ঢাকা ১০:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

শীতে পানিশূন্যতা রোধে যেসব লক্ষণে সতর্ক হওয়া জরুরি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৩৫:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শীতের মৌসুমে আবহাওয়া শুষ্ক থাকায় এবং তৃষ্ণা তুলনামূলক কম পাওয়ায় মানুষ পর্যাপ্ত পানি পান করতে ভুলে যান। এর ফলে অজান্তেই শরীরে পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশনের সমস্যা তৈরি হতে পারে। অনেকে মনে করেন শীতে প্রচুর পানি পান করার প্রয়োজন নেই, কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা বজায় রাখতে ও বিপাক প্রক্রিয়া সচল রাখতে এই ঋতুতেও পানির চাহিদা অপরিবর্তিত থাকে। পর্যাপ্ত পানির অভাবে শরীরের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রেও বয়স ও শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী উপযুক্ত তরল দিতে হবে।

শরীরে পানির অভাব হলে প্রথমেই মূত্রের রঙে পরিবর্তন আসে। স্বাভাবিকের চেয়ে গাঢ় হলুদ রঙের প্রস্রাব পানিশূন্যতার একটি বড় সংকেত। এছাড়া সারাদিন ক্লান্তি অনুভব করা, মাথাব্যথা এবং ঝিমুনি ভাবও পানিশূন্যতার প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে গণ্য হয়। অনেক সময় ত্বকে শুষ্কতা বেড়ে যাওয়া, ঠোঁট ফাটা এবং মুখ শুকিয়ে যাওয়ার মতো সমস্যাগুলোকেও অবহেলা করা উচিত নয়। দীর্ঘস্থায়ী পানিশূন্যতার কারণে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাও প্রকট হতে পারে, যা শীতকালে বেশ সাধারণ একটি স্বাস্থ্য জটিলতা। শিশুদের ক্ষেত্রে মাথার নরম অংশ বসে যাওয়া, কান্নার সময় চোখ দিয়ে পানি না পড়া এবং ডায়াপার স্বাভাবিকের তুলনায় শুকনো থাকা পানিশূন্যতার ইঙ্গিত দিতে পারে। গুরুতর লক্ষণ চিনবেন যেভাবে শরীরে পানির ঘাটতি বেড়ে গেলে প্রস্রাব একেবারে বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

পানিশূন্যতা এড়াতে তৃষ্ণার অপেক্ষা না করে নিয়ম করে পানি পান করা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ফলের রস, ডাবের পানি বা কুসুম গরম পানি রাখার। কেবল সাধারণ পানিই নয়, বরং শরীর হাইড্রেটেড রাখতে পর্যাপ্ত সবজি ও ফলমূল গ্রহণ করাও বেশ সহায়ক। যদি শরীর অতিরিক্ত দুর্বল লাগে, মাথা ঘোরে বা প্রস্রাব একেবারেই কমে যায়, তবে তা পানিশূন্যতার গুরুতর পর্যায় নির্দেশ করতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা উচিত। সচেতনতা ও নিয়মিত পানি পানের অভ্যাসই পারে শীতে সুস্থ থাকতে সাহায্য করতে। সময়মতো এসব লক্ষণ চিনতে না পারলে পানিশূন্যতা গুরুতর আকার ধারণ করতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

শীতে পানিশূন্যতা রোধে যেসব লক্ষণে সতর্ক হওয়া জরুরি

আপডেট সময় : ০৬:৩৫:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

শীতের মৌসুমে আবহাওয়া শুষ্ক থাকায় এবং তৃষ্ণা তুলনামূলক কম পাওয়ায় মানুষ পর্যাপ্ত পানি পান করতে ভুলে যান। এর ফলে অজান্তেই শরীরে পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশনের সমস্যা তৈরি হতে পারে। অনেকে মনে করেন শীতে প্রচুর পানি পান করার প্রয়োজন নেই, কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা বজায় রাখতে ও বিপাক প্রক্রিয়া সচল রাখতে এই ঋতুতেও পানির চাহিদা অপরিবর্তিত থাকে। পর্যাপ্ত পানির অভাবে শরীরের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রেও বয়স ও শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী উপযুক্ত তরল দিতে হবে।

শরীরে পানির অভাব হলে প্রথমেই মূত্রের রঙে পরিবর্তন আসে। স্বাভাবিকের চেয়ে গাঢ় হলুদ রঙের প্রস্রাব পানিশূন্যতার একটি বড় সংকেত। এছাড়া সারাদিন ক্লান্তি অনুভব করা, মাথাব্যথা এবং ঝিমুনি ভাবও পানিশূন্যতার প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে গণ্য হয়। অনেক সময় ত্বকে শুষ্কতা বেড়ে যাওয়া, ঠোঁট ফাটা এবং মুখ শুকিয়ে যাওয়ার মতো সমস্যাগুলোকেও অবহেলা করা উচিত নয়। দীর্ঘস্থায়ী পানিশূন্যতার কারণে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাও প্রকট হতে পারে, যা শীতকালে বেশ সাধারণ একটি স্বাস্থ্য জটিলতা। শিশুদের ক্ষেত্রে মাথার নরম অংশ বসে যাওয়া, কান্নার সময় চোখ দিয়ে পানি না পড়া এবং ডায়াপার স্বাভাবিকের তুলনায় শুকনো থাকা পানিশূন্যতার ইঙ্গিত দিতে পারে। গুরুতর লক্ষণ চিনবেন যেভাবে শরীরে পানির ঘাটতি বেড়ে গেলে প্রস্রাব একেবারে বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

পানিশূন্যতা এড়াতে তৃষ্ণার অপেক্ষা না করে নিয়ম করে পানি পান করা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ফলের রস, ডাবের পানি বা কুসুম গরম পানি রাখার। কেবল সাধারণ পানিই নয়, বরং শরীর হাইড্রেটেড রাখতে পর্যাপ্ত সবজি ও ফলমূল গ্রহণ করাও বেশ সহায়ক। যদি শরীর অতিরিক্ত দুর্বল লাগে, মাথা ঘোরে বা প্রস্রাব একেবারেই কমে যায়, তবে তা পানিশূন্যতার গুরুতর পর্যায় নির্দেশ করতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা উচিত। সচেতনতা ও নিয়মিত পানি পানের অভ্যাসই পারে শীতে সুস্থ থাকতে সাহায্য করতে। সময়মতো এসব লক্ষণ চিনতে না পারলে পানিশূন্যতা গুরুতর আকার ধারণ করতে পারে।