ঢাকা ০১:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

শত শত গাড়ি আমদানি, এত কিনছেন কারা?

Live News Bangla71
  • আপডেট সময় : ০৭:০০:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬ ১৮০ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গত ছয় মাসে ৫ হাজার কোটি টাকা মূল্যের ৭ হাজারের বেশি গাড়ি খালাস করে আগের সব রেকর্ড ভেঙেছে চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টম হাউস। এই সময়ের মধ্যে ৬ হাজার ৬৫১টি গাড়ি ছাড় দিয়ে রাজস্ব আদায় হয়েছে প্রায় ১২০০ কোটি টাকা। নির্বাচনের আগমুহূর্তে চাহিদা বাড়ায় গাড়ি আমদানি ও ডেলিভারি-দুটোই বেড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
শত শত গাড়ি আমদানি, এত কিনছেন কারা?

চট্টগ্রাম বন্দরের কার শেড গেটে সারি দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ির দৃশ্য এখন নিত্যদিনের চিত্র। প্রতিদিন গড়ে ৪০ থেকে ৫০টি গাড়ি ডেলিভারি নিচ্ছেন আমদানিকারকরা। বন্দর সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের শুরু জুলাই মাসে চট্টগ্রাম বন্দরে মাত্র ৪৩৯টি গাড়ি আমদানি হলেও পরের মাসেই সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৫০৫টিতে।

সবশেষ ডিসেম্বর মাসে আমদানি হয়েছে ১ হাজার ৫৮টি গাড়ি। হিসাব অনুযায়ী, গত ছয় মাসে ১৬টি বিশেষায়িত রো-রো জাহাজে করে ৮৪১টি ব্র্যান্ড নিউ এবং ৬ হাজার ২২৫টি রিকন্ডিশন গাড়ি আমদানি করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক ওমর ফারুক বলেন, ইদানীং গাড়ির ডেলিভারি খুব দ্রুত হচ্ছে। বর্তমানে বন্দরে মোট গাড়ি রয়েছে মাত্র ৪৭১টি, যার বেশিরভাগই ৩০ দিনের কম সময় ধরে অবস্থান করছে। এখন দ্রুত নিলাম কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ায় ডিউটি কমার আশায় গাড়ি ফেলে রাখার সুযোগ পাচ্ছেন না আমদানিকারকরা। ফলে সবাই দ্রুততম সময়ের মধ্যেই গাড়ি ডেলিভারি নিচ্ছেন।

নিয়ম অনুযায়ী, আমদানি করা গাড়ি ৩০ দিনের মধ্যে ছাড় না করালে তা নিলামের জন্য কাস্টমসের কাছে হস্তান্তর করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে নিলামযোগ্য একেবারে নতুন গাড়ির সংখ্যা মাত্র ১০৩টি।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে গাড়ি আমদানির পাশাপাশি ডেলিভারিও হয়েছে রেকর্ড পরিমাণে। এই সময়ে ৬ হাজার ৬৫১টি গাড়ি ছাড় দিয়ে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস রাজস্ব আদায় করেছে ১ হাজার ১৫৩ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এবার ১ হাজার ৩৪টি গাড়ি বেশি ডেলিভারি হয়েছে এবং রাজস্ব আদায় বেড়েছে ১২৪ কোটি টাকা।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার শরীফ মো. আল আমিন বলেন, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ায় এবং অর্থনৈতিক সূচক উন্নতির দিকে যাওয়ায় গাড়ি আমদানিও বেড়েছে। বিত্তবানদের মধ্যে সৌখিনতার প্রবণতাও বাড়ছে।

বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের দুটি কার শেডে ১ হাজার ২৫০টি গাড়ি রাখার সক্ষমতা থাকলেও ডেলিভারির অপেক্ষায় রয়েছে মাত্র ৪৭১টি গাড়ি। অথচ কয়েক মাস আগেও ডেলিভারি ধীরগতির কারণে অপেক্ষমাণ গাড়ির সংখ্যা দেড় হাজার ছাড়িয়ে যেত। ব্যবসায়ীদের দাবি, বাড়তি ট্যারিফ থেকে বাঁচতেই এখন দ্রুত গাড়ি ছাড় করানো হচ্ছে।

বারভিডার সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান বলেন, ট্যারিফ বাড়ায় ওয়ারফেন্ড ও গুদাম ভাড়া আগের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। এ কারণে গাড়ি আমদানি করার সঙ্গে সঙ্গেই ডেলিভারি নেয়া হচ্ছে। বর্তমানে শখের বসে নয়, বরং করপোরেট ক্লায়েন্টরাই বেশি গাড়ি কিনছেন।

জাপানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশে বছরে ২০ হাজারের বেশি গাড়ি আমদানি হয়। বন্দর অবস্থানকালীন ট্যারিফ তুলনামূলক কম হওয়ায় এসব গাড়ির বড় একটি অংশ খালাস হয় মোংলা বন্দরে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

শত শত গাড়ি আমদানি, এত কিনছেন কারা?

আপডেট সময় : ০৭:০০:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

গত ছয় মাসে ৫ হাজার কোটি টাকা মূল্যের ৭ হাজারের বেশি গাড়ি খালাস করে আগের সব রেকর্ড ভেঙেছে চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টম হাউস। এই সময়ের মধ্যে ৬ হাজার ৬৫১টি গাড়ি ছাড় দিয়ে রাজস্ব আদায় হয়েছে প্রায় ১২০০ কোটি টাকা। নির্বাচনের আগমুহূর্তে চাহিদা বাড়ায় গাড়ি আমদানি ও ডেলিভারি-দুটোই বেড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
শত শত গাড়ি আমদানি, এত কিনছেন কারা?

চট্টগ্রাম বন্দরের কার শেড গেটে সারি দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ির দৃশ্য এখন নিত্যদিনের চিত্র। প্রতিদিন গড়ে ৪০ থেকে ৫০টি গাড়ি ডেলিভারি নিচ্ছেন আমদানিকারকরা। বন্দর সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের শুরু জুলাই মাসে চট্টগ্রাম বন্দরে মাত্র ৪৩৯টি গাড়ি আমদানি হলেও পরের মাসেই সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৫০৫টিতে।

সবশেষ ডিসেম্বর মাসে আমদানি হয়েছে ১ হাজার ৫৮টি গাড়ি। হিসাব অনুযায়ী, গত ছয় মাসে ১৬টি বিশেষায়িত রো-রো জাহাজে করে ৮৪১টি ব্র্যান্ড নিউ এবং ৬ হাজার ২২৫টি রিকন্ডিশন গাড়ি আমদানি করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক ওমর ফারুক বলেন, ইদানীং গাড়ির ডেলিভারি খুব দ্রুত হচ্ছে। বর্তমানে বন্দরে মোট গাড়ি রয়েছে মাত্র ৪৭১টি, যার বেশিরভাগই ৩০ দিনের কম সময় ধরে অবস্থান করছে। এখন দ্রুত নিলাম কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ায় ডিউটি কমার আশায় গাড়ি ফেলে রাখার সুযোগ পাচ্ছেন না আমদানিকারকরা। ফলে সবাই দ্রুততম সময়ের মধ্যেই গাড়ি ডেলিভারি নিচ্ছেন।

নিয়ম অনুযায়ী, আমদানি করা গাড়ি ৩০ দিনের মধ্যে ছাড় না করালে তা নিলামের জন্য কাস্টমসের কাছে হস্তান্তর করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে নিলামযোগ্য একেবারে নতুন গাড়ির সংখ্যা মাত্র ১০৩টি।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে গাড়ি আমদানির পাশাপাশি ডেলিভারিও হয়েছে রেকর্ড পরিমাণে। এই সময়ে ৬ হাজার ৬৫১টি গাড়ি ছাড় দিয়ে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস রাজস্ব আদায় করেছে ১ হাজার ১৫৩ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এবার ১ হাজার ৩৪টি গাড়ি বেশি ডেলিভারি হয়েছে এবং রাজস্ব আদায় বেড়েছে ১২৪ কোটি টাকা।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার শরীফ মো. আল আমিন বলেন, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ায় এবং অর্থনৈতিক সূচক উন্নতির দিকে যাওয়ায় গাড়ি আমদানিও বেড়েছে। বিত্তবানদের মধ্যে সৌখিনতার প্রবণতাও বাড়ছে।

বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের দুটি কার শেডে ১ হাজার ২৫০টি গাড়ি রাখার সক্ষমতা থাকলেও ডেলিভারির অপেক্ষায় রয়েছে মাত্র ৪৭১টি গাড়ি। অথচ কয়েক মাস আগেও ডেলিভারি ধীরগতির কারণে অপেক্ষমাণ গাড়ির সংখ্যা দেড় হাজার ছাড়িয়ে যেত। ব্যবসায়ীদের দাবি, বাড়তি ট্যারিফ থেকে বাঁচতেই এখন দ্রুত গাড়ি ছাড় করানো হচ্ছে।

বারভিডার সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান বলেন, ট্যারিফ বাড়ায় ওয়ারফেন্ড ও গুদাম ভাড়া আগের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। এ কারণে গাড়ি আমদানি করার সঙ্গে সঙ্গেই ডেলিভারি নেয়া হচ্ছে। বর্তমানে শখের বসে নয়, বরং করপোরেট ক্লায়েন্টরাই বেশি গাড়ি কিনছেন।

জাপানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশে বছরে ২০ হাজারের বেশি গাড়ি আমদানি হয়। বন্দর অবস্থানকালীন ট্যারিফ তুলনামূলক কম হওয়ায় এসব গাড়ির বড় একটি অংশ খালাস হয় মোংলা বন্দরে।