স্কুল ছুটির পর শিশুকে কেন রাস্তার খাবার দেবেন না
- আপডেট সময় : ১২:১২:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬ ৪২ বার পড়া হয়েছে
স্কুল ছুটির সময় যেকোনো স্কুলগেটের সামনে তাকালেই দৃশ্যটি চোখে পড়ে। শিশুরা অভিভাবকের হাত ধরে বের হয়ে গেটের পাশের ভ্যান বা দোকানের খাবার খাচ্ছে। অনেক সময় অভিভাবকেরাও সন্তানের সঙ্গে এসব খাবার খাচ্ছেন। কিন্তু এই অভ্যাস শিশুর পাশাপাশি অভিভাবকের দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যহানির কারণ হতে পারে। স্কুলে পাঁচ-ছয় ঘণ্টা কাটানোর পর শিশুর ক্ষুধা লাগা স্বাভাবিক। অনেকে টিফিনের পুরোটা খায় না বা সকালের নাশতা না খেয়ে স্কুলে যায়। স্কুল ছুটির মুহূর্তে সামনে যা পাওয়া যায়, সেটিই শিশুর কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় মনে হয়। রাস্তার খাবার সহজলভ্য ও মুখরোচক হওয়ায় শিশুরা দ্রুত সেদিকে আকৃষ্ট হয়। কিন্তু এই ক্ষুধা মেটানোর জন্য হাতের কাছে স্বাস্থ্যকর বিকল্প থাকা জরুরি। অনেক শিশু টিফিনের পুরোটা খায় না, কেউ খেলাধুলায় ব্যস্ত থাকে, কেউ আবার পুরো টিফিনই ফেরত নিয়ে আসে। সেই মুহূর্তে সামনে যা পাওয়া যায়, সেটিই সবচেয়ে আকর্ষণীয় মনে হয়। অর্থাৎ সমস্যাটি শুধু শিশুর খাবার বেছে নেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ঢাকার এই হাসপাতালে আমার দুই সন্তানের জন্মে মোট খরচ হয়েছে মাত্র ৭৫ টাকা। পুষ্টির ভারসাম্যহীনতা: এসব খাবারে যে পুষ্টি একেবারেই নেই তা নয়।
রাস্তার ভাজাপোড়া ও ফাস্টফুড কেন উদ্বেগের বিষয়
অতিরিক্ত তেল ও ক্যালরিযুক্ত খাবার যেমন শিঙারা, সমুচা বা ফ্রায়েড চিকেন শিশুর শরীরের জন্য ক্ষতিকর। একই তেল বারবার উচ্চ তাপমাত্রায় গরম করায় তৈরি হয় ক্ষতিকর যৌগ। নিয়মিত অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণে শিশুর ওজনের ঝুঁকি বাড়ে। এছাড়া এসব খাবারের ওপর নির্ভরশীলতা ফল, সবজি, দুধ বা ডিমের মতো পুষ্টিকর খাবারের চাহিদা কমিয়ে দেয়। অতিরিক্ত লবণ ও চিনিযুক্ত খাবার দাঁতের ক্ষয় ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি তৈরি করে। অন্যদিকে, খোলা পরিবেশে তৈরি খাবার ধুলাবালু ও দূষিত পানির মাধ্যমে জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হয়ে ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন খাদ্যবাহিত রোগের কারণ হতে পারে। আর ফেরিওয়ালা বা ফাস্টফুডের দোকানদারেরাও এই মানসিকতা জানে বলেই স্কুলের চৌহদ্দিতেই দোকান খুলে বসেন। নিয়মিত অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণের সঙ্গে শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা যুক্ত হলে অতিরিক্ত ওজনের ঝুঁকি বাড়ে।
পুষ্টিকর বিকল্প নাশতার তালিকা
স্কুল ছুটির পরের ক্ষুধা সামলাতে ব্যাগে আগে থেকেই স্বাস্থ্যকর নাশতা রাখা যেতে পারে। মা–বাবা নিজেরাও সঙ্গে নিতে পারেন এসব খাবার
- কলা, পেয়ারা, আপেল বা অন্য কোনো মৌসুমি ফল।
- সেদ্ধ ডিম, ভাজা ছোলা বা পরিমিত পরিমাণ বাদাম।
- ডিম, সবজি বা মুরগি দিয়ে ঘরে তৈরি ছোট স্যান্ডউইচ কিংবা রুটি-রোল।
- মুড়ি, ছোলা ও বাদামের মিশ্রণ।
- চিড়া, দই ও কলার মিশ্রণ।
খাবার বহনের সময় পরিচ্ছন্নতা ও সংরক্ষণের দিকে নজর দিতে হবে। বিশেষ করে ডিম, দই, মুরগি বা অন্য পচনশীল খাবার দীর্ঘ সময় স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রাখা উচিত নয়। শিশুর সঙ্গে পানির বোতল দেওয়া জরুরি এবং কোমল পানীয়র পরিবর্তে পানিকে প্রাধান্য দিতে হবে। শিশুরা বড়দের আচরণ দেখে শেখে। তাই অভিভাবকেরাও যদি বাইরের খাবার এড়িয়ে ঘরে তৈরি খাবার গ্রহণ করেন, তবে শিশুর মধ্যেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
শিশুর খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের জন্য বিষয়টি কেবল নিষেধ না করে বরং তাকে বুঝিয়ে বলতে হবে। পরিবারের সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনলে তা দীর্ঘমেয়াদে শিশুর স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটাবে।
তথ্যসূত্র ও পরামর্শ: নাজনীন এস মৌসুমী, সিনিয়র ডায়েটিশিয়ান ও বিভাগীয় প্রধান, নিউট্রিশন অ্যান্ড ডায়াবেটিস ডিপার্টমেন্ট, প্রো-অ্যাকটিভ মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতাল লিমিটেড, নারায়ণগঞ্জ।

























