ঢাকা ০৩:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পৌঁছাল দ্বিতীয় ইউনিটের ইউরেনিয়ামের তৃতীয় চালান

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:০৪:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ২১ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে রাশিয়া থেকে আনা ইউরেনিয়ামের (পারমাণবিক জ্বালানি) নতুন চালান এসে পৌঁছেছে। এটি প্রকল্পের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য আনা তৃতীয় চালান। মঙ্গলবার ভোরে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিশেষ গাড়িবহরটি পাবনার উদ্দেশে রওনা হয়। এরপর যমুনা সেতু, নাটোর এবং কুষ্টিয়া-পাবনা মহাসড়ক অতিক্রম করে সকাল আটটার দিকে রূপপুরে পৌঁছায়। এ সময় রূপপুরে কর্মরত রাশিয়ার নাগরিকেরা গাড়িবহরটিকে আন্তরিক স্বাগত জানান।

নিরাপত্তা ও জ্বালানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা

প্রকল্পের সাইট ইনচার্জ রুহুল কুদ্দুস জানান, ইউরেনিয়ামের এই চালান প্রকল্পের দ্বিতীয় ইউনিটের তৃতীয় চালান হিসেবে এসেছে। সকাল সাড়ে আটটার দিকে সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তায় পারমাণবিক জ্বালানিবাহী লরি প্রকল্প এলাকায় প্রবেশ করে। আন্তর্জাতিক নীতিমালা কঠোরভাবে মেনে এই জ্বালানি বিদ্যুৎকেন্দ্রে সংরক্ষণ করা হবে। পুরো সড়কজুড়ে বিশেষ নিরাপত্তার দায়িত্বে সেনাবাহিনীর পাশাপাশি পুলিশ, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা নিয়োজিত ছিলেন। ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান জানান, যানজট এড়াতে সকাল সাড়ে সাতটা থেকে আটটা পর্যন্ত পাবনা-নাটোর ও পাবনা-কুষ্টিয়া মহাসড়কে যানবাহন চলাচল সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছিল। ইউরেনিয়াম বহর পৌঁছানোর পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

জ্বালানি সরবরাহ ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, প্রথম ইউনিটের অতিরিক্ত চাহিদা মেটাতে এবং দ্বিতীয় ইউনিট চালুর প্রয়োজনীয়তায় রাশিয়া থেকে আরও আটটি চালানে পারমাণবিক জ্বালানি দেশে আনা হবে। এর আগে গত ৩ ও ২১ অক্টোবর প্রথম দুটি চালান দেশে পৌঁছায়। আগামী নভেম্বর ও ডিসেম্বরের মধ্যে বাকি চালানগুলো আসার কথা রয়েছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পরমাণু শক্তি কমিশন রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় দেশের প্রথম এই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাস্তবায়ন করছে।

প্রকল্পটির আওতায় ঠিকাদার হিসেবে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের দুটি ইউনিট নির্মাণ করছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থা রোসাটমের সহযোগী প্রতিষ্ঠান অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্ট। সময়মতো সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে চলতি বছরের নভেম্বরের মধ্যে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে পরীক্ষামূলকভাবে ২০০ থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পৌঁছাল দ্বিতীয় ইউনিটের ইউরেনিয়ামের তৃতীয় চালান

আপডেট সময় : ১০:০৪:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে রাশিয়া থেকে আনা ইউরেনিয়ামের (পারমাণবিক জ্বালানি) নতুন চালান এসে পৌঁছেছে। এটি প্রকল্পের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য আনা তৃতীয় চালান। মঙ্গলবার ভোরে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিশেষ গাড়িবহরটি পাবনার উদ্দেশে রওনা হয়। এরপর যমুনা সেতু, নাটোর এবং কুষ্টিয়া-পাবনা মহাসড়ক অতিক্রম করে সকাল আটটার দিকে রূপপুরে পৌঁছায়। এ সময় রূপপুরে কর্মরত রাশিয়ার নাগরিকেরা গাড়িবহরটিকে আন্তরিক স্বাগত জানান।

নিরাপত্তা ও জ্বালানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা

প্রকল্পের সাইট ইনচার্জ রুহুল কুদ্দুস জানান, ইউরেনিয়ামের এই চালান প্রকল্পের দ্বিতীয় ইউনিটের তৃতীয় চালান হিসেবে এসেছে। সকাল সাড়ে আটটার দিকে সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তায় পারমাণবিক জ্বালানিবাহী লরি প্রকল্প এলাকায় প্রবেশ করে। আন্তর্জাতিক নীতিমালা কঠোরভাবে মেনে এই জ্বালানি বিদ্যুৎকেন্দ্রে সংরক্ষণ করা হবে। পুরো সড়কজুড়ে বিশেষ নিরাপত্তার দায়িত্বে সেনাবাহিনীর পাশাপাশি পুলিশ, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা নিয়োজিত ছিলেন। ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান জানান, যানজট এড়াতে সকাল সাড়ে সাতটা থেকে আটটা পর্যন্ত পাবনা-নাটোর ও পাবনা-কুষ্টিয়া মহাসড়কে যানবাহন চলাচল সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছিল। ইউরেনিয়াম বহর পৌঁছানোর পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

জ্বালানি সরবরাহ ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, প্রথম ইউনিটের অতিরিক্ত চাহিদা মেটাতে এবং দ্বিতীয় ইউনিট চালুর প্রয়োজনীয়তায় রাশিয়া থেকে আরও আটটি চালানে পারমাণবিক জ্বালানি দেশে আনা হবে। এর আগে গত ৩ ও ২১ অক্টোবর প্রথম দুটি চালান দেশে পৌঁছায়। আগামী নভেম্বর ও ডিসেম্বরের মধ্যে বাকি চালানগুলো আসার কথা রয়েছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পরমাণু শক্তি কমিশন রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় দেশের প্রথম এই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাস্তবায়ন করছে।

প্রকল্পটির আওতায় ঠিকাদার হিসেবে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের দুটি ইউনিট নির্মাণ করছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থা রোসাটমের সহযোগী প্রতিষ্ঠান অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্ট। সময়মতো সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে চলতি বছরের নভেম্বরের মধ্যে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে পরীক্ষামূলকভাবে ২০০ থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।