সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা ছাড়াল রেনাটার বার্ষিক ব্যবসা
- আপডেট সময় : ০৭:২২:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ৩৫ বার পড়া হয়েছে
দেশের ওষুধ খাতের অন্যতম প্রতিষ্ঠান রেনাটা লিমিটেড ব্যবসায়িক সাফল্যের নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছর শেষে কোম্পানিটির মোট ব্যবসার পরিমাণ প্রথমবারের মতো সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার সীমা অতিক্রম করেছে। সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে রেনাটা ৪ হাজার ৬২০ কোটি টাকার পণ্য বিক্রি ও ব্যবসা করেছে। এর আগের অর্থাৎ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কোম্পানিটির ব্যবসা ৪ হাজার ২৮৯ কোটি টাকা স্পর্শ করেছিল, যা ছিল প্রথমবার ৪ হাজার কোটি টাকা অতিক্রমের ঘটনা। এবার সেই ধারা বজায় রেখে ব্যবসা আরও ৩৩১ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। এদিকে এক বছরে আয় ৩৩১ কোটি টাকা বৃদ্ধি পাওয়ায় কোম্পানিটির মুনাফাও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে।
দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক চিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত দশ বছরে রেনাটার ব্যবসায় প্রবৃদ্ধির হার ছিল বেশ শক্তিশালী। ২০১৫ সালে কোম্পানিটির বার্ষিক আয় ছিল ১ হাজার ৪৭৪ কোটি টাকা। সেখান থেকে গত অর্থবছর পর্যন্ত দশ বছরে কোম্পানিটির ব্যবসা ৩ হাজার ১৩৬ কোটি টাকা বা তিন গুণের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি কোম্পানিটিকে ওষুধ শিল্পের বাজারে শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে গেছে। রেনাটার গত ১০ বছরের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১৫ সালে কোম্পানিটি আয় বা ব্যবসা করেছিল ১ হাজার ৪৭৪ কোটি টাকার।
ব্যবসা প্রসারের পাশাপাশি কোম্পানিটির নিট মুনাফাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। গত অর্থবছর শেষে রেনাটার মোট মুনাফার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৬৪ কোটি টাকায়। আগের অর্থবছরে এই মুনাফার অংক ছিল ২২২ কোটি টাকা। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির মুনাফা ১৪২ কোটি টাকা বা প্রায় ৬৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওষুধের দাম না বাড়িয়ে মূলত পরিচালন দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বিক্রয় বৃদ্ধির কৌশল অবলম্বন করায় এই ব্যবসায়িক সাফল্য অর্জিত হয়েছে। সার্বিকভাবে গত এক বছরে কোম্পানিটির আয় ৭ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। এই প্রবৃদ্ধিতে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারের অবদান সবচেয়ে বেশি; স্থানীয় বাজার থেকে রেনাটার আয় ১১ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
দেশের বাইরের বাজারেও রেনাটার পদচারণা বেশ উজ্জ্বল। কোম্পানিটির সহযোগী প্রতিষ্ঠান রেনাটা ফার্মাসিউটিক্যালস আয়ারল্যান্ডের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২ দশমিক ২ শতাংশ। এছাড়া যুক্তরাজ্যভিত্তিক বাজারেও কোম্পানিটি ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। দেশি-বিদেশি উভয় বাজারে সমান তালে এগিয়ে যাওয়াই তাদের বর্তমান সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হিসেবে কাজ করেছে।


























