সব ধর্মের সমান সুযোগ নিশ্চিতে জাতীয় কমিটির আহ্বান রাষ্ট্রপতির
- আপডেট সময় : ০৫:২১:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬ ৩২ বার পড়া হয়েছে
সকল ধর্মের মানুষের সমান নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে একটি জাতীয় কমিটি গঠন করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি উল্লেখ করেন, ধর্ম যার যার হলেও রাষ্ট্র সবার এবং নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার দেশের প্রতিটি নাগরিকের রয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সকলেই সমান অধিকার, সম্মান ও ধর্মীয় স্বাধীনতা ভোগ করবেন এবং সরকার এই লক্ষ্য পূরণে বদ্ধপরিকর।
বুধবার সকালে শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২৬ ও বিজয়া দশমী উপলক্ষে বঙ্গভবনে অনুষ্ঠিত এক শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। দেশে বসবাসরত হিন্দু সম্প্রদায় ও অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিদের উদ্দেশ্যে এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি এ বক্তব্য দেন। রাষ্ট্রপতির সহধর্মিনী রাহাত আরা বেগমও এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বলে রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং সূত্রে জানা গেছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হানাহানি ও অস্থিতিশীলতা চললেও বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষ শান্তিতে নিজ নিজ উৎসব উদ্যাপন করছেন উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, এই আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি আমাদের জাতীয় অস্তিত্ব ও শক্তির মূল ভিত্তি, যা যেকোনো মূল্যে রক্ষা করতে হবে। রাষ্ট্রপতি বলেন, বিশ্বের নানা প্রান্তে যখন যুদ্ধ, সহিংসতা ও সাম্প্রদায়িক হানাহানি চলছে, তখন এখানে সকল ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে নিজ নিজ উৎসব পালন করছে, এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন।
তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, মাঝেমধ্যে ধর্মীয় উগ্রতা, গুজব ও অপপ্রচারের মাধ্যমে সমাজে বিভেদ তৈরির অপচেষ্টা চালানো হয়। এসব চক্রান্তের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও আপসহীন থাকার আহ্বান জানান তিনি। বিশেষ করে তরুণ সমাজকে ন্যায়, সততা ও মানবিকতার পক্ষে সোচ্চার থাকার অনুরোধ করেন রাষ্ট্রপতি।
তিনি আরও যোগ করেন, কোনো অপশক্তি যেন বিভাজন তৈরি করে দেশের অগ্রগতি ও জাতীয় ঐক্যে ফাটল ধরাতে না পারে। মুক্তিযুদ্ধসহ অতীতের সকল রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সকল ধর্মের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণই এই জাতীয় ঐক্যের মূল ভিত্তি রচনা করেছে। এ সময় তিনি সকলের পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সাম্য ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে একটি নিরাপদ, গণতান্ত্রিক, মানবিক ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। কোনো অপশক্তিকে বিভেদ সৃষ্টি করে জাতীয় ঐক্য ও অগ্রগতি বিনষ্ট করতে দেওয়া যাবে না। এদেশের মানুষ অসাম্প্রদায়িক এবং হাজার বছর ধরে এ ভূখণ্ডে সকল ধর্মের মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে একসাথে বসবাস করে আসছে।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিজয়া দশমীর শুভেচ্ছা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনে আগত অতিথিদের স্বাগতম জানান। তিনি বলেন, বিজয়া দশমীর মূল সুরই হলো অন্যায়ের ওপর ন্যায়ের জয় এবং কল্যাণ ও সুন্দরের প্রতিষ্ঠা। ধর্ম বা গোষ্ঠীর পরিচয়ের ভিত্তিতে কোনো নাগরিক যেন বৈষম্য বা নির্যাতনের শিকার না হন, সেদিকে কঠোর নজর দেওয়ার কথা বলেন তিনি। তিনি বলেন, এ উৎসবের অন্তর্নিহিত বাণী হলো অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের জয়।
উৎসবমুখর ও নিরাপদ পরিবেশে সবাই যেন নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সজাগ ও সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। অনুষ্ঠানে আগত সকল দর্শনার্থী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সাথে তিনি নিজে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
এর আগে বঙ্গভবনের ক্রিডেনশিয়াল হলে রাষ্ট্রপতি পৌঁছালে ‘বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট’, ‘হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট’, ‘বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ’ এবং মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির নেতৃবৃন্দ তাকে ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা জানান। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন, প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) বিজন কান্তি সরকারসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

























