ঢাকা ১০:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

মুখের সতেজতা, নাকি হজমেও উপকারী: খাবার শেষে এলাচ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৩১:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬ ২৮ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

খাবার শেষে এলাচ চিবানোর অভ্যাস দীর্ঘদিনের। বিরিয়ানি কিংবা কাবাবের মতো মসলাদার খাবার খাওয়ার পর এলাচের তীব্র সুবাস মুখে এক ধরনের সতেজ অনুভূতি নিয়ে আসে এবং খাবারের অবশিষ্ট গন্ধ দূর করতে সাহায্য করে। তবে অনেকেরই প্রশ্ন, কেবল মুখের স্বাদ বদলানোর বাইরে এই ছোট্ট মসলাটি কি আসলেই হজমপ্রক্রিয়ায় কোনো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে? খাওয়ার সময় মুখে এলাচ পড়লে অনেকেই বিরক্ত হন। খাবারের পর পেট ভার লাগা, গ্যাস কিংবা পেটের অস্বস্তি অনেকেরই পরিচিত সমস্যা। প্রতিদিনের অভ্যাসে এলাচ রাখবেন যেভাবে।

এলাচের স্বতন্ত্র সুগন্ধের পেছনে রয়েছে অপরিহার্য তেল বা এসেনশিয়াল অয়েল, যার মধ্যে সিনিওল (১,৮-সিনিওল) ও টারপিনাইল অ্যাসিটেটের মতো কিছু সুগন্ধি যৌগ থাকে।

এলাচের জাত এবং তা উৎপাদনের পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে এসব যৌগের মাত্রায় ভিন্নতা দেখা যায়।

ঐতিহ্যগতভাবেই দক্ষিণ এশিয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলে হজমজনিত অস্বস্তি কমাতে এলাচ ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে। কিছু গবেষণায় ল্যাবরেটরির পরিবেশে মসৃণ পেশি শিথিল করার ক্ষেত্রে এলাচের সম্ভাব্য কিছু গুণের কথা উঠে এসেছে, যা পরোক্ষভাবে হজমপ্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত হতে পারে। তবে এই ফলাফলগুলো সরাসরি মানুষের শরীরের ক্ষেত্রে একইভাবে কার্যকর হবে কি না, তা নিয়ে নিশ্চিত হওয়ার মতো পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। যদিও এসব উপকারিতা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

এলাচে থাকা কিছু উদ্ভিজ্জ যৌগের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যও বিজ্ঞানীদের গবেষণার বিষয়। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের কোষকে ক্ষতিকর অক্সিডেটিভ প্রক্রিয়ার প্রভাব থেকে রক্ষা করতে ভূমিকা রাখে। তবে পরীক্ষাগারে অর্জিত ফলাফল থেকে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ভুল হবে যে, সাধারণ পরিমাণে এলাচ খেলে কোনো নির্দিষ্ট রোগের চিকিৎসায় তা কার্যকর ওষুধ হিসেবে কাজ করবে। তাই এলাচকে রোগের বিকল্প চিকিৎসা না ভেবে সুষম খাদ্যাভ্যাসের একটি সুগন্ধি অনুষঙ্গ হিসেবে গ্রহণ করাই শ্রেয়।

এলাচ চিবানোর আরেকটি তাৎক্ষণিক প্রভাব হলো মুখে লালা নিঃসরণ বৃদ্ধি পাওয়া, যা খাবার গিলতে ও মুখের অম্লতা সাময়িকভাবে প্রশমিত করতে সহায়তা করে। কিন্তু যাঁদের নিয়মিত বুকজ্বালা বা অ্যাসিড রিফ্লাক্সের মতো সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এলাচ কোনো স্থায়ী বা নির্ভরযোগ্য প্রতিকার নয়। বারবার এ ধরনের সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। তবে শুধু এলাচ চিবালেই খাদ্যনালির অ্যাসিড পুরোপুরি দূর হয়ে যায়, এমন নয়।

দৈনন্দিন অভ্যাসের অংশ হিসেবে খাবারের পর একটি ছোট এলাচ চিবিয়ে খাওয়া যেতেই পারে, যদি তাতে ব্যক্তিগত কোনো শারীরিক অস্বস্তি না হয়। তবে এর বেশি গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা নেই। একইসাথে মনে রাখা জরুরি যে, রান্নায় ব্যবহৃত এলাচ এবং ঘনীভূত এসেনশিয়াল অয়েল এক বিষয় নয়; চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এসেনশিয়াল অয়েল গ্রহণ করা উচিত নয়।

পরিশেষে, হজমের সমস্যা দূর করার জন্য কেবল এলাচের ওপর নির্ভর না করাই ভালো। সুস্থ হজমপ্রক্রিয়া বজায় রাখতে সুষম খাবার খাওয়া, পরিমিত আহার করা, প্রচুর পানি পান করা এবং খাওয়ার পরপরই শুয়ে না পড়ার মতো স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন পদ্ধতি মেনে চলা বেশি জরুরি। এলাচ আপনার খাবারের স্বাদ ও মুখের সতেজতা বাড়াতে পারে, তবে এর বাইরের কোনো অলৌকিক স্বাস্থ্যগত প্রত্যাশা রাখা বাস্তবসম্মত নয়। তবে মুখের সতেজতা ছাড়াও হজমে স্বস্তি দিতে পারে কি এই ছোট্ট মসলা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

মুখের সতেজতা, নাকি হজমেও উপকারী: খাবার শেষে এলাচ

আপডেট সময় : ০৭:৩১:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

খাবার শেষে এলাচ চিবানোর অভ্যাস দীর্ঘদিনের। বিরিয়ানি কিংবা কাবাবের মতো মসলাদার খাবার খাওয়ার পর এলাচের তীব্র সুবাস মুখে এক ধরনের সতেজ অনুভূতি নিয়ে আসে এবং খাবারের অবশিষ্ট গন্ধ দূর করতে সাহায্য করে। তবে অনেকেরই প্রশ্ন, কেবল মুখের স্বাদ বদলানোর বাইরে এই ছোট্ট মসলাটি কি আসলেই হজমপ্রক্রিয়ায় কোনো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে? খাওয়ার সময় মুখে এলাচ পড়লে অনেকেই বিরক্ত হন। খাবারের পর পেট ভার লাগা, গ্যাস কিংবা পেটের অস্বস্তি অনেকেরই পরিচিত সমস্যা। প্রতিদিনের অভ্যাসে এলাচ রাখবেন যেভাবে।

এলাচের স্বতন্ত্র সুগন্ধের পেছনে রয়েছে অপরিহার্য তেল বা এসেনশিয়াল অয়েল, যার মধ্যে সিনিওল (১,৮-সিনিওল) ও টারপিনাইল অ্যাসিটেটের মতো কিছু সুগন্ধি যৌগ থাকে।

এলাচের জাত এবং তা উৎপাদনের পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে এসব যৌগের মাত্রায় ভিন্নতা দেখা যায়।

ঐতিহ্যগতভাবেই দক্ষিণ এশিয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলে হজমজনিত অস্বস্তি কমাতে এলাচ ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে। কিছু গবেষণায় ল্যাবরেটরির পরিবেশে মসৃণ পেশি শিথিল করার ক্ষেত্রে এলাচের সম্ভাব্য কিছু গুণের কথা উঠে এসেছে, যা পরোক্ষভাবে হজমপ্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত হতে পারে। তবে এই ফলাফলগুলো সরাসরি মানুষের শরীরের ক্ষেত্রে একইভাবে কার্যকর হবে কি না, তা নিয়ে নিশ্চিত হওয়ার মতো পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। যদিও এসব উপকারিতা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

এলাচে থাকা কিছু উদ্ভিজ্জ যৌগের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যও বিজ্ঞানীদের গবেষণার বিষয়। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের কোষকে ক্ষতিকর অক্সিডেটিভ প্রক্রিয়ার প্রভাব থেকে রক্ষা করতে ভূমিকা রাখে। তবে পরীক্ষাগারে অর্জিত ফলাফল থেকে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ভুল হবে যে, সাধারণ পরিমাণে এলাচ খেলে কোনো নির্দিষ্ট রোগের চিকিৎসায় তা কার্যকর ওষুধ হিসেবে কাজ করবে। তাই এলাচকে রোগের বিকল্প চিকিৎসা না ভেবে সুষম খাদ্যাভ্যাসের একটি সুগন্ধি অনুষঙ্গ হিসেবে গ্রহণ করাই শ্রেয়।

এলাচ চিবানোর আরেকটি তাৎক্ষণিক প্রভাব হলো মুখে লালা নিঃসরণ বৃদ্ধি পাওয়া, যা খাবার গিলতে ও মুখের অম্লতা সাময়িকভাবে প্রশমিত করতে সহায়তা করে। কিন্তু যাঁদের নিয়মিত বুকজ্বালা বা অ্যাসিড রিফ্লাক্সের মতো সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এলাচ কোনো স্থায়ী বা নির্ভরযোগ্য প্রতিকার নয়। বারবার এ ধরনের সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। তবে শুধু এলাচ চিবালেই খাদ্যনালির অ্যাসিড পুরোপুরি দূর হয়ে যায়, এমন নয়।

দৈনন্দিন অভ্যাসের অংশ হিসেবে খাবারের পর একটি ছোট এলাচ চিবিয়ে খাওয়া যেতেই পারে, যদি তাতে ব্যক্তিগত কোনো শারীরিক অস্বস্তি না হয়। তবে এর বেশি গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা নেই। একইসাথে মনে রাখা জরুরি যে, রান্নায় ব্যবহৃত এলাচ এবং ঘনীভূত এসেনশিয়াল অয়েল এক বিষয় নয়; চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এসেনশিয়াল অয়েল গ্রহণ করা উচিত নয়।

পরিশেষে, হজমের সমস্যা দূর করার জন্য কেবল এলাচের ওপর নির্ভর না করাই ভালো। সুস্থ হজমপ্রক্রিয়া বজায় রাখতে সুষম খাবার খাওয়া, পরিমিত আহার করা, প্রচুর পানি পান করা এবং খাওয়ার পরপরই শুয়ে না পড়ার মতো স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন পদ্ধতি মেনে চলা বেশি জরুরি। এলাচ আপনার খাবারের স্বাদ ও মুখের সতেজতা বাড়াতে পারে, তবে এর বাইরের কোনো অলৌকিক স্বাস্থ্যগত প্রত্যাশা রাখা বাস্তবসম্মত নয়। তবে মুখের সতেজতা ছাড়াও হজমে স্বস্তি দিতে পারে কি এই ছোট্ট মসলা।