সৌদি আরামকোর দপ্তরে হামলা, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি
- আপডেট সময় : ০৮:২৭:২২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ২৮ বার পড়া হয়েছে
সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর প্রশাসনিক দপ্তরে হুতি বিদ্রোহীদের হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। ইয়েমেনের এই ইরানপন্থী বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে সৌদি আরবের চলমান সংঘাত তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটাতে পারে—এমন আশঙ্কায় আজ বুধবার তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী। এর পাশাপাশি সৌদি পূর্বাঞ্চলীয় দাহরান শহরে হামলার ঘটনায় বাজার সংশ্লিষ্টদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
আজ সকালে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৯ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ১০৬ ডলার ৫৮ সেন্টে পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ৮০ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৯৪ ডলার ৯৪ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। উল্লেখ্য, মঙ্গলবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ কমলেও ডব্লিউটিআইয়ের দর শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল।
নিসান সিকিউরিটিজ ইনভেস্টমেন্টের প্রধান কৌশলবিদ হিরোয়ুকি কিকুকাওয়া জানান, হুতিদের সঙ্গে সংঘাতের কারণেই মূলত সরবরাহ নিয়ে ভীতি বাড়ছে। তবে রাশিয়া থেকে ডিজেল রপ্তানি বাড়লে পরিস্থিতির কিছুটা ভারসাম্য আসার সম্ভাবনা রয়েছে। কিকুকাওয়ার মতে, ডব্লিউটিআইয়ের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ থেকে ১০০ ডলারের পরিসরে ওঠানামা করতে পারে এবং দামে বড় ধরনের অস্থিরতার সম্ভাবনা কম।
ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সৌদি আরব সরকারি বাহিনীকে সমর্থন করায় সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বাড়িয়েছে হুতি বিদ্রোহীরা। গত শনিবার রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হওয়া হামলায় ১৩ জন নিহত হন। সৌদি আরবের তথ্যানুযায়ী, সেখানে চারবার হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে, ওপেক ও ওপেক প্লাস জোটের উৎপাদন বৃদ্ধির তথ্য গত মঙ্গলবার নিশ্চিত করা হয়েছে। গত মাসে সৌদি আরব নিজেই তেল উৎপাদন বাড়িয়েছিল বলে ওপেকের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ফলে পেট্রোলিয়াম রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংস্থা ওপেক ও মিত্রদেশগুলোর জোট ওপেক প্লাসের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে গতকাল মঙ্গলবার জানিয়েছে ওপেক।
তেল পরিবহনের কৌশল এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের বিষয়টি নিয়েও নতুন মেরুকরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ইরানের দুজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রভাব ফেলা এবং তেলের দাম চড়া রাখার কৌশল হিসেবে ইরান এই জলপথে জাহাজ চলাচলে কৌশলগত পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছে। একইসঙ্গে রাশিয়ার সরকারি ভাষ্য অনুযায়ী, ইউক্রেনের সঙ্গে শান্তি আলোচনার সাথে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেল রপ্তানি চুক্তির কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই। যদিও এর আগে মার্কিন প্রতিনিধিরা ইউক্রেনকে জানিয়েছিলেন, রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল কেনার চুক্তি মূলত মস্কোকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনার একটি কৌশলগত অংশ।


























