ঢাকা ০২:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অঙ্গীকার জাপানের প্রধানমন্ত্রীর

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৪৪:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ১৮ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কৌশলগত অংশীদারত্ব জোরদার ও অভিন্ন সমৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। মঙ্গলবার নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে এ সংক্রান্ত একটি পোস্ট দেন তিনি। এর আগে সকালে টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘কানতেই’-তে সফররত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন তাকাইচি। এই বৈঠকের পরই তারা যৌথভাবে নতুন কর্মপরিকল্পনার ঘোষণা দেন।

তাকাইচি তার পোস্টে বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় তারেক রহমানকে ব্যক্তিগতভাবে অভিনন্দন জানাতে পেরে তিনি আনন্দিত। তিনি জানান, গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের মূল্যবোধে বিশ্বাসী বাংলাদেশের রাষ্ট্রগঠনের প্রচেষ্টায় জাপান জোরালো সমর্থন দিয়ে যাবে। এছাড়া অবাধ ও উন্মুক্ত ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল (এফওআইপি) প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের ভূমিকা ও গুরুত্ব নিয়ে দুই নেতার মধ্যে আলোচনা হয়েছে। গণতান্ত্রিক সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা তারেক রহমান সরকারের রাষ্ট্রগঠন প্রচেষ্টায় জাপান জোরাল সমর্থন দেবে। একসঙ্গে আমরা আরও শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ হব।

জাপানি প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, বঙ্গোপসাগরীয় শিল্প প্রবৃদ্ধি বলয়কে যৌথ সমৃদ্ধির জন্য ‘বিগ-বি’ নামক নতুন কৌশলগত উদ্যোগে উন্নীত করতে দুই দেশ একমত হয়েছে। তারেক রহমান এসময় বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে জাপানের প্রাথমিক স্বীকৃতির বিষয়টি স্মরণ করেন। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থল এবং ১৭ কোটি মানুষের বাজার হওয়ায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক গুরুত্ব জাপানের কাছে অত্যন্ত বেশি বলে মন্তব্য করেন তাকাইচি। দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী কৌশলগত অবস্থান এবং ১৭ কোটি মানুষের বৃহৎ বাজারের কারণে জাপানের অর্থনীতির জন্য বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ বলেও মন্তব্য করে সানায়ে তাকাইচি। বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে জাপানের বিশেষ স্থান রয়েছে।

যৌথ ঘোষণায় বলা হয়েছে, কৌশলগত অংশীদারত্বের আওতায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি, গভীর সমুদ্রবন্দর ও তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো খাতে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে কাজ করবে উভয় দেশ। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশকে বাণিজ্যের প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তোলা এবং সরবরাহব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

আগামী পাঁচ বছরে জাপানের বেসরকারি খাত বাংলাদেশে এক ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগ করতে পারে বলে যৌথ ঘোষণায় জানানো হয়। এই বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশে দুই লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হবে। সফররত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সানায়ে তাকাইচির এই বৈঠকের মধ্য দিয়ে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও দৃঢ় হওয়ার পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও জ্বালানি নিরাপত্তায় নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র উন্মোচিত হলো।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অঙ্গীকার জাপানের প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট সময় : ১০:৪৪:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

কৌশলগত অংশীদারত্ব জোরদার ও অভিন্ন সমৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। মঙ্গলবার নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে এ সংক্রান্ত একটি পোস্ট দেন তিনি। এর আগে সকালে টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘কানতেই’-তে সফররত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন তাকাইচি। এই বৈঠকের পরই তারা যৌথভাবে নতুন কর্মপরিকল্পনার ঘোষণা দেন।

তাকাইচি তার পোস্টে বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় তারেক রহমানকে ব্যক্তিগতভাবে অভিনন্দন জানাতে পেরে তিনি আনন্দিত। তিনি জানান, গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের মূল্যবোধে বিশ্বাসী বাংলাদেশের রাষ্ট্রগঠনের প্রচেষ্টায় জাপান জোরালো সমর্থন দিয়ে যাবে। এছাড়া অবাধ ও উন্মুক্ত ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল (এফওআইপি) প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের ভূমিকা ও গুরুত্ব নিয়ে দুই নেতার মধ্যে আলোচনা হয়েছে। গণতান্ত্রিক সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা তারেক রহমান সরকারের রাষ্ট্রগঠন প্রচেষ্টায় জাপান জোরাল সমর্থন দেবে। একসঙ্গে আমরা আরও শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ হব।

জাপানি প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, বঙ্গোপসাগরীয় শিল্প প্রবৃদ্ধি বলয়কে যৌথ সমৃদ্ধির জন্য ‘বিগ-বি’ নামক নতুন কৌশলগত উদ্যোগে উন্নীত করতে দুই দেশ একমত হয়েছে। তারেক রহমান এসময় বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে জাপানের প্রাথমিক স্বীকৃতির বিষয়টি স্মরণ করেন। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থল এবং ১৭ কোটি মানুষের বাজার হওয়ায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক গুরুত্ব জাপানের কাছে অত্যন্ত বেশি বলে মন্তব্য করেন তাকাইচি। দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী কৌশলগত অবস্থান এবং ১৭ কোটি মানুষের বৃহৎ বাজারের কারণে জাপানের অর্থনীতির জন্য বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ বলেও মন্তব্য করে সানায়ে তাকাইচি। বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে জাপানের বিশেষ স্থান রয়েছে।

যৌথ ঘোষণায় বলা হয়েছে, কৌশলগত অংশীদারত্বের আওতায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি, গভীর সমুদ্রবন্দর ও তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো খাতে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে কাজ করবে উভয় দেশ। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশকে বাণিজ্যের প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তোলা এবং সরবরাহব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

আগামী পাঁচ বছরে জাপানের বেসরকারি খাত বাংলাদেশে এক ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগ করতে পারে বলে যৌথ ঘোষণায় জানানো হয়। এই বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশে দুই লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হবে। সফররত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সানায়ে তাকাইচির এই বৈঠকের মধ্য দিয়ে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও দৃঢ় হওয়ার পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও জ্বালানি নিরাপত্তায় নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র উন্মোচিত হলো।