ঢাকা ০২:১১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

মা হওয়ার পর কাজের সুযোগ নিয়ে যা বললেন পরিণীতি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:১০:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬ ১৭ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ওয়েব সিরিজ ‘শক: ট্রাস্ট নো ওয়ান’-এর চিত্রনাট্য পাওয়ার অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে পরিণীতি চোপড়া জানান, সাধারণত বই পড়ার অভ্যাস থাকলেও চিত্রনাট্য পড়তে মাঝেমধ্যে তাঁর মনযোগ সরে যায়। তবে এই সিরিজের গল্পটি পড়ার সময় তিনি আড়াই ঘণ্টায় পুরোটা শেষ করে ফেলেন এবং সিদ্ধান্ত নেন যে এতে অভিনয় করতেই হবে। সিরিজের প্রযোজক সিদ্ধার্থ পি মালহোত্রা ও পরিচালক রেনসিল ডি’সিলভার ওপর আস্থা এবং নেটফ্লিক্সের সঙ্গে কাজের সুযোগ তাঁকে এই প্রজেক্টের প্রতি আগ্রহী করে তোলে। ভেবেছিলাম, শেষ করতে দু-তিন দিন লাগবে। শেষ পাতা পড়েই মনে হয়েছিল, আমাকে এই সিরিজে অভিনয় করতেই হবে। শুধু গল্প নয়, সিরিজটির সঙ্গে যুক্ত মানুষগুলোর জন্যও কাজটি করতে আগ্রহী হয়ে ওঠেন পরিণীতি। ‘মা হয়েছি বলে অভিনয় ছাড়ব কেন’ মাতৃত্বের পর অভিনয়জীবন নিয়ে নতুন করে ভাবছেন পরিণীতি। বরাবরই ব্যক্তিজীবন ও কাজের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে চেয়েছেন।

এই সিরিজের শুটিংয়ের সময় পরিণীতি অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। অভিনেত্রী জানান, পুরো শুটিং ইউনিটের সদস্যরা তাঁর খুব খেয়াল রেখেছেন, যার ফলে কাজের ক্ষেত্রে কোনো বাড়তি চাপ অনুভব করতে হয়নি। শুটিংয়ের সেই কঠিন সময়ে পরিবারের সদস্যরা, বিশেষ করে স্বামী রাঘব চাড্ডা, তাঁর মায়ের পাশাপাশি শাশুড়ি ও ভাইয়েরাও পরিণীতির পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। এই সিরিজটি তাঁর কাছে বিশেষ হয়ে থাকার কারণ হিসেবে তিনি জানান, সেসময় এটি তাঁর সন্তানের যেমন ডেবিউ ছিল, তেমনি ওয়েব দুনিয়ায় এটি তাঁর নিজেরও প্রথম কাজ। তাঁর কথায়, ‘চিত্রনাট্যটা এতটাই দুর্দান্ত ছিল যে প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়া বোকামি হতো। বিশেষ করে স্বামী রাঘব চাড্ডার সহযোগিতার কথা বলতে গিয়ে পরিণীতির কণ্ঠে কৃতজ্ঞতা। ‘খবরটা শোনামাত্রই রাঘব শিমলায় ছুটে এসেছিল। সবাই হয়তো ভাবছিল, পরিণীতির পুরো পরিবার কি শুটিংয়ে চলে এসেছে। বিষয়টিকে ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে দেখেন পরিণীতি। অভিনয়ের পাশাপাশি পরিবার, বন্ধু, ঘোরাঘুরি কিংবা নিজের জন্য সময় রাখা—সবকিছুই পরিণীতির কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই সন্তানের দায়িত্বও আমাদের দুজনেরই। শুধু সন্তানের দেখাশোনা নয়, অভিনয়ের ব্যস্ততার মধ্যেও স্বামীর কাছ থেকে ভরসা পান পরিণীতি। এই সহযোগিতা আমার কাছে অনেক বড় ব্যাপার।’। দুই জগতের দুই মানুষ একজন বলিউড অভিনেত্রী, অন্যজন রাজনীতিবিদ।

অভিনয় থেকে সরে দাঁড়ানোর কোনো পরিকল্পনা তাঁর নেই উল্লেখ করে পরিণীতি বলেন, মা হওয়ার পর কাজের সুযোগ কমে যাওয়ার আশঙ্কা নিয়ে তিনি ভাবেন। তাঁর মতে, সন্তান জন্ম দেওয়া জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, কিন্তু এর কারণে যদি কাজের সুযোগ হাতছাড়া হয় তবে তা হতাশাজনক। তবে তিনি ইতিবাচকভাবে দেখছেন যে, বর্তমান সময়ের আলিয়া ভাট, দীপিকা পাড়ুকোন এবং তাঁর দিদি প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার মতো অভিনেত্রীরা মা হওয়ার পরও অভিনয়ে নিয়মিত ও সফল রয়েছেন। বলিউডে এখন অনেক অভিনেত্রীই মা হওয়ার পর নিয়মিত কাজ করছেন। প্রিয়াঙ্কা পশ্চিমা ছবিতেও কাজ করছে। কিন্তু মা হওয়ার পর সেই ভারসাম্যের হিসাবও বদলে গেছে। ‘আমি সব সময় জীবনে ভারসাম্যকে গুরুত্ব দিয়েছি।

পরিণীতি ও তাঁর স্বামী রাঘব চাড্ডা তাঁদের সন্তানের দায়িত্ব ৫০-৫০ ভাগ করে নিয়েছেন। অভিনেত্রী যখন শুটিং বা প্রচারের কাজে ব্যস্ত থাকেন, তখন রাঘব সন্তানের দেখাশোনা করেন এবং বিপরীত পরিস্থিতিতে তিনি নিজে দায়িত্ব নেন। ক্লান্তিকর দিনের শেষে রাঘবের সমর্থন তাঁর কাজের বড় শক্তি। এমনকি রাঘব তাঁকে উৎসাহ দিয়ে বলেন, তুমি কাজে যাও, বাকি দায়িত্ব আমি সামলে নেব। প্রশ্ন শুনে পরিণীতি জানান, সন্তানের দায়িত্ব দুজনেই সমানভাবে ভাগ করে নিয়েছেন। ‘সন্তানের দায়িত্ব আমরা ৫০-৫০ ভাগ করে নিয়েছি। অন্যদিকে শুটিং, প্রচার ও নানা আয়োজনে ব্যস্ত থাকতে হয় পরিণীতিকে। তাহলে ছোট্ট ছেলের দেখাশোনা করেন কে।

পেশাগতভাবে পরিণীতি অভিনেত্রী এবং রাঘব রাজনীতিক হওয়ায় তাঁদের জগৎ সম্পূর্ণ আলাদা। পরিণীতি জানান, তাঁদের সংসারে পারস্পরিক বোঝাপড়া ভালো থাকলেও একে অপরের পেশায় তাঁরা খুব একটা নাক গলান না। রাজনীতির জটিল হিসাব বা রাঘবের সংসদীয় বক্তৃতা নিয়ে তাঁর যেমন ধারণা কম, তেমনি রাঘবও সিনেমার জগত থেকে অনেকটা দূরে। অভিনেত্রী মজার ছলে বলেন, এমনও হয়েছে যে তাঁর গান বাজছে অথচ রাঘব তা চিনতে পারছেন না, তখন পরিণীতিকে নিজেই সেটা বলে দিতে হয়েছে। তাই কাজের ক্ষেত্রে একে অপরের থেকে দূরত্ব বজায় রাখাই তাঁদের কাছে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যের।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

মা হওয়ার পর কাজের সুযোগ নিয়ে যা বললেন পরিণীতি

আপডেট সময় : ১০:১০:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

ওয়েব সিরিজ ‘শক: ট্রাস্ট নো ওয়ান’-এর চিত্রনাট্য পাওয়ার অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে পরিণীতি চোপড়া জানান, সাধারণত বই পড়ার অভ্যাস থাকলেও চিত্রনাট্য পড়তে মাঝেমধ্যে তাঁর মনযোগ সরে যায়। তবে এই সিরিজের গল্পটি পড়ার সময় তিনি আড়াই ঘণ্টায় পুরোটা শেষ করে ফেলেন এবং সিদ্ধান্ত নেন যে এতে অভিনয় করতেই হবে। সিরিজের প্রযোজক সিদ্ধার্থ পি মালহোত্রা ও পরিচালক রেনসিল ডি’সিলভার ওপর আস্থা এবং নেটফ্লিক্সের সঙ্গে কাজের সুযোগ তাঁকে এই প্রজেক্টের প্রতি আগ্রহী করে তোলে। ভেবেছিলাম, শেষ করতে দু-তিন দিন লাগবে। শেষ পাতা পড়েই মনে হয়েছিল, আমাকে এই সিরিজে অভিনয় করতেই হবে। শুধু গল্প নয়, সিরিজটির সঙ্গে যুক্ত মানুষগুলোর জন্যও কাজটি করতে আগ্রহী হয়ে ওঠেন পরিণীতি। ‘মা হয়েছি বলে অভিনয় ছাড়ব কেন’ মাতৃত্বের পর অভিনয়জীবন নিয়ে নতুন করে ভাবছেন পরিণীতি। বরাবরই ব্যক্তিজীবন ও কাজের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে চেয়েছেন।

এই সিরিজের শুটিংয়ের সময় পরিণীতি অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। অভিনেত্রী জানান, পুরো শুটিং ইউনিটের সদস্যরা তাঁর খুব খেয়াল রেখেছেন, যার ফলে কাজের ক্ষেত্রে কোনো বাড়তি চাপ অনুভব করতে হয়নি। শুটিংয়ের সেই কঠিন সময়ে পরিবারের সদস্যরা, বিশেষ করে স্বামী রাঘব চাড্ডা, তাঁর মায়ের পাশাপাশি শাশুড়ি ও ভাইয়েরাও পরিণীতির পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। এই সিরিজটি তাঁর কাছে বিশেষ হয়ে থাকার কারণ হিসেবে তিনি জানান, সেসময় এটি তাঁর সন্তানের যেমন ডেবিউ ছিল, তেমনি ওয়েব দুনিয়ায় এটি তাঁর নিজেরও প্রথম কাজ। তাঁর কথায়, ‘চিত্রনাট্যটা এতটাই দুর্দান্ত ছিল যে প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়া বোকামি হতো। বিশেষ করে স্বামী রাঘব চাড্ডার সহযোগিতার কথা বলতে গিয়ে পরিণীতির কণ্ঠে কৃতজ্ঞতা। ‘খবরটা শোনামাত্রই রাঘব শিমলায় ছুটে এসেছিল। সবাই হয়তো ভাবছিল, পরিণীতির পুরো পরিবার কি শুটিংয়ে চলে এসেছে। বিষয়টিকে ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে দেখেন পরিণীতি। অভিনয়ের পাশাপাশি পরিবার, বন্ধু, ঘোরাঘুরি কিংবা নিজের জন্য সময় রাখা—সবকিছুই পরিণীতির কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই সন্তানের দায়িত্বও আমাদের দুজনেরই। শুধু সন্তানের দেখাশোনা নয়, অভিনয়ের ব্যস্ততার মধ্যেও স্বামীর কাছ থেকে ভরসা পান পরিণীতি। এই সহযোগিতা আমার কাছে অনেক বড় ব্যাপার।’। দুই জগতের দুই মানুষ একজন বলিউড অভিনেত্রী, অন্যজন রাজনীতিবিদ।

অভিনয় থেকে সরে দাঁড়ানোর কোনো পরিকল্পনা তাঁর নেই উল্লেখ করে পরিণীতি বলেন, মা হওয়ার পর কাজের সুযোগ কমে যাওয়ার আশঙ্কা নিয়ে তিনি ভাবেন। তাঁর মতে, সন্তান জন্ম দেওয়া জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, কিন্তু এর কারণে যদি কাজের সুযোগ হাতছাড়া হয় তবে তা হতাশাজনক। তবে তিনি ইতিবাচকভাবে দেখছেন যে, বর্তমান সময়ের আলিয়া ভাট, দীপিকা পাড়ুকোন এবং তাঁর দিদি প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার মতো অভিনেত্রীরা মা হওয়ার পরও অভিনয়ে নিয়মিত ও সফল রয়েছেন। বলিউডে এখন অনেক অভিনেত্রীই মা হওয়ার পর নিয়মিত কাজ করছেন। প্রিয়াঙ্কা পশ্চিমা ছবিতেও কাজ করছে। কিন্তু মা হওয়ার পর সেই ভারসাম্যের হিসাবও বদলে গেছে। ‘আমি সব সময় জীবনে ভারসাম্যকে গুরুত্ব দিয়েছি।

পরিণীতি ও তাঁর স্বামী রাঘব চাড্ডা তাঁদের সন্তানের দায়িত্ব ৫০-৫০ ভাগ করে নিয়েছেন। অভিনেত্রী যখন শুটিং বা প্রচারের কাজে ব্যস্ত থাকেন, তখন রাঘব সন্তানের দেখাশোনা করেন এবং বিপরীত পরিস্থিতিতে তিনি নিজে দায়িত্ব নেন। ক্লান্তিকর দিনের শেষে রাঘবের সমর্থন তাঁর কাজের বড় শক্তি। এমনকি রাঘব তাঁকে উৎসাহ দিয়ে বলেন, তুমি কাজে যাও, বাকি দায়িত্ব আমি সামলে নেব। প্রশ্ন শুনে পরিণীতি জানান, সন্তানের দায়িত্ব দুজনেই সমানভাবে ভাগ করে নিয়েছেন। ‘সন্তানের দায়িত্ব আমরা ৫০-৫০ ভাগ করে নিয়েছি। অন্যদিকে শুটিং, প্রচার ও নানা আয়োজনে ব্যস্ত থাকতে হয় পরিণীতিকে। তাহলে ছোট্ট ছেলের দেখাশোনা করেন কে।

পেশাগতভাবে পরিণীতি অভিনেত্রী এবং রাঘব রাজনীতিক হওয়ায় তাঁদের জগৎ সম্পূর্ণ আলাদা। পরিণীতি জানান, তাঁদের সংসারে পারস্পরিক বোঝাপড়া ভালো থাকলেও একে অপরের পেশায় তাঁরা খুব একটা নাক গলান না। রাজনীতির জটিল হিসাব বা রাঘবের সংসদীয় বক্তৃতা নিয়ে তাঁর যেমন ধারণা কম, তেমনি রাঘবও সিনেমার জগত থেকে অনেকটা দূরে। অভিনেত্রী মজার ছলে বলেন, এমনও হয়েছে যে তাঁর গান বাজছে অথচ রাঘব তা চিনতে পারছেন না, তখন পরিণীতিকে নিজেই সেটা বলে দিতে হয়েছে। তাই কাজের ক্ষেত্রে একে অপরের থেকে দূরত্ব বজায় রাখাই তাঁদের কাছে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যের।