ঢাকা ০৩:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

ইনানীতে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: স্বজনহারা নারীর আহাজারিতে ভারী আকাশ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:০৬:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ৩৮ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ইনানীতে অবস্থিত টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার সকালে মেরিন ড্রাইভের পাটোয়ারটেক সমুদ্রসৈকত সংলগ্ন এই রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। অগ্নিকাণ্ডের সময় সেখানে ১৭ জন পর্যটক অবস্থান করছিলেন বলে ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে। আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট সকাল ৮টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং তিন ঘণ্টার দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর বেলা ১১টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপর উদ্ধারকর্মীরা রিসোর্টের ভেতর থেকে ছয়টি মরদেহ উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় ৬ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। আগুনে রিসোর্টটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

অগ্নিকাণ্ডের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে এক নারীকে অঝোরে কাঁদতে দেখা গেছে। ভিডিওতে তাকে বারবার ‘সাইফ’ নামের একজনকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আকুতি জানাতে শোনা যায়। তার এই হৃদয়বিদারক আহাজারি এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছে। তবে ওই নারীর সঙ্গে সাইফের সম্পর্ক কী, অথবা উদ্ধার হওয়া ছয়জনের মধ্যে সাইফ রয়েছেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। জানা গেছে, ওই নারী পূজার ছুটিতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সেখানে বেড়াতে এসেছিলেন। ‘আমার সাইফকে আইন্না দাও, আমি কারে নিয়া বাঁচুম’—কান্নাজড়িত কণ্ঠে বারবার এই আকুতি জানাচ্ছিলেন এক নারী। তার কণ্ঠে স্বজনকে হারানোর কষ্ট ও অসহায়ত্ব ফুটে ওঠে।

অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহতা সম্পর্কে কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক মোরশেদ হোসেন জানান, রিসোর্টটি মূলত কাঠের তৈরি হওয়ার কারণে খুব দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়। উদ্ধারকাজের ব্যস্ততার মাঝে স্বজনদের খোঁজে মানুষের হাহাকার ও কান্না হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। বর্তমানে নিহতদের পরিচয় শনাক্তের পাশাপাশি অন্যদের অবস্থান নিশ্চিত করতে তৎপরতা চালানো হচ্ছে। তবে আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কত, তা এখনো জানা যায়নি। পুরো বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। চারদিকে পোড়া ধ্বংসস্তূপ, পুড়ে কয়লা হয়েছে সবকিছু।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ইনানীতে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: স্বজনহারা নারীর আহাজারিতে ভারী আকাশ

আপডেট সময় : ০১:০৬:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ইনানীতে অবস্থিত টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার সকালে মেরিন ড্রাইভের পাটোয়ারটেক সমুদ্রসৈকত সংলগ্ন এই রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। অগ্নিকাণ্ডের সময় সেখানে ১৭ জন পর্যটক অবস্থান করছিলেন বলে ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে। আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট সকাল ৮টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং তিন ঘণ্টার দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর বেলা ১১টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপর উদ্ধারকর্মীরা রিসোর্টের ভেতর থেকে ছয়টি মরদেহ উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় ৬ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। আগুনে রিসোর্টটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

অগ্নিকাণ্ডের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে এক নারীকে অঝোরে কাঁদতে দেখা গেছে। ভিডিওতে তাকে বারবার ‘সাইফ’ নামের একজনকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আকুতি জানাতে শোনা যায়। তার এই হৃদয়বিদারক আহাজারি এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছে। তবে ওই নারীর সঙ্গে সাইফের সম্পর্ক কী, অথবা উদ্ধার হওয়া ছয়জনের মধ্যে সাইফ রয়েছেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। জানা গেছে, ওই নারী পূজার ছুটিতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সেখানে বেড়াতে এসেছিলেন। ‘আমার সাইফকে আইন্না দাও, আমি কারে নিয়া বাঁচুম’—কান্নাজড়িত কণ্ঠে বারবার এই আকুতি জানাচ্ছিলেন এক নারী। তার কণ্ঠে স্বজনকে হারানোর কষ্ট ও অসহায়ত্ব ফুটে ওঠে।

অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহতা সম্পর্কে কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক মোরশেদ হোসেন জানান, রিসোর্টটি মূলত কাঠের তৈরি হওয়ার কারণে খুব দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়। উদ্ধারকাজের ব্যস্ততার মাঝে স্বজনদের খোঁজে মানুষের হাহাকার ও কান্না হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। বর্তমানে নিহতদের পরিচয় শনাক্তের পাশাপাশি অন্যদের অবস্থান নিশ্চিত করতে তৎপরতা চালানো হচ্ছে। তবে আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কত, তা এখনো জানা যায়নি। পুরো বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। চারদিকে পোড়া ধ্বংসস্তূপ, পুড়ে কয়লা হয়েছে সবকিছু।