রমজানের অন্যতম আমল দান-সদকা: কারা এর প্রকৃত প্রাপ্য?
- আপডেট সময় : ০৬:৫৬:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ২০৩ বার পড়া হয়েছে
সাহাবায়ে কেরাম এ কথা শুনে বললেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ! আমাদের অনেকেরই রোজাদারকে ইফতার করানোর সামর্থ্য নেই।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, পানিমিশ্রিত এক কাপ দুধ বা একটি শুকনো খেজুর অথবা এক ঢোক পানি দিয়েও যদি কেউ কোনো রোজাদারকে ইফতার করায়, তাতেও আল্লাহ তাকে সেই পরিমাণ সওয়াব দান করবেন।
আর যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে তৃপ্তিসহকারে আহার করাবে, আল্লাহতাআলা তাকে আমার হাউসে কাউসার থেকে এমন পানীয় পান করাবেন, যার ফলে সে জান্নাতে প্রবেশ করার আগ পর্যন্ত তৃষ্ণার্ত হবে না।
এই হাদিসের আলোকে বুঝা যায়, অন্যকে ইফতার করানো অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল। কারণ ইফতার করানোর কারণে সারা দিন উপোস থেকে রোজা রাখার মাধ্যমে রোজাদার যে সওয়াব পাবে।
শুধু ইফতার করানোর কারণে ওই ব্যক্তির রোজাদারের সমান সওয়াব পাবে। এর চেয়ে ফজিলতপূর্ণ আমল ও সওয়াবের কাজ আর কী হতে পারে।
রমজানে মিলবে যেভাবে পূর্ণরাত ইবাদতের সওয়াব:
প্রতিটি মুসলমানের জন্যই মাহে রমজানের প্রতিটি মুহূর্ত মূল্যবান। আল্লাহভীরু মুমিনদের প্রিয় অভ্যাস রাত জেগে ইবাদত করা যা রমজানে আরও বেড়ে যায়। তবে কর্মব্যস্ত লোকরা দিনের বেলায় পরিশ্রম করার কারণে রাত জাগতে পারেন না।
বিশেষত আমাদের দেশের কর্মজীবী সাধারণ মানুষ রমজানে রোজা পালন করার পর সারা দিনের কর্মব্যস্ততায় রাত জাগতে পারে না ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও। তাদের জন্য এমন আমলের আলোচনা করা হলো যা করলে সারা রাত না জেগেও আমল করার পূর্ণ সওয়াব পাবেন।
রমজানে যেসব কাজে বেশি সওয়াব:
নবীজি (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি রাতে ১০০টি আয়াত তেলাওয়াত করবে, আল্লাহতায়ালা তাকে সারা রাত ইবাদতের সমান সওয়াব দান করবেন। (সহিহুল জামে)।
কুরআনুল কারিমের যে কোনো সুরা বা স্থান থেকে ১০০টি আয়াত তেলাওয়াত করলেই সারা রাত জেগে আমল করার সওয়াব পাওয়া যাবে। আল্লাহতায়ালা আমাদের এ সহজ আমলগুলো করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
রমজানে বেশি সওয়াবের আশায় যেসব সহজ আমল করা যেতে পারে:
পবিত্র মাহে রমজানে প্রত্যেক মুসলমানের ইচ্ছে থাকে হাজার বছরের চেয়ে উত্তম এই মাসে আমল করে সওয়াব অর্জন করা। মহান আল্লাহ রমজানে প্রতিটি আমলের জন্য বাড়তি সওয়াব দান করেন। তাই এই মাসে অধিক পরিমাণ আমলের মাধ্যমে বিপুল সওয়াব অর্জনের সুযোগ রয়েছে।
রমজানে সহজেই করা যায়, এমন কিছু আমল হলো-তাকওয়া অর্জন করা। তাকওয়া আল্লাহর ভয়ে বান্দাকে যাবতীয় পাপ কাজ থেকে বিরত রাখে এবং তার আদেশ মানতে বাধ্য করে।
ফজরের পর সূর্যোদয় পর্যন্ত মাসজিদে অবস্থান করা অনেক সওয়াবের কাজ। যে ব্যক্তি জামাতের সঙ্গে ফজরের নামাজ আদায় করার পর সূর্যোদয় পর্যন্ত মসজিদে অবস্থান করবে, অতঃপর দুই রাকাআত নামাজ পড়বে, সে পরিপূর্ণ হজ ও ওমরাহ করার সওয়াব পাবে।
এ ছাড়াও কোরআন তেলওয়াত, মুখস্থ বা হিফজ করাও অনেক গুরুত্বপূর্ণ আমল। রমজান মাসে বেশি বেশি আল্লাহর জিকির করলে অনেক সওয়াব পাওয়া যায় এবং গুনাহ মাফ হয়।


























