ঢাকা ০৯:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

আরব দলগুলোর অভূতপূর্ব জয়ে ভোট চুরির অভিযোগ নেতানিয়াহুর

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:০০:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনে আরব দলগুলোর নাটকীয় ও ঐতিহাসিক সাফল্যের পরপরই তোপের মুখে পড়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে আরব নেতৃত্বাধীন দল ‘রা’আম’ এবং ‘জয়েন্ট লিস্ট’ রেকর্ড সংখ্যক আসনে জয় পাওয়ার আভাস পাওয়ার পরই নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টি ‘ভোট চুরির’ অভিযোগ সামনে এনেছে। লিকুদ পার্টির দাবি, এই নির্বাচন ছিল ত্রুটিপূর্ণ এবং আরব দলগুলো জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে তাদের আসন সংখ্যা বাড়িয়ে নিয়েছে। এর প্রেক্ষিতে লিকুদ নেতৃত্ব পুলিশ এবং অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেতের কাছে ব্যাপক তদন্তের দাবি জানিয়েছে। লিকুদ পার্টি সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানালেও, সিইসির এক কর্মকর্তা আগেই টেলিভিশন চ্যানেল ১২–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জালিয়াতির দাবি নাকচ করে দিয়েছেন।

নির্বাচনী পূর্বাভাসের হিসাব অনুযায়ী, এবারের নেসেট বা ইসরায়েলি পার্লামেন্টে আরব দলগুলো সম্মিলিতভাবে রেকর্ড ১৯টি আসনে জয়লাভ করতে পারে, যা তাদের বর্তমান ১০টি আসনের প্রায় দ্বিগুণ। এই উত্থান ইসরায়েলের রাজনীতির মেরুকরণ বদলে দিতে পারে। ১২০ আসনের নেসেটে সরকার গঠনের জন্য ৬১ আসনের প্রয়োজন। সাম্প্রতিক ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, নেতানিয়াহুর জোট ৫৩টি এবং তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন জোট ৪৮টি আসন পেতে যাচ্ছে। ফলে আরব দলগুলোর সমর্থন যেকোনো পক্ষকেই সরকার গঠনে ‘কিংমেকার’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। আরব দলগুলোর এই উত্থানের অর্থ হলো, ১২০ সদস্যের নেসেটে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন থেকে নেতানিয়াহুর জোট এবং তার বিরোধী ইহুদি নেতৃত্বাধীন দলগুলো—উভয়ই অনেক দূরে থাকবে।

লীকুদ পার্টির দাবি অনুযায়ী, ‘সন্ত্রাসবাদ এবং ইহুদি রাষ্ট্র ধ্বংসের সমর্থক’ আরব দলগুলো ভোটারদের প্রভাবিত করতে অবৈধ সফটওয়্যার ব্যবহার, ভয়ভীতি প্রদর্শন, সহিংসতা ও ঘুষের মতো গুরুতর অপরাধ করেছে। লিকুদ পার্টি জানিয়েছে, তাদের কাছে ভোটকেন্দ্রের জালিয়াতি, নগদ অর্থ লেনদেন ও জাল ভোটের ‘শত শত প্রমাণ’ রয়েছে যা তারা নির্বাচন কমিটির কাছে জমা দিয়েছে। তবে ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির এক কর্মকর্তা এসব জালিয়াতির অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা প্রতিটি নির্বাচনের মতো এবারও যথাযথ নিয়মে অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করছে।

নির্বাচনের আগে থেকেই বিভিন্ন হিব্রু গণমাধ্যমে গুঞ্জন ছিল যে, লিকুদ পার্টি কাঙ্ক্ষিত আসন না পেলে ভোটের ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে।

রাজনৈতিক এই অচলবস্থায় রা’আম দলের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা ইয়োভ সেগালোভিৎজ জানিয়েছেন, তার দল পরবর্তী সরকারে যুক্ত হতে আগ্রহী, তবে সেই সরকারকে অবশ্যই আরব ভোটারদের স্বার্থকে প্রধান্য দিতে হবে। এমন পরিস্থিতির মধ্যে বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটসের নেতা ইয়ার গোলান ইহুদি ও আরব দলগুলোর সমন্বয়ে একটি নতুন জোট গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। গোলান মনে করেন, পরিবর্তনকামী জোটের সদস্যদের উচিত রা’আম ও জয়েন্ট লিস্টের সাথে কাজ করার পুরনো মানসিকতা ঝেড়ে ফেলা। বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ৮৫ শতাংশ ভোট গণনা শেষে নির্বাচনী পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল অবস্থায় রয়েছে। তবে যাকে প্রধানমন্ত্রী মনোনীত করা হবে, তাকে অবশ্যই আরব ভোটারদের স্বার্থ বিবেচনায় নিতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

আরব দলগুলোর অভূতপূর্ব জয়ে ভোট চুরির অভিযোগ নেতানিয়াহুর

আপডেট সময় : ০৭:০০:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনে আরব দলগুলোর নাটকীয় ও ঐতিহাসিক সাফল্যের পরপরই তোপের মুখে পড়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে আরব নেতৃত্বাধীন দল ‘রা’আম’ এবং ‘জয়েন্ট লিস্ট’ রেকর্ড সংখ্যক আসনে জয় পাওয়ার আভাস পাওয়ার পরই নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টি ‘ভোট চুরির’ অভিযোগ সামনে এনেছে। লিকুদ পার্টির দাবি, এই নির্বাচন ছিল ত্রুটিপূর্ণ এবং আরব দলগুলো জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে তাদের আসন সংখ্যা বাড়িয়ে নিয়েছে। এর প্রেক্ষিতে লিকুদ নেতৃত্ব পুলিশ এবং অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেতের কাছে ব্যাপক তদন্তের দাবি জানিয়েছে। লিকুদ পার্টি সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানালেও, সিইসির এক কর্মকর্তা আগেই টেলিভিশন চ্যানেল ১২–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জালিয়াতির দাবি নাকচ করে দিয়েছেন।

নির্বাচনী পূর্বাভাসের হিসাব অনুযায়ী, এবারের নেসেট বা ইসরায়েলি পার্লামেন্টে আরব দলগুলো সম্মিলিতভাবে রেকর্ড ১৯টি আসনে জয়লাভ করতে পারে, যা তাদের বর্তমান ১০টি আসনের প্রায় দ্বিগুণ। এই উত্থান ইসরায়েলের রাজনীতির মেরুকরণ বদলে দিতে পারে। ১২০ আসনের নেসেটে সরকার গঠনের জন্য ৬১ আসনের প্রয়োজন। সাম্প্রতিক ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, নেতানিয়াহুর জোট ৫৩টি এবং তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন জোট ৪৮টি আসন পেতে যাচ্ছে। ফলে আরব দলগুলোর সমর্থন যেকোনো পক্ষকেই সরকার গঠনে ‘কিংমেকার’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। আরব দলগুলোর এই উত্থানের অর্থ হলো, ১২০ সদস্যের নেসেটে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন থেকে নেতানিয়াহুর জোট এবং তার বিরোধী ইহুদি নেতৃত্বাধীন দলগুলো—উভয়ই অনেক দূরে থাকবে।

লীকুদ পার্টির দাবি অনুযায়ী, ‘সন্ত্রাসবাদ এবং ইহুদি রাষ্ট্র ধ্বংসের সমর্থক’ আরব দলগুলো ভোটারদের প্রভাবিত করতে অবৈধ সফটওয়্যার ব্যবহার, ভয়ভীতি প্রদর্শন, সহিংসতা ও ঘুষের মতো গুরুতর অপরাধ করেছে। লিকুদ পার্টি জানিয়েছে, তাদের কাছে ভোটকেন্দ্রের জালিয়াতি, নগদ অর্থ লেনদেন ও জাল ভোটের ‘শত শত প্রমাণ’ রয়েছে যা তারা নির্বাচন কমিটির কাছে জমা দিয়েছে। তবে ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির এক কর্মকর্তা এসব জালিয়াতির অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা প্রতিটি নির্বাচনের মতো এবারও যথাযথ নিয়মে অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করছে।

নির্বাচনের আগে থেকেই বিভিন্ন হিব্রু গণমাধ্যমে গুঞ্জন ছিল যে, লিকুদ পার্টি কাঙ্ক্ষিত আসন না পেলে ভোটের ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে।

রাজনৈতিক এই অচলবস্থায় রা’আম দলের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা ইয়োভ সেগালোভিৎজ জানিয়েছেন, তার দল পরবর্তী সরকারে যুক্ত হতে আগ্রহী, তবে সেই সরকারকে অবশ্যই আরব ভোটারদের স্বার্থকে প্রধান্য দিতে হবে। এমন পরিস্থিতির মধ্যে বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটসের নেতা ইয়ার গোলান ইহুদি ও আরব দলগুলোর সমন্বয়ে একটি নতুন জোট গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। গোলান মনে করেন, পরিবর্তনকামী জোটের সদস্যদের উচিত রা’আম ও জয়েন্ট লিস্টের সাথে কাজ করার পুরনো মানসিকতা ঝেড়ে ফেলা। বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ৮৫ শতাংশ ভোট গণনা শেষে নির্বাচনী পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল অবস্থায় রয়েছে। তবে যাকে প্রধানমন্ত্রী মনোনীত করা হবে, তাকে অবশ্যই আরব ভোটারদের স্বার্থ বিবেচনায় নিতে হবে।