প্যারিসে পাঁচ দিনের শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপিত
- আপডেট সময় : ০৯:১৩:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬ ৩০ বার পড়া হয়েছে
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের অদূরে লা-কর্নোভ ওভারভিলিয়ে এলাকায় বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে। স্থানীয় একটি হলরুমে প্যারিস মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের আয়োজনে এই উৎসব চলে ১৭ অক্টোবর থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন ধরে। প্রতিবছরের মতো এবারও মা দুর্গার আগমনে প্যারিস প্রবাসীদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে ভক্তি ও উৎসবের আমেজ। ফ্রান্স প্রতিনিধি আহমেদ জুনেদ ফারহান: বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। মা দুর্গার আগমনে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে আনন্দ, ভালোবাসা, ভক্তি ও সম্প্রীতির বার্তা। ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে অদূরে লা-কর্নোভ ওভারভিলিয়ে স্থানীয় একটি হল রুমে “প্যারিস মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদ” এর উদ্যোগে ১৭ অক্টোবর থেকে ২১ অক্টোবর ৫ দিনব্যাপী শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপিত হয়। হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে শারদীয় দুর্গাপূজা কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়; এটি বাঙালির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, সামাজিক বন্ধন ও পারস্পরিক সম্প্রীতি অটুট রাখার এক গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। মা দুর্গার আরাধনার মধ্য দিয়ে অশুভ শক্তির বিনাশ এবং শুভ শক্তির বিজয়ের যে চিরন্তন শিক্ষা আমরা পাই, তা আজকের পৃথিবীতেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। হিংসা, বিদ্বেষ, বিভেদ ও অসহিষ্ণুতার পরিবর্তে ভালোবাসা, মানবতা, সহমর্মিতা এবং ন্যায়ের পথে চলার প্রেরণা দেয় দুর্গোৎসব।
উৎসবের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিল প্যারিস মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদ। পাঁচ দিনের এই আয়োজনে কমিটির সভাপতি নারায়ণ চন্দ, সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় চন্দ্রনাথ এবং পূজা উদযাপন পরিষদের সমন্বয়ক সুব্রত শুভ, দিব্যি রায়, বাদল চন্দ ও অশোক চন্দ উপস্থিত থেকে সার্বিক দিক তদারকি করেন। আয়োজক সংগঠনের পক্ষ থেকে আমন্ত্রিত সকল অতিথি ও ভক্তদের প্রতি বিশেষ সম্মান ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে। তাদের মতে, সবার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের কারণেই এবারের উৎসবটি সম্প্রীতি ও ঐক্যের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।
ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও উৎসবের আমেজে প্যারিসের প্রবাসী বাঙালিদের অংশগ্রহণে দুর্গাপূজার দিনগুলো ছিল প্রাণবন্ত। পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ জানান, এই উৎসব কেবল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং প্রবাসে বাঙালি সংস্কৃতির চর্চা এবং ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রাখার এক অনন্য মাধ্যম। টানা পাঁচ দিনের এই আয়োজনে প্যারিসে বসবাসরত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করে আনন্দ ভাগ করে নেন। প্রবাসজীবনের ব্যস্ততা ও দূরত্ব পেরিয়ে এই উৎসব বাঙালির হৃদয়ে জাগিয়ে তোলে শেকড়ের টান, সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা এবং আপনজনের সঙ্গে মিলিত হওয়ার এক অনন্য অনুভূতি।

























