিটিতে দূরপাল্লার স্থল লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার মতো ক্ষেপণাস্ত্র এবং ভূগর্ভস্থ বাঙ্কার ধ্বংস করতে সক্ষম বাঙ্কারবিধ্বংসী বোমা তোলা হচ্ছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সাংবাদিক শেলবি হলিডে রণতরি পরিদর্শনের সময় বিপুল গোলাবারুদের স্তূপ এবং যুদ্ধবিমান প্রস্তুতির দৃশ্য দেখেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এসব পদক্ষেপ ইরানের বিরুদ্ধে বড় কোনো সামরিক অভিযানেরই প্রাথমিক প্রস্তুতি। ইরানের সঙ্গে শেষ পর্যন্ত কোনো চুক্তি হবে কি না, তা নিয়ে ট্রাম্প নিজেও সংশয় প্রকাশ করেছেন, কারণ দেশটির পক্ষ থেকে চুক্তি মানার নিশ্চয়তা নেই বলেই তার মত।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রোববার ইরানে নতুন মার্কিন হামলার সম্ভাবনা, জানালেন ডনাল্ড ট্রাম্প

আপডেট সময় : ০৯:১৯:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

ইরানে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক হামলার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। রোববার (২৫ অক্টোবর) ফ্লোরিডায় মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগাম ভোট দেওয়ার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, খুব শিগগিরই ইরানে ফের অভিযান চালানো হতে পারে। তবে একইসঙ্গে তেহরানের সঙ্গে একটি চমৎকার ও সুন্দর চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। সাংবাদিকরা হামলার সুনির্দিষ্ট সময় জানতে চাইলে ট্রাম্প সরাসরি উত্তর না দিয়ে রহস্য বজায় রাখেন এবং প্রশ্নটিকে বোকামিপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন। এর জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আপনারা কি সত্যিই মনে করেন, আমি আপনাদের সেটা বলে দেব?’। এমন প্রশ্নকে ‘বোকামিপূর্ণ’ বলে আখ্যা দেন ট্রাম্প। কিন্তু সমস্যা হলো, তারা কি চুক্তি মেনে চলবে।

ট্রাম্প আবারও দাবি করেছেন, ইরান যাতে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতেই এই চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। শুক্রবার তিনি ইরানের বিরুদ্ধে একটি ছোট্ট ‘এপিক ফিউরি’ অভিযান পরিচালনার হুমকি দিয়েছিলেন। এর আগে ৩ নভেম্বরের কংগ্রেস নির্বাচনের আগে ইরানে বড় ধরনের হামলা না চালানোর কথা বললেও পরিস্থিতি এখন ভিন্ন হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এদিকে, তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাক একটি পডকাস্টে চলতি সপ্তাহান্তেই হামলার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন। এদিন তাকে প্রশ্ন করা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে নতুন করে হামলা চালাবে কিনা। একই সময়ে মার্কিন বাহিনী অস্ত্র লোড করার পাশাপাশি সম্ভাব্য নতুন অভিযানের জন্য যুদ্ধবিমানও প্রস্তুত করছিল।

ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ওয়াশিংটন মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত যুদ্ধক্ষমতা ও সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন শুরু করেছে। এএফপি এবং ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট বিমানবাহী রণতরি এবং একটি মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে মার্কিন বাহিনীর। এছাড়া আরব সাগরে অবস্থানরত রণতরি ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনে বড় ধরনের সামরিক সরঞ্জাম ও অস্ত্র মজুদ করা হচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, রণতরিটিতে দূরপাল্লার স্থল লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার মতো ক্ষেপণাস্ত্র এবং ভূগর্ভস্থ বাঙ্কার ধ্বংস করতে সক্ষম বাঙ্কারবিধ্বংসী বোমা তোলা হচ্ছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সাংবাদিক শেলবি হলিডে রণতরি পরিদর্শনের সময় বিপুল গোলাবারুদের স্তূপ এবং যুদ্ধবিমান প্রস্তুতির দৃশ্য দেখেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এসব পদক্ষেপ ইরানের বিরুদ্ধে বড় কোনো সামরিক অভিযানেরই প্রাথমিক প্রস্তুতি। ইরানের সঙ্গে শেষ পর্যন্ত কোনো চুক্তি হবে কি না, তা নিয়ে ট্রাম্প নিজেও সংশয় প্রকাশ করেছেন, কারণ দেশটির পক্ষ থেকে চুক্তি মানার নিশ্চয়তা নেই বলেই তার মত।