ঢাকা ০২:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

পাঠ্য বইয়ে বিতর্ক: এনসিটিবি’র ৯ কর্মকর্তাকে বদলি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৮:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ১৯ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

২০২৭ শিক্ষাবর্ষ শুরু হতে বাকি মাত্র দুই মাস। তবে পাঠ্য বইয়ে রাজনৈতিক প্রতীক ব্যবহারের বিতর্ক ঘিরে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে (এনসিটিবি) এক অস্থির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে ‘দাঁড়িপাল্লা’র ছবি ব্যবহার করা নিয়ে বিতর্কের জেরে ইতিমধ্যে ছাপানো ২০ লাখ বই ফেরত আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বোর্ড। এ ঘটনায় সোমবার এনসিটিবি’র ৯ জন কর্মকর্তাকে বিভিন্ন সরকারি কলেজে বদলি করা হয়েছে। এর আগের দিন আরও একজন কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়। তবে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বইয়ে আবার পুরনো নকশায় ‘দাঁড়িপাল্লা’র ছবি ফিরে আসে। ‘দাঁড়িপাল্লা’ একটি রাজনৈতিক দলের নিবন্ধিত নির্বাচনী প্রতীক হওয়ায় এ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। কিন্তু এরই মধ্যে পাঠ্য বই নিয়ে বেধেছে তালগোল। সংশোধনের পর আবার বিতরণ হবে পাঠ্য বইগুলো। নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগে এই সংশোধন কার্যক্রম শেষ করা এনসিটিবি’র জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বই সংশোধন ও পুনর্মুদ্রণের এই কার্যক্রমে সরকারের অতিরিক্ত ১৭ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বর্তমানে প্রতিটি বই ছাপাতে প্রায় ৫৭ টাকা খরচ হয়। আগামী ৩০শে নভেম্বরের মধ্যে সংশোধিত বই মাঠপর্যায়ে পৌঁছানোর লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে এনসিটিবি। ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ের ‘উপাত্ত ও তথ্য’ অংশে আগে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে দাঁড়িপাল্লা ব্যবহৃত হলেও পরবর্তী সিদ্ধান্তের আলোকে এখন কোনো প্রতীক বা আইকন ছাড়াই বই ছাপানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানান এনসিটিবি সদস্য এ কে এম শওকত আলী খান। পরে নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জ্ঞানের পিরামিডের চারটি স্তরের নাম থাকলেও কোনো প্রতীক বা আইকন রাখা হবে না বলে জানানো হয়। পরবর্তী সময়ে বিষয়গুলো আরও পরিমার্জন করা হবে।

বিতর্কের তালিকায় দাঁড়িপাল্লার পাশাপাশি প্রাথমিক পর্যায়ের বাংলা, ইংরেজি ও বিজ্ঞান বইয়ে নৌকার ছবিও রয়েছে। সূত্রমতে, প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণির বাংলা বইয়ে মোট ৮২টি নৌকার ছবি রয়েছে, যার মধ্যে প্রথম শ্রেণিতে ৩৪টি, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ২৩টি ও তৃতীয় শ্রেণিতে ২৫টি ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। যদিও এসব ছবি ২০২৫ ও ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের বইয়েও ছিল বলে জানা গেছে। ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের বইয়ে সেটির পরিবর্তে মানুষের মস্তিষ্কের ছবি ব্যবহার করা হয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বদলি হওয়া কর্মকর্তাদের আগামী ২৯শে অক্টোবরের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল ত্যাগ করতে হবে। অন্যথায় ঐদিন অপরাহ্নে তারা তাৎক্ষণিক অবমুক্ত বলে গণ্য হবেন। বদলি হওয়া ব্যক্তিরা সবাই বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তা। এর আগে রোববার ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বই সম্পাদনার দায়িত্বে থাকা গবেষণা কর্মকর্তা মু. আব্দুল্লাহ আল জোবায়েরকে খাগড়াছড়ি সরকারি মহিলা কলেজে বদলি করা হয়।

এদিকে, এনসিটিবি’র কর্মকর্তাদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন, প্রাথমিক বইয়ে নৌকার ছবি ব্যবহারের নেপথ্যে থাকা অনেক বিশেষজ্ঞকে এখনো বদলি বা কোনো শাস্তির আওতায় আনা হয়নি। এ বিষয়ে এনসিটিবি চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা জানান, বদলি সম্পূর্ণ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত বিষয় এবং এতে তার কোনো ভূমিকা নেই। কর্মকর্তাদের বদলির সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কেও তিনি অবগত নন বলে উল্লেখ করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

পাঠ্য বইয়ে বিতর্ক: এনসিটিবি’র ৯ কর্মকর্তাকে বদলি

আপডেট সময় : ০৭:৩৮:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

২০২৭ শিক্ষাবর্ষ শুরু হতে বাকি মাত্র দুই মাস। তবে পাঠ্য বইয়ে রাজনৈতিক প্রতীক ব্যবহারের বিতর্ক ঘিরে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে (এনসিটিবি) এক অস্থির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে ‘দাঁড়িপাল্লা’র ছবি ব্যবহার করা নিয়ে বিতর্কের জেরে ইতিমধ্যে ছাপানো ২০ লাখ বই ফেরত আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বোর্ড। এ ঘটনায় সোমবার এনসিটিবি’র ৯ জন কর্মকর্তাকে বিভিন্ন সরকারি কলেজে বদলি করা হয়েছে। এর আগের দিন আরও একজন কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়। তবে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বইয়ে আবার পুরনো নকশায় ‘দাঁড়িপাল্লা’র ছবি ফিরে আসে। ‘দাঁড়িপাল্লা’ একটি রাজনৈতিক দলের নিবন্ধিত নির্বাচনী প্রতীক হওয়ায় এ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। কিন্তু এরই মধ্যে পাঠ্য বই নিয়ে বেধেছে তালগোল। সংশোধনের পর আবার বিতরণ হবে পাঠ্য বইগুলো। নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগে এই সংশোধন কার্যক্রম শেষ করা এনসিটিবি’র জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বই সংশোধন ও পুনর্মুদ্রণের এই কার্যক্রমে সরকারের অতিরিক্ত ১৭ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বর্তমানে প্রতিটি বই ছাপাতে প্রায় ৫৭ টাকা খরচ হয়। আগামী ৩০শে নভেম্বরের মধ্যে সংশোধিত বই মাঠপর্যায়ে পৌঁছানোর লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে এনসিটিবি। ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ের ‘উপাত্ত ও তথ্য’ অংশে আগে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে দাঁড়িপাল্লা ব্যবহৃত হলেও পরবর্তী সিদ্ধান্তের আলোকে এখন কোনো প্রতীক বা আইকন ছাড়াই বই ছাপানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানান এনসিটিবি সদস্য এ কে এম শওকত আলী খান। পরে নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জ্ঞানের পিরামিডের চারটি স্তরের নাম থাকলেও কোনো প্রতীক বা আইকন রাখা হবে না বলে জানানো হয়। পরবর্তী সময়ে বিষয়গুলো আরও পরিমার্জন করা হবে।

বিতর্কের তালিকায় দাঁড়িপাল্লার পাশাপাশি প্রাথমিক পর্যায়ের বাংলা, ইংরেজি ও বিজ্ঞান বইয়ে নৌকার ছবিও রয়েছে। সূত্রমতে, প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণির বাংলা বইয়ে মোট ৮২টি নৌকার ছবি রয়েছে, যার মধ্যে প্রথম শ্রেণিতে ৩৪টি, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ২৩টি ও তৃতীয় শ্রেণিতে ২৫টি ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। যদিও এসব ছবি ২০২৫ ও ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের বইয়েও ছিল বলে জানা গেছে। ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের বইয়ে সেটির পরিবর্তে মানুষের মস্তিষ্কের ছবি ব্যবহার করা হয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বদলি হওয়া কর্মকর্তাদের আগামী ২৯শে অক্টোবরের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল ত্যাগ করতে হবে। অন্যথায় ঐদিন অপরাহ্নে তারা তাৎক্ষণিক অবমুক্ত বলে গণ্য হবেন। বদলি হওয়া ব্যক্তিরা সবাই বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তা। এর আগে রোববার ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বই সম্পাদনার দায়িত্বে থাকা গবেষণা কর্মকর্তা মু. আব্দুল্লাহ আল জোবায়েরকে খাগড়াছড়ি সরকারি মহিলা কলেজে বদলি করা হয়।

এদিকে, এনসিটিবি’র কর্মকর্তাদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন, প্রাথমিক বইয়ে নৌকার ছবি ব্যবহারের নেপথ্যে থাকা অনেক বিশেষজ্ঞকে এখনো বদলি বা কোনো শাস্তির আওতায় আনা হয়নি। এ বিষয়ে এনসিটিবি চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা জানান, বদলি সম্পূর্ণ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত বিষয় এবং এতে তার কোনো ভূমিকা নেই। কর্মকর্তাদের বদলির সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কেও তিনি অবগত নন বলে উল্লেখ করেন।