হরমুজ প্রণালি ও গাজায় যৌথ আহ্বান কাতার-ফ্রান্সের
- আপডেট সময় : ০৭:৩১:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ৩১ বার পড়া হয়েছে
হরমুজ প্রণালিতে কোনো ধরনের শুল্ক বা বাধা ছাড়াই আন্তর্জাতিক নৌযান চলাচল নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছে কাতার ও ফ্রান্স। একই সঙ্গে গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা, ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহার এবং পৌঁছানোর বাধা দূর করার জোরালো দাবি জানিয়েছে দেশ দুটি। দোহায় কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর বুধবার (২১ অক্টোবর) এক যৌথ বিবৃতিতে এসব বিষয় স্পষ্ট করা হয়। গাজায় যুদ্ধবিরতি ও মানবিক সহায়তার আহ্বান।
যৌথ বিবৃতিতে দুই দেশের শীর্ষ নেতা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষা ও বৈশ্বিক বাণিজ্য অবাধ রাখার তাগিদ দেন। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন রাষ্ট্রের ওপর ইরানের সামরিক হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের মারাত্মক লঙ্ঘন আখ্যা দিয়ে তার তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেন তাঁরা। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও নৌ চলাচলের স্বার্থে এ পথ উন্মুক্ত রাখা জরুরি বলেও তাঁদের অবস্থানে প্রতিফলিত হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই সামরিক উত্তেজনা হ্রাস করা ও হরমুজ প্রণালি দিয়ে সাধারণ জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে কূটনৈতিক পদক্ষেপের বিষয়টি পূর্বে উল্লেখ করেছিলেন কাতারের মধ্যস্থতাকারী ইব্রাহিম বিন সুলতান আল-হাশমি। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দেওয়া তাঁর সেই বক্তব্যের পরদিন বুধবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানান, তেহরান কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসনে নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে প্রস্তুত রয়েছে।
গাজা ভূখণ্ডের চলমান সংকটে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে কাতার ও ফ্রান্সের বিবৃতিতে জানানো হয়, অবরুদ্ধ অঞ্চলে শর্তহীনভাবে জরুরি ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) জানিয়েছে, গাজার মোট জনসংখ্যার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ অন্তত ১৪ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্যসংকটে দিন কাটাচ্ছেন।
ফরাসি ও কাতারি পক্ষ থেকে পশ্চিম তীরকে দখল করে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত করার যেকোনো চেষ্টার স্পষ্ট বিরোধিতা করা হয়। পাশাপাশি অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ এবং বসতি স্থাপনকারীদের সহিংস কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধের যৌথ দাবি জানানো হয়েছে।
সংকট মেটাতে আন্তর্জাতিক আইন অনুসরণ এবং কূটনৈতিক আলোচনার তাগিদ দেওয়ার পাশাপাশি আঞ্চলিক বেশ কিছু বিষয় আলোচনায় এসেছে। সম্প্রতি ভিসা নীতিতে পরিবর্তন এনে ১০ বছরের দীর্ঘমেয়াদি ভিসা চালু করেছে কাতার। দেশের আকাশসীমায় ড্রোন ওড়ানোর ক্ষেত্রে কঠোর আইনি বিধান রাখা হয়েছে, যেখানে অনুমতি ছাড়া ড্রোন চালালে সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড ও ৩ লাখ রিয়াল জরিমানার বিধান রয়েছে।
কাতারের অর্থনৈতিক অগ্রগতির ধারায় দেশটির ৯ জন শীর্ষ করপোরেট ব্যক্তিত্ব মধ্যপ্রাচ্যের শীর্ষ ১০০ ব্যবসায়িক নেতার তালিকায় স্থান পেয়েছেন। এ ছাড়া দেশটির ডিজিটাল লেনদেন আধুনিকায়নে স্যামসাং ওয়ালেটে জাতীয় পেমেন্ট কার্ড ‘হিময়ান’ যুক্ত করা হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে লাইসেন্সবিহীন ওষুধ বিক্রি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থার পাশাপাশি জুমার নামাজের সময় সব দোকান ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান সাময়িক বন্ধ রাখার নতুন নিয়মও বলবৎ করা হয়েছে।
























