ঢাকা ০৪:২২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

জাপান সফরের আগে রাষ্ট্রদূত দাউদ আলীকে ঢাকায় তলব

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:০৬:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ১৮ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন জাপান সফরকে ঘিরে একটি বিরল ঘটনা ঘটেছে বৈশ্বিক কূটনীতিতে। কোনো রাষ্ট্রপ্রধানের বিদেশ সফরের সময় সংশ্লিষ্ট দেশে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত সাধারণত সকল কূটনৈতিক সমন্বয় ও প্রস্তুতির দায়িত্বে থাকেন। তবে বাংলাদেশ সরকারের এই সফরকালে টোকিওতে থাকছেন না জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী। পররাষ্ট্র দপ্তরের স্পর্শকাতর এক সিদ্ধান্তের কারণে সফরের শুরুতেই তাকে ঢাকায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে এবং যাবতীয় আয়োজন থেকে দূরে রাখা হয়েছে। শুধু তাই নয়, সফরসংক্রান্ত প্রস্তুতি ও সমন্বয়ের কাজ থেকেও তাকে দূরে রাখা হয়েছে।

কূটনৈতিক মাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, গত জুনে প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরকালীন প্রকাশিত একটি যৌথ বিবৃতির অনুচ্ছেদ নিয়ে জাপানের আপত্তি রয়েছে। উক্ত অনুচ্ছেদে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা এবং সামরিকতাবাদের বিরুদ্ধে যেসব বক্তব্য ছিল, সেটিকে নিজেদের দেশের জন্য সংবেদনশীল মনে করে টোকিও। জাপানের ধারণা, চীনবিষয়ক বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত দাউদ আলী ওই যৌথ বিবৃতি প্রণয়নে ভূমিকা রেখেছিলেন। এছাড়া ঢাকা ও টোকিওর মধ্যে হতে যাওয়া কয়েকটি গোপনীয় চুক্তি বিষয়ক আলোচনায় সতর্কতা অবলম্বন নিশ্চিত করতেই প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে তাকে সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ওয়াকিবহাল সূত্রের খবর, জাপানের জন্য স্পর্শকাতর একটি বিষয়ে দেশটির আপত্তির কথা মাথায় রেখেই প্রধানমন্ত্রীর সফরের প্রাক্কালে রাষ্ট্রদূতকে ঢাকায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তাদের প্রশ্ন, দাউদ আলীর বিরুদ্ধে কোনো আপত্তি বা তার ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ থাকলে তা আগে খতিয়ে দেখা হলো না কেন।

এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সফর শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে রাষ্ট্রদূতকে সরিয়ে আনার বিষয়টি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অভিজ্ঞদের কাছে অস্বাভাবিক ঠেকছে। তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গত ১৫ই অক্টোবরের নির্দেশনা মেনে ইতোমধ্যে ঢাকায় ফিরেছেন দাউদ আলী। তাঁর অনুপস্থিতিতে জাপানে সফরের প্রস্তুতি পরিচালনা করছেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম। উল্লেখ্য, আগামী ২৬ থেকে ২৯শে অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের টোকিও সফর নির্ধারিত রয়েছে। সফরে অবকাঠামো উন্নয়ন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শ্রমশক্তি রপ্তানির সুযোগ নিয়ে আলোচনা হবে, যেখানে ৩ থেকে ৪টি চুক্তিসহ মোট ৮টি সমঝোতা স্মারক সইয়ের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম। যার মধ্যে- ৩ থেকে ৪ টি সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম। যার গোপনীয়তা রক্ষার নিশ্চয়তা চায় টোকিও। সফরে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন, দক্ষ কর্মী পাঠানো এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

কূটনৈতিক ক্যারিয়ারে দাউদ আলীকে সফরসূচি থেকে বাদ দিয়ে ঢাকায় ডেকে পাঠানোর ঘটনা নতুন নয়। ২০০৯ সালে তিনি যখন লন্ডনে বাংলাদেশ মিশনের কাউন্সেলর পদে কর্মরত ছিলেন, তখনও অনুরূপ পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। সে সময় লন্ডনে তারেক রহমানকে সহযোগিতার অভিযোগ তুলে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা একটি তদন্ত প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জমা দেয়। যার জেরে তৎকালীন সময়ে তাকে ঢাকায় ফেরানো হয় এবং পররাষ্ট্র সার্ভিস একাডেমির ভাইস প্রিন্সিপাল করে পাঠানো হয়েছিল। ১৭ বছরের ব্যবধানে পুনরায় রাষ্ট্রপ্রধানের সফরকালীন তাকে দেশে ফেরত আনা হলো। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ বিষয়ে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার একটি প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জমা পড়েছিল। প্রায় ১৭ বছর পর প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরের আগে এই কূটনীতিককে ফের দেশে ফিরতে হলো।

বিসিএস ১৫তম ব্যাচের এই জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক আগামী ৭ই ডিসেম্বর অবসরোত্তর ছুটিতে (পিআরএল) যাচ্ছেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে ২০২৪ সালের ১২ই ডিসেম্বর তিনি জাপানের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব নেন। এর আগে তিনি রোমানিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কনস্যুলার ও কল্যাণ বিভাগের মহাপরিচালকের ভূমিকা পালন করেন। এছাড়াও আন্তর্জাতিক কর্মজীবনে প্রিটোরিয়া, লন্ডন ও টোকিওর পাশাপাশি চীনের কুনমিংয়ে কনসাল জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব সামলেছেন দাউদ আলী।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জাপান সফরের আগে রাষ্ট্রদূত দাউদ আলীকে ঢাকায় তলব

আপডেট সময় : ০৮:০৬:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন জাপান সফরকে ঘিরে একটি বিরল ঘটনা ঘটেছে বৈশ্বিক কূটনীতিতে। কোনো রাষ্ট্রপ্রধানের বিদেশ সফরের সময় সংশ্লিষ্ট দেশে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত সাধারণত সকল কূটনৈতিক সমন্বয় ও প্রস্তুতির দায়িত্বে থাকেন। তবে বাংলাদেশ সরকারের এই সফরকালে টোকিওতে থাকছেন না জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী। পররাষ্ট্র দপ্তরের স্পর্শকাতর এক সিদ্ধান্তের কারণে সফরের শুরুতেই তাকে ঢাকায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে এবং যাবতীয় আয়োজন থেকে দূরে রাখা হয়েছে। শুধু তাই নয়, সফরসংক্রান্ত প্রস্তুতি ও সমন্বয়ের কাজ থেকেও তাকে দূরে রাখা হয়েছে।

কূটনৈতিক মাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, গত জুনে প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরকালীন প্রকাশিত একটি যৌথ বিবৃতির অনুচ্ছেদ নিয়ে জাপানের আপত্তি রয়েছে। উক্ত অনুচ্ছেদে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা এবং সামরিকতাবাদের বিরুদ্ধে যেসব বক্তব্য ছিল, সেটিকে নিজেদের দেশের জন্য সংবেদনশীল মনে করে টোকিও। জাপানের ধারণা, চীনবিষয়ক বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত দাউদ আলী ওই যৌথ বিবৃতি প্রণয়নে ভূমিকা রেখেছিলেন। এছাড়া ঢাকা ও টোকিওর মধ্যে হতে যাওয়া কয়েকটি গোপনীয় চুক্তি বিষয়ক আলোচনায় সতর্কতা অবলম্বন নিশ্চিত করতেই প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে তাকে সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ওয়াকিবহাল সূত্রের খবর, জাপানের জন্য স্পর্শকাতর একটি বিষয়ে দেশটির আপত্তির কথা মাথায় রেখেই প্রধানমন্ত্রীর সফরের প্রাক্কালে রাষ্ট্রদূতকে ঢাকায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তাদের প্রশ্ন, দাউদ আলীর বিরুদ্ধে কোনো আপত্তি বা তার ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ থাকলে তা আগে খতিয়ে দেখা হলো না কেন।

এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সফর শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে রাষ্ট্রদূতকে সরিয়ে আনার বিষয়টি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অভিজ্ঞদের কাছে অস্বাভাবিক ঠেকছে। তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গত ১৫ই অক্টোবরের নির্দেশনা মেনে ইতোমধ্যে ঢাকায় ফিরেছেন দাউদ আলী। তাঁর অনুপস্থিতিতে জাপানে সফরের প্রস্তুতি পরিচালনা করছেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম। উল্লেখ্য, আগামী ২৬ থেকে ২৯শে অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের টোকিও সফর নির্ধারিত রয়েছে। সফরে অবকাঠামো উন্নয়ন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শ্রমশক্তি রপ্তানির সুযোগ নিয়ে আলোচনা হবে, যেখানে ৩ থেকে ৪টি চুক্তিসহ মোট ৮টি সমঝোতা স্মারক সইয়ের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম। যার মধ্যে- ৩ থেকে ৪ টি সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম। যার গোপনীয়তা রক্ষার নিশ্চয়তা চায় টোকিও। সফরে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন, দক্ষ কর্মী পাঠানো এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

কূটনৈতিক ক্যারিয়ারে দাউদ আলীকে সফরসূচি থেকে বাদ দিয়ে ঢাকায় ডেকে পাঠানোর ঘটনা নতুন নয়। ২০০৯ সালে তিনি যখন লন্ডনে বাংলাদেশ মিশনের কাউন্সেলর পদে কর্মরত ছিলেন, তখনও অনুরূপ পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। সে সময় লন্ডনে তারেক রহমানকে সহযোগিতার অভিযোগ তুলে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা একটি তদন্ত প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জমা দেয়। যার জেরে তৎকালীন সময়ে তাকে ঢাকায় ফেরানো হয় এবং পররাষ্ট্র সার্ভিস একাডেমির ভাইস প্রিন্সিপাল করে পাঠানো হয়েছিল। ১৭ বছরের ব্যবধানে পুনরায় রাষ্ট্রপ্রধানের সফরকালীন তাকে দেশে ফেরত আনা হলো। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ বিষয়ে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার একটি প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জমা পড়েছিল। প্রায় ১৭ বছর পর প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরের আগে এই কূটনীতিককে ফের দেশে ফিরতে হলো।

বিসিএস ১৫তম ব্যাচের এই জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক আগামী ৭ই ডিসেম্বর অবসরোত্তর ছুটিতে (পিআরএল) যাচ্ছেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে ২০২৪ সালের ১২ই ডিসেম্বর তিনি জাপানের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব নেন। এর আগে তিনি রোমানিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কনস্যুলার ও কল্যাণ বিভাগের মহাপরিচালকের ভূমিকা পালন করেন। এছাড়াও আন্তর্জাতিক কর্মজীবনে প্রিটোরিয়া, লন্ডন ও টোকিওর পাশাপাশি চীনের কুনমিংয়ে কনসাল জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব সামলেছেন দাউদ আলী।