ঢাকা ০২:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

সব ধর্মের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:০৪:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬ ৩৪ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের প্রতিটি নাগরিককে বাংলাদেশি হিসেবে বিবেচনা করার বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (১৯ অক্টোবর) শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে রাজধানী ঢাকার ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির পরিদর্শনে গিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি সব ধর্মের মানুষকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার এই আহ্বান জানান। আমরা সবাই মিলে একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশটিকে গড়ি। আমরা একে অপরের সঙ্গে কাজ করে দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যাব। আজকেই আমি ওসমানী উদ্যানে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন করে এসেছি।

পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের সময় ভক্ত ও সমবেত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই দেশ আমাদের সবার। এখানে ব্যক্তিগতভাবে একেকজনের ধর্ম একেকটি হতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্র সবার জন্য সমান। নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যেমন রাষ্ট্রের দায়িত্ব, তেমনি রাষ্ট্রের সুফল ভোগ করার অধিকারও দেশের প্রতিটি মানুষের রয়েছে। তাই নিজেদের আলাদা না ভেবে সবাইকে এক হয়ে দেশ গঠনে এগিয়ে আসতে হবে। এই দেশটিতে আপনার যেমন অধিকার আছে, আমারও অধিকার আছে। রাষ্ট্রের দায়িত্ব ও নাগরিকদের পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে আপনাকে নিরাপত্তা দেওয়া, ঠিক একইভাবে এই রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে আমাকেও নিরাপত্তা দেওয়া। সবাই সেদিন সোচ্চার ছিলাম মানুষের কথা বলার অধিকার, ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করার জন্য।

ঐতিহাসিক সংগ্রামের স্মৃতি তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে দেশের মানুষ যখন স্বাধীনতার সূর্য ছিনিয়ে আনতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, তখন কে হিন্দু, কে মুসলমান, কে বৌদ্ধ কিংবা কে খ্রিস্টান—সেই বিচার কেউ করেনি। একইভাবে পরবর্তীতে যখনই দেশে গণতন্ত্র সংকটে পড়েছে এবং মানুষ নিজেদের রাজনৈতিক ও ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারে রাজপথে নেমেছে, তখন সব ধর্মের মানুষ এক হয়ে লড়াই করেছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, ‘১৯৭১ সালে যখন মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল, সেই যুদ্ধে যখন এই দেশের মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়েছিল স্বাধীনতার সূর্যকে ছিনিয়ে আনার জন্য, তখন কিন্তু আমরা কেউ দেখিনি কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ, কে খ্রিস্টান। যুদ্ধের মাঠে কিন্তু এটা আমরা দেখিনি, কখনও জিজ্ঞেসও করিনি। কেউ কি আমরা কাউকে জিজ্ঞেস করেছি, ভাই আপনি কোন ধর্মের মানুষ। সেখানে তো হিন্দু আছে, মুসলমানও আছে, বৌদ্ধও আছে, খ্রিস্টানও আছে।

সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, জুলাইয়ের সেই গণঅভ্যুত্থানের দৃশ্য এখনও সবার চোখে ভেসে ওঠে। সেদিনও দেশের সর্বস্তরের ও সব ধর্মের মানুষ সমানভাবে রাজপথে নেমে আত্মত্যাগ স্বীকার করেছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘চোখটা বন্ধ করলেই আমাদের চোখের সামনে সবগুলো দৃশ্য ভেসে ওঠে।

দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও সামাজিক অগ্রগতির স্বার্থে ভেদাভেদ ভুলে যাওয়ার ওপর জোর দিয়ে তারেক রহমান বলেন, জাতীয় উন্নয়ন ও ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব হলে তার সুফল দেশের প্রতিটি নাগরিক সমানভাবে ভোগ করবেন। ক্ষয়ক্ষতি কিংবা বিপদের সময়ে যেমন ধর্মের কোনো পার্থক্য থাকে না, তেমনি ভালো থাকার আনন্দও সবার জন্য প্রযোজ্য। তাই সবাইকে জাতি-ধর্মের গণ্ডি পেরিয়ে মানুষ হিসেবে একে অপরকে বিবেচনা করার তাগিদ দেন তিনি। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশের সকল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সব ধর্মের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট সময় : ১১:০৪:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের প্রতিটি নাগরিককে বাংলাদেশি হিসেবে বিবেচনা করার বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (১৯ অক্টোবর) শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে রাজধানী ঢাকার ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির পরিদর্শনে গিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি সব ধর্মের মানুষকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার এই আহ্বান জানান। আমরা সবাই মিলে একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশটিকে গড়ি। আমরা একে অপরের সঙ্গে কাজ করে দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যাব। আজকেই আমি ওসমানী উদ্যানে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন করে এসেছি।

পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের সময় ভক্ত ও সমবেত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই দেশ আমাদের সবার। এখানে ব্যক্তিগতভাবে একেকজনের ধর্ম একেকটি হতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্র সবার জন্য সমান। নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যেমন রাষ্ট্রের দায়িত্ব, তেমনি রাষ্ট্রের সুফল ভোগ করার অধিকারও দেশের প্রতিটি মানুষের রয়েছে। তাই নিজেদের আলাদা না ভেবে সবাইকে এক হয়ে দেশ গঠনে এগিয়ে আসতে হবে। এই দেশটিতে আপনার যেমন অধিকার আছে, আমারও অধিকার আছে। রাষ্ট্রের দায়িত্ব ও নাগরিকদের পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে আপনাকে নিরাপত্তা দেওয়া, ঠিক একইভাবে এই রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে আমাকেও নিরাপত্তা দেওয়া। সবাই সেদিন সোচ্চার ছিলাম মানুষের কথা বলার অধিকার, ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করার জন্য।

ঐতিহাসিক সংগ্রামের স্মৃতি তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে দেশের মানুষ যখন স্বাধীনতার সূর্য ছিনিয়ে আনতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, তখন কে হিন্দু, কে মুসলমান, কে বৌদ্ধ কিংবা কে খ্রিস্টান—সেই বিচার কেউ করেনি। একইভাবে পরবর্তীতে যখনই দেশে গণতন্ত্র সংকটে পড়েছে এবং মানুষ নিজেদের রাজনৈতিক ও ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারে রাজপথে নেমেছে, তখন সব ধর্মের মানুষ এক হয়ে লড়াই করেছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, ‘১৯৭১ সালে যখন মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল, সেই যুদ্ধে যখন এই দেশের মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়েছিল স্বাধীনতার সূর্যকে ছিনিয়ে আনার জন্য, তখন কিন্তু আমরা কেউ দেখিনি কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ, কে খ্রিস্টান। যুদ্ধের মাঠে কিন্তু এটা আমরা দেখিনি, কখনও জিজ্ঞেসও করিনি। কেউ কি আমরা কাউকে জিজ্ঞেস করেছি, ভাই আপনি কোন ধর্মের মানুষ। সেখানে তো হিন্দু আছে, মুসলমানও আছে, বৌদ্ধও আছে, খ্রিস্টানও আছে।

সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, জুলাইয়ের সেই গণঅভ্যুত্থানের দৃশ্য এখনও সবার চোখে ভেসে ওঠে। সেদিনও দেশের সর্বস্তরের ও সব ধর্মের মানুষ সমানভাবে রাজপথে নেমে আত্মত্যাগ স্বীকার করেছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘চোখটা বন্ধ করলেই আমাদের চোখের সামনে সবগুলো দৃশ্য ভেসে ওঠে।

দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও সামাজিক অগ্রগতির স্বার্থে ভেদাভেদ ভুলে যাওয়ার ওপর জোর দিয়ে তারেক রহমান বলেন, জাতীয় উন্নয়ন ও ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব হলে তার সুফল দেশের প্রতিটি নাগরিক সমানভাবে ভোগ করবেন। ক্ষয়ক্ষতি কিংবা বিপদের সময়ে যেমন ধর্মের কোনো পার্থক্য থাকে না, তেমনি ভালো থাকার আনন্দও সবার জন্য প্রযোজ্য। তাই সবাইকে জাতি-ধর্মের গণ্ডি পেরিয়ে মানুষ হিসেবে একে অপরকে বিবেচনা করার তাগিদ দেন তিনি। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশের সকল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী।