কেরানীগঞ্জের প্লাস্টিক কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে শ্রমিক নিহত, দগ্ধ দুই
- আপডেট সময় : ০৭:২১:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
ঢাকার কেরানীগঞ্জে একটি প্লাস্টিকের খেলনা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সাকিব হাসান (১৮) নামের এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। আজ সোমবার দুপুর ১২টার দিকে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার নারিকেলবাগ এলাকার শাহজাহান মজুমদারের আটতলা ভবনে অবস্থিত আমান প্লাস্টিক কারখানায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। অগ্নিকাণ্ডে আরও দুই শ্রমিক দগ্ধ হয়েছেন, যাদের মধ্যে মানিক আহমেদের (৪০) শরীরের প্রায় শতভাগ পুড়ে গেছে। দগ্ধ অপরজন হলেন রাকিব হোসেন (১৮)।
নারিকেলবাগ এলাকার বাসিন্দা সোবহান আলী জানান, দুপুর ১২টার দিকে কারখানাটিতে আগুন লাগলে স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের আটটি ইউনিট প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে বেলা দুইটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ফায়ার সার্ভিসের সদর দপ্তরের গণমাধ্যম কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম জানান, দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে তারা খবর পান এবং ১২টা ৩২ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করেন। শুরুতে পাঁচটি ইউনিট কাজ করলেও পরবর্তীতে আরও তিনটি ইউনিট যুক্ত হয়ে আগুন নির্বাপণ করে।
ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা অঞ্চলের সহকারী পরিচালক কাজী নজমুজ্জামান জানান, কারখানাটিতে প্লাস্টিকের খেলনা তৈরি করা হতো এবং ধারণা করা হচ্ছে খেলনা তৈরিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। আগুন লাগার পরপরই শ্রমিকেরা ভবন থেকে বেরিয়ে আসার সময় সাকিব হাসান ভেতরে আটকা পড়েন এবং পরে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। গুরুতর দগ্ধ মানিক ও রাকিবকে প্রথমে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় মানিক আহমেদকে পরে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়। আহত দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। রাসায়নিকের কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে।
কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল কুদ্দুছ জানান, রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহারের কারণেই অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে এবং এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগে চলতি বছরের ৪ এপ্রিল কেরানীগঞ্জের কদমতলী আমবাগিচা এলাকার মেসার্স এসার গ্যাস প্রো ফ্যাক্টরিতে আরেকটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় শিশু ও নারীসহ ছয়জনের প্রাণহানি ঘটেছিল। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। ওই ঘটনায় ছয়জনের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ, যাঁদের মধ্যে একজন শিশু ও দুজন নারী ছিলেন।

























