ঢাকা ১০:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

সেন্ট মার্টিনে পর্যটকের দৈনিক সীমা সাড়ে ৩ হাজার, ঝুঁকিতে দ্বীপের প্রাণপ্রকৃতি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:০১:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সেন্ট মার্টিন দ্বীপের পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখতে এতদিন পর্যটক সমাগমের ওপর যে বিধিনিষেধ ছিল, সরকার তা শিথিল করেছে। এর আওতায় স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা এবং পর্যটনের ওপর সরাসরি নির্ভরশীল নির্দিষ্টসংখ্যক পরিবারকে দুই মাসের জন্য আর্থিক অনুদান দেওয়ার উদ্যোগ ছিল। এ ছাড়া সেন্ট মার্টিনের জন্য একটি মহাপরিকল্পনার খসড়া চূড়ান্ত করা হয়। এতে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকেন্দ্রিক ও প্রকৃতিবান্ধব পর্যটনব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দ্বীপজুড়ে একের পর এক হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজ গড়ে ওঠে।

এখন থেকে প্রতিদিন গড়ে ২ হাজার পর্যটকের পরিবর্তে সর্বোচ্চ সাড়ে ৩ হাজার পর্যটক দ্বীপে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। ফলে পর্যটকের ভিড়ের সঙ্গে বাড়তে থাকে প্লাস্টিকসহ অন্যান্য বর্জ্য। পর্যটকের আনাগোনা কমায় সৈকতে বর্জ্য ফেলার প্রবণতা কমে।

শুধু সংখ্যা বৃদ্ধিই নয়, দ্বীপটিতে পর্যটকদের রাতযাপনের সুযোগও ২ মাস থেকে বাড়িয়ে সাড়ে ৪ মাস করা হয়েছে।

আগামী ১ নভেম্বর থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত এই নতুন নিয়ম কার্যকর থাকবে এবং প্রত্যেক পর্যটককে ভ্রমণের জন্য ১০০ টাকা পরিবেশ সংরক্ষণ ফি প্রদান করতে হবে। তিনি ব্যস্ত থাকায় কথা বলা সম্ভব হয়নি। মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা খানম দেশের বাইরে আছেন।

পর্যটকদের রাতযাপন নিয়ে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল, তা নিরসনে গত মঙ্গলবার পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় একটি নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

এতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ১ নভেম্বর থেকেই পর্যটকেরা রাতে দ্বীপে অবস্থান করতে পারবেন। বাড়বে পয়োবর্জ্য, প্লাস্টিকের বোতল ও খাবারের মোড়ক।

পরিবেশগত ঝুঁকি ও বিধিনিষেধ

১৯৯৯ সালে সেন্ট মার্টিনকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। দ্বীপের প্রাণপ্রকৃতি রক্ষায় রাতে সৈকতে আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দে গানবাজনা ও বারবিকিউ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া কেয়াবন ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায়ও রয়েছে নানা বিধিনিষেধ। কিন্তু এখন প্রতিদিনের পর্যটক সীমা ৭৫ শতাংশ বাড়ানোয় এই কঠোর নিয়মগুলো কার্যকর রাখা নিয়ে বড় ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে দ্বীপের সুপেয় পানির সংকট, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও সৈকতের দূষণ নিয়ন্ত্রণে এই বাড়তি চাপ বড় ধরনের ঝুঁকির কারণ হতে পারে। সেখানে আরও দেড় হাজার পর্যটক বাড়ানো হলে দ্বীপের প্রাণপ্রকৃতি নতুন ঝুঁকিতে পড়বে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। কয়েক দশকের অপরিকল্পিত পর্যটন ও অবাধে স্থাপনা নির্মাণের কারণে সেন্ট মার্টিনের প্রাণপ্রকৃতি বিপর্যস্ত হয়েছে। দীর্ঘদিনের দূষণ ও মানুষের অবাধ বিচরণের চাপ থেকে প্রাণপ্রকৃতির কিছুটা স্বস্তি পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছিল। বর্জ্য শোধন ও অপসারণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকলে এসবের দূষণ সৈকত ও সমুদ্রে ছড়িয়ে পড়বে। একই সঙ্গে প্রবাল ও সামুদ্রিক প্রাণীর আবাসস্থলে মানুষের আনাগোনাও বাড়বে। সেন্ট মার্টিনে রাতের অন্ধকারে কেয়াবন ধ্বংস করছে কারা। প্রবাল, সামুদ্রিক কাছিম, শৈবাল, শামুক-ঝিনুক ও নানা প্রজাতির পরিযায়ী পাখির নিরাপদ আবাস ছিল এটি।

অতীতের প্রেক্ষাপট ও গবেষণা

গত দুই মৌসুমে ২ লাখ ৩৭ হাজার পর্যটক দ্বীপটি ভ্রমণ করেছেন, যা তিন বছর আগের তুলনায় অর্ধেকের কম।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত মাত্র তিন মাসের জন্য প্রতিদিন ২ হাজার পর্যটকের প্রবেশের সীমা নির্ধারণ করেছিল।

এখন সেই সুফল ধরে রাখা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বনবিদ্যা ও পরিবেশবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক মোহাম্মদ কামাল হোসাইন জানান, দ্বীপের পরিবেশগত বহনক্ষমতা অনুযায়ী দিনে ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ পর্যটক যাওয়া যুক্তিযুক্ত। অথচ বর্তমানে এই সংখ্যা বাড়িয়ে সাড়ে ৩ হাজার করা হয়েছে, যা দ্বীপের সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য উদ্বেগজনক। তাঁর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেনের কাছে প্রশ্ন পাঠানো হলেও জবাব পাওয়া যায়নি।

গবেষণার তথ্য ও পরিবেশের উন্নতি

২০২৬ সালের মে মাসে প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুযায়ী, পর্যটন বন্ধ থাকার সময় সমুদ্রের পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছিল। পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, একসময় এই দ্বীপে প্রায় ১ হাজার ৭৬ প্রজাতির জীববৈচিত্র্য ছিল। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান জানান, পর্যটকের সংখ্যা বাড়ানোর কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। আগের ২ হাজার পর্যটকের সীমা কার্যকর করতেই প্রশাসনকে হিমশিম খেতে হতো। এছাড়া সংগৃহীত ১০০ টাকা পরিবেশ রক্ষায় ব্যয় হবে কি না, তা নিয়েও স্পষ্ট নির্দেশনার অভাব রয়েছে। বছরের বাকি সময় দ্বীপটি প্রায় পর্যটকশূন্য থাকত। ২০২৬ সালের মে মাসে জার্নাল অব এনভায়রনমেন্টাল ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ট্যুরিজম-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা যায়, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত পর্যটন বন্ধ থাকার সময়ে সমুদ্রের পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ উল্ল। তা ছাড়া পর্যটকদের কাছ থেকে আদায় করা ১০০ টাকা কোথায় ব্যয় করা হবে, তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন।

  • জাহাজমালিক ও হোটেল ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন অন্তত ৬ হাজার পর্যটকের চাহিদা জানিয়েছিলেন।
  • সরকার আলোচনার প্রেক্ষিতে পর্যটকের সীমা ৩ হাজার ৫০০ জন নির্ধারণ করেছে।
  • সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পর্যটন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বাসিন্দাদের প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
  • পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু এবং সচিব ফাহমিদা খানম এ বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করেননি।
  • সেন্ট মার্টিনে হোটেল ও কটেজ স্থাপনের সময় অনেক ক্ষেত্রে পরিবেশ ছাড়পত্র মানা হয়নি।
  • অতিরিক্ত পর্যটক বাড়লে প্লাস্টিক বর্জ্য ও পয়োনিষ্কাশনের সংকট তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সেন্ট মার্টিনে পর্যটকের দৈনিক সীমা সাড়ে ৩ হাজার, ঝুঁকিতে দ্বীপের প্রাণপ্রকৃতি

আপডেট সময় : ০৮:০১:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

সেন্ট মার্টিন দ্বীপের পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখতে এতদিন পর্যটক সমাগমের ওপর যে বিধিনিষেধ ছিল, সরকার তা শিথিল করেছে। এর আওতায় স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা এবং পর্যটনের ওপর সরাসরি নির্ভরশীল নির্দিষ্টসংখ্যক পরিবারকে দুই মাসের জন্য আর্থিক অনুদান দেওয়ার উদ্যোগ ছিল। এ ছাড়া সেন্ট মার্টিনের জন্য একটি মহাপরিকল্পনার খসড়া চূড়ান্ত করা হয়। এতে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকেন্দ্রিক ও প্রকৃতিবান্ধব পর্যটনব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দ্বীপজুড়ে একের পর এক হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজ গড়ে ওঠে।

এখন থেকে প্রতিদিন গড়ে ২ হাজার পর্যটকের পরিবর্তে সর্বোচ্চ সাড়ে ৩ হাজার পর্যটক দ্বীপে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। ফলে পর্যটকের ভিড়ের সঙ্গে বাড়তে থাকে প্লাস্টিকসহ অন্যান্য বর্জ্য। পর্যটকের আনাগোনা কমায় সৈকতে বর্জ্য ফেলার প্রবণতা কমে।

শুধু সংখ্যা বৃদ্ধিই নয়, দ্বীপটিতে পর্যটকদের রাতযাপনের সুযোগও ২ মাস থেকে বাড়িয়ে সাড়ে ৪ মাস করা হয়েছে।

আগামী ১ নভেম্বর থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত এই নতুন নিয়ম কার্যকর থাকবে এবং প্রত্যেক পর্যটককে ভ্রমণের জন্য ১০০ টাকা পরিবেশ সংরক্ষণ ফি প্রদান করতে হবে। তিনি ব্যস্ত থাকায় কথা বলা সম্ভব হয়নি। মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা খানম দেশের বাইরে আছেন।

পর্যটকদের রাতযাপন নিয়ে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল, তা নিরসনে গত মঙ্গলবার পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় একটি নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

এতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ১ নভেম্বর থেকেই পর্যটকেরা রাতে দ্বীপে অবস্থান করতে পারবেন। বাড়বে পয়োবর্জ্য, প্লাস্টিকের বোতল ও খাবারের মোড়ক।

পরিবেশগত ঝুঁকি ও বিধিনিষেধ

১৯৯৯ সালে সেন্ট মার্টিনকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। দ্বীপের প্রাণপ্রকৃতি রক্ষায় রাতে সৈকতে আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দে গানবাজনা ও বারবিকিউ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া কেয়াবন ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায়ও রয়েছে নানা বিধিনিষেধ। কিন্তু এখন প্রতিদিনের পর্যটক সীমা ৭৫ শতাংশ বাড়ানোয় এই কঠোর নিয়মগুলো কার্যকর রাখা নিয়ে বড় ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে দ্বীপের সুপেয় পানির সংকট, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও সৈকতের দূষণ নিয়ন্ত্রণে এই বাড়তি চাপ বড় ধরনের ঝুঁকির কারণ হতে পারে। সেখানে আরও দেড় হাজার পর্যটক বাড়ানো হলে দ্বীপের প্রাণপ্রকৃতি নতুন ঝুঁকিতে পড়বে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। কয়েক দশকের অপরিকল্পিত পর্যটন ও অবাধে স্থাপনা নির্মাণের কারণে সেন্ট মার্টিনের প্রাণপ্রকৃতি বিপর্যস্ত হয়েছে। দীর্ঘদিনের দূষণ ও মানুষের অবাধ বিচরণের চাপ থেকে প্রাণপ্রকৃতির কিছুটা স্বস্তি পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছিল। বর্জ্য শোধন ও অপসারণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকলে এসবের দূষণ সৈকত ও সমুদ্রে ছড়িয়ে পড়বে। একই সঙ্গে প্রবাল ও সামুদ্রিক প্রাণীর আবাসস্থলে মানুষের আনাগোনাও বাড়বে। সেন্ট মার্টিনে রাতের অন্ধকারে কেয়াবন ধ্বংস করছে কারা। প্রবাল, সামুদ্রিক কাছিম, শৈবাল, শামুক-ঝিনুক ও নানা প্রজাতির পরিযায়ী পাখির নিরাপদ আবাস ছিল এটি।

অতীতের প্রেক্ষাপট ও গবেষণা

গত দুই মৌসুমে ২ লাখ ৩৭ হাজার পর্যটক দ্বীপটি ভ্রমণ করেছেন, যা তিন বছর আগের তুলনায় অর্ধেকের কম।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত মাত্র তিন মাসের জন্য প্রতিদিন ২ হাজার পর্যটকের প্রবেশের সীমা নির্ধারণ করেছিল।

এখন সেই সুফল ধরে রাখা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বনবিদ্যা ও পরিবেশবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক মোহাম্মদ কামাল হোসাইন জানান, দ্বীপের পরিবেশগত বহনক্ষমতা অনুযায়ী দিনে ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ পর্যটক যাওয়া যুক্তিযুক্ত। অথচ বর্তমানে এই সংখ্যা বাড়িয়ে সাড়ে ৩ হাজার করা হয়েছে, যা দ্বীপের সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য উদ্বেগজনক। তাঁর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেনের কাছে প্রশ্ন পাঠানো হলেও জবাব পাওয়া যায়নি।

গবেষণার তথ্য ও পরিবেশের উন্নতি

২০২৬ সালের মে মাসে প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুযায়ী, পর্যটন বন্ধ থাকার সময় সমুদ্রের পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছিল। পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, একসময় এই দ্বীপে প্রায় ১ হাজার ৭৬ প্রজাতির জীববৈচিত্র্য ছিল। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান জানান, পর্যটকের সংখ্যা বাড়ানোর কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। আগের ২ হাজার পর্যটকের সীমা কার্যকর করতেই প্রশাসনকে হিমশিম খেতে হতো। এছাড়া সংগৃহীত ১০০ টাকা পরিবেশ রক্ষায় ব্যয় হবে কি না, তা নিয়েও স্পষ্ট নির্দেশনার অভাব রয়েছে। বছরের বাকি সময় দ্বীপটি প্রায় পর্যটকশূন্য থাকত। ২০২৬ সালের মে মাসে জার্নাল অব এনভায়রনমেন্টাল ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ট্যুরিজম-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা যায়, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত পর্যটন বন্ধ থাকার সময়ে সমুদ্রের পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ উল্ল। তা ছাড়া পর্যটকদের কাছ থেকে আদায় করা ১০০ টাকা কোথায় ব্যয় করা হবে, তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন।

  • জাহাজমালিক ও হোটেল ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন অন্তত ৬ হাজার পর্যটকের চাহিদা জানিয়েছিলেন।
  • সরকার আলোচনার প্রেক্ষিতে পর্যটকের সীমা ৩ হাজার ৫০০ জন নির্ধারণ করেছে।
  • সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পর্যটন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বাসিন্দাদের প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
  • পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু এবং সচিব ফাহমিদা খানম এ বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করেননি।
  • সেন্ট মার্টিনে হোটেল ও কটেজ স্থাপনের সময় অনেক ক্ষেত্রে পরিবেশ ছাড়পত্র মানা হয়নি।
  • অতিরিক্ত পর্যটক বাড়লে প্লাস্টিক বর্জ্য ও পয়োনিষ্কাশনের সংকট তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।