ছাত্রদল নেতা শাকিল মৃত্যুর ঘটনা: এমপির ছেলেকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ
- আপডেট সময় : ০৩:৫২:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ১৯ বার পড়া হয়েছে
নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আজিজুর রহমান আজিজের ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুকে গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব শাকিল ইসলাম হত্যা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। গত সোমবার রাতে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাকিলের মৃত্যুর পরপরই তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইফতে খায়ের আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বর্তমানে মিন্টুকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে, তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তার সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসা সম্ভব নয়। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরবর্তীতে জানানো হবে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও হামলা
এর আগে, গত ১৪ অক্টোবর রাত ১০টার দিকে হামলায় আহত হন শাকিল ইসলাম। তিনি গুরুদাসপুর পৌর সদরের চাঁচকৈড় কাচারিপাড়া মহল্লার বাসিন্দা রবিউল করিম মিস্ত্রির ছেলে। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার রাতে মোটরসাইকেলে আসা হেলমেট পরা দুই ব্যক্তি চাঁচকৈড় বাজারপাড়া সড়কে পৌর বিএনপির আহ্বায়ক দুলাল সরকারের বাড়ির কাছে শাকিলের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। দুর্বৃত্তরা এ সময় দুই রাউন্ড গুলি ছোড়ে এবং শাকিল পালিয়ে শহিদা জলিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে অবস্থার অবনতির কারণে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে ১২ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
মামলা ও বিক্ষোভ কর্মসূচি
শাকিলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে গুরুদাসপুরের চাঁচকৈড় বাজারে তীব্র ক্ষোভ দেখা দেয়। হত্যার বিচার ও অবিলম্বে আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নান জানান, গত ১৯ অক্টোবর শাকিলের বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ৮-১০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, তদন্তের প্রয়োজনে এখনই সব তথ্য প্রকাশ করা যাচ্ছে না, তবে আসামিদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারের জন্য জোর প্রচেষ্টা চলছে। শাকিলের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জোরালো হচ্ছে। পুলিশ হেফাজতে মিন্টুকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা পরিকল্পনাকারীদের নাম উঠে আসবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা। তদন্ত কার্যক্রম বর্তমানে নাটোর জেলা পুলিশের নিবিড় তত্ত্বাবধানে রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এখনই কিছু বলা যাচ্ছেনা।

























