ঢাকা ০৪:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ ‘অস্বীকার’ মিয়ানমারের

Live News Bangla71
  • আপডেট সময় : ০৮:৫৫:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬ ১৮১ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আন্তর্জাতিক বিচার আদালত-আইসিজেতে রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে সামরিক অভিযানের পক্ষেই সাফাই গাইলো মিয়ানমার। রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে চালানো অভিযানকে বৈধ বলেও দাবি করেছে দেশটি।২০১৭ সালের আগস্ট মাসে রোহিঙ্গা বিদ্রোহী গোষ্ঠীর হামলার অভিযোগ এনে রাখাইনে অভিযান শুরু করে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী। অভিযানে গণহত্যা, যৌন নিপীড়ন এবং বাড়িঘর-গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়ার অভিযোগ ওঠে।মিয়ানমার সেনাদের আগ্রাসনকে জাতিগত নির্মূল অভিহিত করে জাতিসংঘের তদন্তে বলা হয় স্পষ্ট গণহত্যার উদ্দেশ্যই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল। ওই সময় প্রায় ১০ হাজার মানুষ নিহত হন বলে সংস্থাটির তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসে।জীবন বাঁচাতে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। এর প্রেক্ষিতে গণহত্যার অভিযোগ এনে ২০১৯ সালে মামলা করে আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া।আন্তর্জাতিক বিচার আদালত-আইসিজেতে চলছে সেই মামলার শুনানি। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) অভিযানের পক্ষে সাফাই গেয়ে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অভিযানকে গণহত্যা বলা যায় না বলে দাবি করেন মিয়ানমারের প্রতিনিধি কো কো হ্লাইং।

তিনি বলেন, বিদ্রোহী গোষ্ঠীর হামলার জবাবে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান চালানো হয়েছিল। সেই অভিযানকে বৈধ দাবি করে গাম্বিয়া রোহিঙ্গা গণহত্যা প্রমাণ করতে পারেনি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।গেল সোমবার শুনানি শুরুর সময় গাম্বিয়ার বিচারমন্ত্রী দাউদা জাল্লো বলেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে দশকের পর দশক ভয়াবহ নিপীড়নের করছে মিয়ানমার। তবে গাম্বিয়ার উপস্থাপিত প্রমাণ প্রত্যাখ্যান করেছে দেশটি। এমনকি জাতিসংঘের তদন্ত মিশনের প্রতিবেদনও অভিযোগ প্রমাণের প্রয়োজনীয় মানদণ্ড পূরণ করতে পারেনি বলে দাবি নেইপিদোর।

এদিকে এই মামলার রায় মিয়ানমারের বাইরেও প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে গাজা যুদ্ধ নিয়ে ইসরাইলের বিরুদ্ধে ২০২৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার করা গণহত্যা মামলার ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা তাদের।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ ‘অস্বীকার’ মিয়ানমারের

আপডেট সময় : ০৮:৫৫:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

আন্তর্জাতিক বিচার আদালত-আইসিজেতে রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে সামরিক অভিযানের পক্ষেই সাফাই গাইলো মিয়ানমার। রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে চালানো অভিযানকে বৈধ বলেও দাবি করেছে দেশটি।২০১৭ সালের আগস্ট মাসে রোহিঙ্গা বিদ্রোহী গোষ্ঠীর হামলার অভিযোগ এনে রাখাইনে অভিযান শুরু করে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী। অভিযানে গণহত্যা, যৌন নিপীড়ন এবং বাড়িঘর-গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়ার অভিযোগ ওঠে।মিয়ানমার সেনাদের আগ্রাসনকে জাতিগত নির্মূল অভিহিত করে জাতিসংঘের তদন্তে বলা হয় স্পষ্ট গণহত্যার উদ্দেশ্যই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল। ওই সময় প্রায় ১০ হাজার মানুষ নিহত হন বলে সংস্থাটির তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসে।জীবন বাঁচাতে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। এর প্রেক্ষিতে গণহত্যার অভিযোগ এনে ২০১৯ সালে মামলা করে আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া।আন্তর্জাতিক বিচার আদালত-আইসিজেতে চলছে সেই মামলার শুনানি। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) অভিযানের পক্ষে সাফাই গেয়ে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অভিযানকে গণহত্যা বলা যায় না বলে দাবি করেন মিয়ানমারের প্রতিনিধি কো কো হ্লাইং।

তিনি বলেন, বিদ্রোহী গোষ্ঠীর হামলার জবাবে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান চালানো হয়েছিল। সেই অভিযানকে বৈধ দাবি করে গাম্বিয়া রোহিঙ্গা গণহত্যা প্রমাণ করতে পারেনি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।গেল সোমবার শুনানি শুরুর সময় গাম্বিয়ার বিচারমন্ত্রী দাউদা জাল্লো বলেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে দশকের পর দশক ভয়াবহ নিপীড়নের করছে মিয়ানমার। তবে গাম্বিয়ার উপস্থাপিত প্রমাণ প্রত্যাখ্যান করেছে দেশটি। এমনকি জাতিসংঘের তদন্ত মিশনের প্রতিবেদনও অভিযোগ প্রমাণের প্রয়োজনীয় মানদণ্ড পূরণ করতে পারেনি বলে দাবি নেইপিদোর।

এদিকে এই মামলার রায় মিয়ানমারের বাইরেও প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে গাজা যুদ্ধ নিয়ে ইসরাইলের বিরুদ্ধে ২০২৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার করা গণহত্যা মামলার ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা তাদের।