ঢাকা ০২:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনায় নিউজিল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডার্ন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:০৭:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ২২ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নিউজিল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডার্ন এবার শিক্ষাঙ্গনে নতুন এক অধ্যায় শুরু করছেন। তাকে অস্ট্রেলিয়ার সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অ্যান্ড হেলথ অনুষদে ‘প্রফেসর অব প্র্যাকটিস’ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই পদটি পূর্ণকালীন শিক্ষকতার নয়, বরং এখানে আরডার্ন তার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সংকট মোকাবিলার দক্ষতা শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরবেন। তিনি সহানুভূতিশীল নেতৃত্ব, সামাজিক সংহতি এবং নাগরিক আস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কাজ করার পাশাপাশি অতিথি বক্তা হিসেবে মাস্টারক্লাস ও লেকচার পরিচালনা করবেন।

নতুন এই দায়িত্ব গ্রহণ প্রসঙ্গে জাসিন্ডা আরডার্ন জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী পদ ছাড়ার পর থেকেই তিনি জননেতৃত্বের নানা দিক নিয়ে গভীরভাবে ভাবছেন। সমাজকে কার্যকরভাবে সেবা দেওয়ার নতুন উপায় উদ্ভাবন ও তা বাস্তবে রূপায়ণে তিনি বিশেষ আগ্রহী। সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও প্রেসিডেন্ট মার্ক স্কট এই নিয়োগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, জনজীবনে আরডার্নের সাহস ও মানবিকতার প্রতি দীর্ঘদিনের শ্রদ্ধা রয়েছে। তিনি আরও যোগ করেন, জাসিন্ডার অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের জন্য শুধু সাবেক প্রধানমন্ত্রীর অভিজ্ঞতা হিসেবে নয়, বরং জনসেবা ও জননেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হিসেবে কাজ করবে। শিক্ষার্থীরা তার কাছ থেকে শেখার সুযোগ পাবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আরডার্নের অভিজ্ঞতা শুধু একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর অভিজ্ঞতা নয়, জননেতৃত্ব ও জনসেবা সম্পর্কেও তা গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেবে।

উল্লেখ্য যে, জাসিন্ডা আরডার্ন ২০১৭ সালে মাত্র ৩৭ বছর বয়সে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০২৩ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকাকালীন তিনি বেশ কয়েকটি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেছেন। এর মধ্যে ২০১৯ সালের ক্রাইস্টচার্চ মসজিদে সন্ত্রাসী হামলা, হোয়াকারি হোয়াইট আইল্যান্ডে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত এবং কোভিড-১৯ মহামারি অন্যতম। প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর কয়েক মাস পর ২০২৩ সালে নিউজিল্যান্ডের প্রতি তার অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে ‘ডেমহুড’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

ব্যক্তিগত জীবনে আরডার্ন ও তার পরিবার বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করছেন। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তারা অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ী হয়েছেন। এছাড়া স্বামী ক্লার্ক গেফোর্ডের সঙ্গে তিনি সিডনির নর্দার্ন বিচেস এলাকায় প্রায় ৫.৩ মিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি বাড়ি কিনেছেন বলে জানা গেছে। বৈশ্বিক স্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ ও মানুষের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করার নতুন পথ খুঁজে বের করাই হবে তার বর্তমান কর্মক্ষেত্রের মূল লক্ষ্য। তার মতে, বর্তমান বিশ্বের জটিল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় নেতৃত্বকে আরও কার্যকরভাবে সহায়তা ও উৎসাহিত করা জরুরি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনায় নিউজিল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডার্ন

আপডেট সময় : ১২:০৭:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

নিউজিল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডার্ন এবার শিক্ষাঙ্গনে নতুন এক অধ্যায় শুরু করছেন। তাকে অস্ট্রেলিয়ার সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অ্যান্ড হেলথ অনুষদে ‘প্রফেসর অব প্র্যাকটিস’ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই পদটি পূর্ণকালীন শিক্ষকতার নয়, বরং এখানে আরডার্ন তার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সংকট মোকাবিলার দক্ষতা শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরবেন। তিনি সহানুভূতিশীল নেতৃত্ব, সামাজিক সংহতি এবং নাগরিক আস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কাজ করার পাশাপাশি অতিথি বক্তা হিসেবে মাস্টারক্লাস ও লেকচার পরিচালনা করবেন।

নতুন এই দায়িত্ব গ্রহণ প্রসঙ্গে জাসিন্ডা আরডার্ন জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী পদ ছাড়ার পর থেকেই তিনি জননেতৃত্বের নানা দিক নিয়ে গভীরভাবে ভাবছেন। সমাজকে কার্যকরভাবে সেবা দেওয়ার নতুন উপায় উদ্ভাবন ও তা বাস্তবে রূপায়ণে তিনি বিশেষ আগ্রহী। সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও প্রেসিডেন্ট মার্ক স্কট এই নিয়োগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, জনজীবনে আরডার্নের সাহস ও মানবিকতার প্রতি দীর্ঘদিনের শ্রদ্ধা রয়েছে। তিনি আরও যোগ করেন, জাসিন্ডার অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের জন্য শুধু সাবেক প্রধানমন্ত্রীর অভিজ্ঞতা হিসেবে নয়, বরং জনসেবা ও জননেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হিসেবে কাজ করবে। শিক্ষার্থীরা তার কাছ থেকে শেখার সুযোগ পাবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আরডার্নের অভিজ্ঞতা শুধু একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর অভিজ্ঞতা নয়, জননেতৃত্ব ও জনসেবা সম্পর্কেও তা গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেবে।

উল্লেখ্য যে, জাসিন্ডা আরডার্ন ২০১৭ সালে মাত্র ৩৭ বছর বয়সে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০২৩ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকাকালীন তিনি বেশ কয়েকটি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেছেন। এর মধ্যে ২০১৯ সালের ক্রাইস্টচার্চ মসজিদে সন্ত্রাসী হামলা, হোয়াকারি হোয়াইট আইল্যান্ডে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত এবং কোভিড-১৯ মহামারি অন্যতম। প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর কয়েক মাস পর ২০২৩ সালে নিউজিল্যান্ডের প্রতি তার অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে ‘ডেমহুড’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

ব্যক্তিগত জীবনে আরডার্ন ও তার পরিবার বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করছেন। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তারা অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ী হয়েছেন। এছাড়া স্বামী ক্লার্ক গেফোর্ডের সঙ্গে তিনি সিডনির নর্দার্ন বিচেস এলাকায় প্রায় ৫.৩ মিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি বাড়ি কিনেছেন বলে জানা গেছে। বৈশ্বিক স্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ ও মানুষের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করার নতুন পথ খুঁজে বের করাই হবে তার বর্তমান কর্মক্ষেত্রের মূল লক্ষ্য। তার মতে, বর্তমান বিশ্বের জটিল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় নেতৃত্বকে আরও কার্যকরভাবে সহায়তা ও উৎসাহিত করা জরুরি।