ইসরায়েলে আজ পার্লামেন্ট নির্বাচন: ভাগ্য নির্ধারিত হবে নেতানিয়াহুর
- আপডেট সময় : ০৭:০৬:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ১৯ বার পড়া হয়েছে
গাজায় চলমান ধ্বংসযজ্ঞ, ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুতি এবং নিজস্ব দুর্নীতির মামলার বিচারপ্রক্রিয়ার মধ্যেই আজ মঙ্গলবার ইসরায়েলে পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দেশটিতে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন ভোটারদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর এটিই দেশটিতে প্রথম নির্বাচন। নিরাপত্তাব্যবস্থায় চরম ব্যর্থতার দায় স্বীকারে নেতানিয়াহুর অস্বীকৃতি এবং এ বিষয়ে স্বাধীন তদন্তের দাবি এবারের ভোটের অন্যতম প্রধান নিয়ামক। নেতানিয়াহু দায় নিতে অস্বীকৃতি জানালেও বিরোধীরা জবাবদিহি চাইছেন।
ইসরায়েলের মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ৭৩ লাখ। পার্লামেন্ট নেসেটের ১২০টি আসনের জন্য এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে সরকার গঠনের জন্য একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হিসেবে প্রয়োজন ৬১ আসন। ইসরায়েলের নির্বাচনি ব্যবস্থা অনুযায়ী, ভোটাররা সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করেন না, বরং তারা রাজনৈতিক দলকে ভোট দেন। প্রতিটি দল আগেই প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে এবং প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে আসন বণ্টন হয়। নেসেটে প্রবেশের জন্য প্রতিটি দলকে ন্যূনতম ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ ভোট পেতে হয়। ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটের ১২০ আসনে ভোট হচ্ছে।
নেতানিয়াহু তাঁর দল লিকুদকে নিয়ে রক্ষণশীল ও ধর্মীয় জাতীয়তাবাদী শিবিরের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাঁর বর্তমান সরকারের অন্যতম শরিক জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের দল জিউইশ পাওয়ার এবং অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচের রিলিজিয়াস জায়োনিজম। এ ছাড়া শাস ও ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম দলগুলোও তাঁর সম্ভাব্য মিত্র। অন্যদিকে, বিরোধী শিবিরে ইয়াশার, টুগেদার, ইসরায়েল বেইতেনু ও ডেমোক্র্যাটস দলগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। বিরোধী জোট জিতলে কে প্রধানমন্ত্রী হবেন, তা এখনো চূড়ান্ত নয়; তবে সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকট, নাফতালি বেনেট ও ইয়ার লাপিদের নাম আলোচনায় রয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়ার লাপিদ সরকারপ্রধান হওয়ার দাবিদার। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতি এবং রাষ্ট্র ও ধর্মের সম্পর্ক নিয়েও ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে।
নির্বাচনপূর্ব বিভিন্ন জরিপের তথ্য অনুযায়ী, কোনো পক্ষই এককভাবে ৬১ আসন পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। রয়টার্সের গত শুক্রবারের জরিপে নেতানিয়াহুর শিবিরের ৫৩টি এবং বিরোধী শিবিরের ৫২টি আসন পাওয়ার আভাস পাওয়া গেছে। এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের আরব দলগুলোর সমর্থন সরকার গঠনের ক্ষেত্রে নির্ণায়ক হয়ে উঠতে পারে। যদিও আইজেনকটসহ বেশিরভাগ বিরোধী নেতা এ ধরনের জোট গঠনের সম্ভাবনা বরাবরই নাকচ করে আসছেন। দেশটির প্রধান দুই নির্বাচনী জোটের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এ হিসাবে নেতানিয়াহুর শিবিরের ৫৩ এবং বিরোধী শিবিরের ৫২টি করে আসন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এতে করে সরকার গঠন নিয়ে অচলাবস্থা তৈরি হলে আবারও নতুন নির্বাচনের সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে। সেক্ষেত্রে পরবর্তী সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন। ছয় মেয়াদে দায়িত্ব পালন করা নেতানিয়াহুর জন্য এটি সপ্তম মেয়াদ পাওয়ার লড়াই। অন্যদিকে, সাধারণ ফিলিস্তিনিদের মধ্যে নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে বড় কোনো প্রত্যাশা নেই। গাজার বাস্তুচ্যুত বাসিন্দা মোহাম্মদ ইলিয়ান আল-জাজিরাকে বলেছেন, নেতৃত্ব বদল হলেও ইসরায়েলের নীতিতে বড় পরিবর্তন আসবে বলে তিনি মনে করেন না, তবে নেতানিয়াহুর পরাজয়ই তাঁর একমাত্র চাওয়া।
























