ঢাকা ১০:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

আঞ্চলিক ঐক্য জোরদারে মুসলিম দেশগুলোর প্রতি আহ্বান পেজেশকিয়ানের

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:২৪:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬ ২১ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আঞ্চলিক সংহতি শক্তিশালী করতে প্রভাবশালী মুসলিম দেশগুলোকে একসঙ্গে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। সোমবার (২৬ অক্টোবর) তেহরানে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ তাগিদ দেন। সম্প্রতি মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করা দেশগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ইরানের প্রেসিডেন্টের দপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিবৃতিতে জানানো হয়, পেজেশকিয়ান আশা প্রকাশ করেছেন যে গুরুত্বপূর্ণ ইসলামী দেশগুলোর এই অংশগ্রহণ আঞ্চলিক ঐক্য ও নিরাপত্তাকে আরও সুদৃঢ় করবে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানায়, আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি ছাড়াও তেহরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা এবং এর সামগ্রিক প্রভাব নিয়ে চার দেশের প্রতিনিধিরা কথা বলেছেন। উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি অংশ নেন। আলোচনায় ইরানের পক্ষে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজায়ি উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান ও তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধান ইব্রাহিম কালিন বৈঠকে প্রতিনিধিত্ব করেন।

বৈঠক শেষে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন নিশ্চিত করেছে, প্রথম দফার আলোচনা শেষে চার দেশ পারস্পরিক সহযোগিতা ও যোগাযোগ অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত হয়েছে। এতে আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠা ও নিরাপত্তার বিষয়ে ধারাবাহিক আলোচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থার উপসচিব আলী বাঘেরি কানি জানান, পশ্চিম এশিয়ায় বহিরাগত প্রভাব ছাড়া নিজস্ব উদ্যোগে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টার অংশ হিসেবেই এই আলোচনার আয়োজন করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবে ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের আক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ওয়াশিংটন-তেহরান কূটনৈতিক টানাপোড়েন চরম আকার ধারণ করেছে। সৌদি আরব এই সংকটে গভীরভাবে যুক্ত হওয়ার প্রেক্ষাপটে তেহরানের এই বৈঠক নতুন গুরুত্ব পাচ্ছে। গত আগস্টে স্বাক্ষরিত মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির শর্তানুযায়ী, কোনো এক সদস্য দেশের ওপর হামলা হলে তা পুরো জোটের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য হবে। এমন পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানো ও কূটনৈতিক উপায়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তেহরানে এই চারপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

আঞ্চলিক ঐক্য জোরদারে মুসলিম দেশগুলোর প্রতি আহ্বান পেজেশকিয়ানের

আপডেট সময় : ১১:২৪:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

আঞ্চলিক সংহতি শক্তিশালী করতে প্রভাবশালী মুসলিম দেশগুলোকে একসঙ্গে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। সোমবার (২৬ অক্টোবর) তেহরানে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ তাগিদ দেন। সম্প্রতি মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করা দেশগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ইরানের প্রেসিডেন্টের দপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিবৃতিতে জানানো হয়, পেজেশকিয়ান আশা প্রকাশ করেছেন যে গুরুত্বপূর্ণ ইসলামী দেশগুলোর এই অংশগ্রহণ আঞ্চলিক ঐক্য ও নিরাপত্তাকে আরও সুদৃঢ় করবে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানায়, আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি ছাড়াও তেহরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা এবং এর সামগ্রিক প্রভাব নিয়ে চার দেশের প্রতিনিধিরা কথা বলেছেন। উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি অংশ নেন। আলোচনায় ইরানের পক্ষে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজায়ি উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান ও তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধান ইব্রাহিম কালিন বৈঠকে প্রতিনিধিত্ব করেন।

বৈঠক শেষে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন নিশ্চিত করেছে, প্রথম দফার আলোচনা শেষে চার দেশ পারস্পরিক সহযোগিতা ও যোগাযোগ অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত হয়েছে। এতে আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠা ও নিরাপত্তার বিষয়ে ধারাবাহিক আলোচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থার উপসচিব আলী বাঘেরি কানি জানান, পশ্চিম এশিয়ায় বহিরাগত প্রভাব ছাড়া নিজস্ব উদ্যোগে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টার অংশ হিসেবেই এই আলোচনার আয়োজন করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবে ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের আক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ওয়াশিংটন-তেহরান কূটনৈতিক টানাপোড়েন চরম আকার ধারণ করেছে। সৌদি আরব এই সংকটে গভীরভাবে যুক্ত হওয়ার প্রেক্ষাপটে তেহরানের এই বৈঠক নতুন গুরুত্ব পাচ্ছে। গত আগস্টে স্বাক্ষরিত মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির শর্তানুযায়ী, কোনো এক সদস্য দেশের ওপর হামলা হলে তা পুরো জোটের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য হবে। এমন পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানো ও কূটনৈতিক উপায়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তেহরানে এই চারপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো।