দ্বিপক্ষীয় অংশীদারিত্ব আরও সুদৃঢ় করার অঙ্গীকার বাংলাদেশ ও জাপানের
- আপডেট সময় : ১১:০২:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে
বাণিজ্য, অবকাঠামো, গভীর সমুদ্রবন্দর ও বৈদেশিক বিনিয়োগসহ নানা খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারে সংকল্প ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ ও জাপানের সরকারপ্রধান। টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি যৌথভাবে এই অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত সম্পর্ক বেগবান করতে কয়েকটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
জাপানের স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১১টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছালে সানায়ে তাকাইচি তাঁকে অভ্যর্থনা জানান। সেখানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিক গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এর পর সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে দুই দেশের প্রতিনিধিদলের সমন্বয়ে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে জাপানের স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক শুরু হয়। তার আগে, জাপানের স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছালে তারেক রহমানকে স্বাগত জানান দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি।
বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের জনগণের কাছে জাপান একটি বিশেষ ও বিশ্বস্ত স্থান দখল করে আছে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর বাংলাদেশকে প্রথম দিকেই স্বীকৃতি দেওয়া এই বন্ধুপ্রতীম রাষ্ট্রটি গত পাঁচ দশক ধরে সামাজিক-অর্থনৈতিক ও অবকাঠামো উন্নয়নে সবচেয়ে বড় সহযোগী হিসেবে ভূমিকা রেখে চলেছে। দুই দেশের এই সম্পর্ক পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও যৌথ প্রগতির ওপর প্রতিষ্ঠিত। আমাদের বন্ধুত্ব পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস এবং শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার একটি অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির ওপর প্রতিষ্ঠিত। একটি শান্তপ্রিয় জাতি হিসেবে, জাপান ১৯৭১ সালে আমাদের স্বাধীনতার পর বাংলাদেশকে স্বীকৃতিদানকারী অন্যতম প্রথম দেশ। আমরা এই স্থায়ী বন্ধুত্বকে গভীরভাবে উপলব্ধি করি। তারেক রহমান বলেন, আমরা আমাদের উভয় দেশের জন্য একটি আরও স্থিতিস্থাপক এবং সমৃদ্ধশালী ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারি। আমাদের উচ্চাশা স্পষ্ট—আমাদের দুই দেশের মধ্যকার এই বন্ধুত্বের সম্পর্ককে অর্থনৈতিক সুযোগ এবং অংশীদারিত্বের একটি শক্। যৌথ বিবৃতিতে আমাদের আলোচনা থেকে প্রাপ্ত ফলাফল এবং অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরা হয়েছে। আসুন, আমরা এমন একটি অংশীদারিত্ব গড়ে তুলি যা আজ আমাদের জনগণের সেবা করে এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি দীর্ঘস্থায়ী উত্তরাধিকার তৈরি করে।
বাংলাদেশী প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে তাঁর বৈঠকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক একাধিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। তারা শক্তি, তথ্য-প্রযুক্তি, বাণিজ্য এবং অবকাঠামো খাতে দ্বিপক্ষীয় বন্ধন আরও জোরদারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি জাপানি বিনিয়োগকারী, শিল্পোদ্যোক্তা ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির ধারায় অংশ নিতে আহ্বান জানান। বিশেষ করে উৎপাদনশীল খাত, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে জাপানি সহায়তা প্রত্যাশা করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, আমি জাপানি বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশের অফার করা সুযোগগুলো অন্বেষণ করতে এবং আমাদের প্রবৃদ্ধির পরবর্তী ধাপের অংশীদার হওয়ার জন্য আন্তরিকভাবে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আমরা আমাদের জাপানি অংশীদারদের সাথে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যাতে উৎপাদনশীল বিনিয়োগ, প্রযুক্তি স্থানান্তর, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অন্যান্য উপকারী ব্যবসায়িক সুযোগ উন্মুক্ত করা যায়।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি দুই দেশের গত ৫০ বছরের ঐতিহাসিক মিত্রতার ওপর আলোকপাত করে বাংলাদেশকে একটি দীর্ঘমেয়াদী এবং নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে বর্ণনা করেন। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে ‘কৌশলগত অংশীদারত্ব’-এ উন্নীত করার মাধ্যমে শান্তি, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন।

























