ঢাকা ১০:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: প্রযুক্তিনির্ভর সীমান্ত ব্যবস্থাপনা অপরিহার্য

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:০৭:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬ ২০ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আধুনিক ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি বলে উল্লেখ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আন্তর্জাতিক যাতায়াত এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যকে মসৃণ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করার সঙ্গে সঙ্গে সীমান্তকেন্দ্রিক যেকোনো ঝুঁকি কার্যকরভাবে মোকাবিলা করতে সরকার আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) আয়োজিত ‘বাংলাদেশে ইমিগ্রেশন ও বর্ডার গভর্ন্যান্স সংক্রান্ত আইওএম কৌশলগত রূপরেখা (২০২৭-২০৩১)’ শীর্ষক একটি বিশেষ ব্রিফিংয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা তুলে ধরেন। বুধবার (৪ নভেম্বর) আয়োজিত এই সংলাপে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান সম্পৃক্ততার চিত্র তুলে ধরেন।

বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট ও জাতীয় কৌশল

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বৈশ্বিক পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের অন্যান্য দেশের সাথে গভীর সমন্বয়ে যুক্ত রয়েছে। এই বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিশ্চিতের পাশাপাশি নিয়মমাফিক বাণিজ্য এবং ভ্রমণ আরও ত্বরান্বিত করার তাগিদ দেন তিনি। সে উদ্দেশ্যে সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বহির্বিশ্বের সঙ্গে বেশি সংযুক্ত।

তিনি উল্লেখ করেন, সরকারের প্রণীত ‘জাতীয় সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কৌশল ২০২৬-২০৩১’ এবং পাঁচ বছর মেয়াদি ‘কৌশলগত সংস্কার ও উন্নয়ন রূপরেখা ২০২৬-২০৩১’ সুচারুভাবে রূপায়ণে ডিজিটাল প্রযুক্তির সংযোজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) নিরাপদ ব্যবহার, কাগজবিহীন প্রশাসনিক পদ্ধতি প্রবর্তন এবং বিভিন্ন সরকারি সেবাসমূহের সংযোগ ও সমন্বয় সাধনকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।

প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন ও অভ্যন্তরীণ সমন্বয়

ইমিগ্রেশন নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনায় বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) অবদান স্মরণ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সময়োপযোগী প্রযুক্তি ও নীতিগত সিদ্ধান্তের যথাযথ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের স্থলবন্দর, বিমানবন্দর এবং প্রতিটি ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের সামগ্রিক সক্ষমতা ও গতিশীলতা বাড়াতে হবে। একই সাথে সীমান্ত পরিচালনার ক্ষেত্রে মানবাধিকারের বিষয়টির প্রতিও সজাগ দৃষ্টি রাখা দরকার।

সীমান্ত দিয়ে সংঘটিত অপরাধ দমন সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দেন। তাঁর মতে, মানবপাচার, অবৈধ অভিবাসন এবং বহুজাতিক অপরাধ প্রতিরোধ করা কেবল একটি মাত্র সংস্থার পক্ষে সম্ভব নয়। এজন্য বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দপ্তরের মধ্যে সুদৃঢ় আন্তমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের প্রয়োজন রয়েছে। তবে ভ্রমণের ধরন ও কার্যক্রমের প্রয়োজনীয়তা পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর ব্যবস্থা, দক্ষ জনবল এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করা প্রয়োজন হবে।

আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান

আইওএম কর্তৃক পেশ করা ২০২৭-২০৩১ মেয়াদের নতুন কৌশলগত রূপরেখাকে স্বাগতম জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বিশ্বমানের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে আইওএমের চলমান সমর্থন বজায় রাখার অনুরোধ জানান তিনি। একই সাথে বিশ্বমানের আন্তর্জাতিক সীমান্ত অবকাঠামো বিনির্মাণে উন্নয়ন সহযোগী দেশ ও সংস্থাগুলোকে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা প্রসারিত করার আহ্বান জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে আইওএম বাংলাদেশ মিশনপ্রধান ড. লরা টম বন্ডে বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি জানান, সীমান্ত শাসন ও অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ বিগত বছরগুলোতে প্রশংসনীয় দক্ষতা ও অগ্রগতি প্রদর্শন করেছে। তবে পরিবর্তনশীল বিশ্বব্যবস্থা, যোগাযোগের আধুনিক রূপ এবং প্রয়োজনীয়তার প্রেক্ষিতে বিভিন্ন সীমান্ত সংস্থার দক্ষতা বৃদ্ধি এবং যৌথ কার্যকারিতা আরও জোরদার করতে হবে। বাংলাদেশের অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে আইওএম সর্বাত্মক সহযোগিতা দিয়ে পাশে থাকবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় মানবাধিকার ও সুরক্ষার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

কৌশলগত রূপরেখার মূল উপাদান ও উপস্থিতি

আইওএমের প্রস্তাবিত এই কৌশলগত পরিকল্পনায় সহযোগিতার চারটি মূল দিক নির্ধারণ করা হয়েছে

  • সমন্বিত সীমান্ত সুরক্ষা ও কার্যকরী ব্যবস্থাপনা রূপরেখা তৈরি।
  • ডিজিটাল প্রযুক্তির ছোঁয়া ও স্পর্শহীন তথ্য আদান-প্রদান সুবিধা বাড়ানো।
  • সীমান্তকর্মীদের পেশাগত জ্ঞান ও প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধি।
  • নির্দিষ্ট সীমান্ত পয়েন্টে ভৌত অবকাঠামো ও সেবার মান আধুনিকায়ন।

এই বিস্তারিত রূপরেখাটি চূড়ান্ত করতে বাংলাদেশ সরকারের ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০৩১ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদের কৌশলগত উন্নয়ন পরিকল্পনাকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্য সম্মানীয় অতিথিদের মধ্যে ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক ও বহিরাগমন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান, স্পেশাল ব্রাঞ্চের প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. কামরুল আহসান এবং উপপুলিশ মহাপরিদর্শক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন। এছাড়াও ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো, কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং এবং আন্তর্জাতিক অংশীদার সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিরা সভায় সক্রিয় অংশগ্রহণ করে তাদের বক্তব্য পেশ করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: প্রযুক্তিনির্ভর সীমান্ত ব্যবস্থাপনা অপরিহার্য

আপডেট সময় : ১২:০৭:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আধুনিক ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি বলে উল্লেখ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আন্তর্জাতিক যাতায়াত এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যকে মসৃণ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করার সঙ্গে সঙ্গে সীমান্তকেন্দ্রিক যেকোনো ঝুঁকি কার্যকরভাবে মোকাবিলা করতে সরকার আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) আয়োজিত ‘বাংলাদেশে ইমিগ্রেশন ও বর্ডার গভর্ন্যান্স সংক্রান্ত আইওএম কৌশলগত রূপরেখা (২০২৭-২০৩১)’ শীর্ষক একটি বিশেষ ব্রিফিংয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা তুলে ধরেন। বুধবার (৪ নভেম্বর) আয়োজিত এই সংলাপে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান সম্পৃক্ততার চিত্র তুলে ধরেন।

বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট ও জাতীয় কৌশল

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বৈশ্বিক পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের অন্যান্য দেশের সাথে গভীর সমন্বয়ে যুক্ত রয়েছে। এই বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিশ্চিতের পাশাপাশি নিয়মমাফিক বাণিজ্য এবং ভ্রমণ আরও ত্বরান্বিত করার তাগিদ দেন তিনি। সে উদ্দেশ্যে সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বহির্বিশ্বের সঙ্গে বেশি সংযুক্ত।

তিনি উল্লেখ করেন, সরকারের প্রণীত ‘জাতীয় সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কৌশল ২০২৬-২০৩১’ এবং পাঁচ বছর মেয়াদি ‘কৌশলগত সংস্কার ও উন্নয়ন রূপরেখা ২০২৬-২০৩১’ সুচারুভাবে রূপায়ণে ডিজিটাল প্রযুক্তির সংযোজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) নিরাপদ ব্যবহার, কাগজবিহীন প্রশাসনিক পদ্ধতি প্রবর্তন এবং বিভিন্ন সরকারি সেবাসমূহের সংযোগ ও সমন্বয় সাধনকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।

প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন ও অভ্যন্তরীণ সমন্বয়

ইমিগ্রেশন নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনায় বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) অবদান স্মরণ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সময়োপযোগী প্রযুক্তি ও নীতিগত সিদ্ধান্তের যথাযথ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের স্থলবন্দর, বিমানবন্দর এবং প্রতিটি ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের সামগ্রিক সক্ষমতা ও গতিশীলতা বাড়াতে হবে। একই সাথে সীমান্ত পরিচালনার ক্ষেত্রে মানবাধিকারের বিষয়টির প্রতিও সজাগ দৃষ্টি রাখা দরকার।

সীমান্ত দিয়ে সংঘটিত অপরাধ দমন সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দেন। তাঁর মতে, মানবপাচার, অবৈধ অভিবাসন এবং বহুজাতিক অপরাধ প্রতিরোধ করা কেবল একটি মাত্র সংস্থার পক্ষে সম্ভব নয়। এজন্য বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দপ্তরের মধ্যে সুদৃঢ় আন্তমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের প্রয়োজন রয়েছে। তবে ভ্রমণের ধরন ও কার্যক্রমের প্রয়োজনীয়তা পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর ব্যবস্থা, দক্ষ জনবল এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করা প্রয়োজন হবে।

আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান

আইওএম কর্তৃক পেশ করা ২০২৭-২০৩১ মেয়াদের নতুন কৌশলগত রূপরেখাকে স্বাগতম জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বিশ্বমানের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে আইওএমের চলমান সমর্থন বজায় রাখার অনুরোধ জানান তিনি। একই সাথে বিশ্বমানের আন্তর্জাতিক সীমান্ত অবকাঠামো বিনির্মাণে উন্নয়ন সহযোগী দেশ ও সংস্থাগুলোকে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা প্রসারিত করার আহ্বান জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে আইওএম বাংলাদেশ মিশনপ্রধান ড. লরা টম বন্ডে বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি জানান, সীমান্ত শাসন ও অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ বিগত বছরগুলোতে প্রশংসনীয় দক্ষতা ও অগ্রগতি প্রদর্শন করেছে। তবে পরিবর্তনশীল বিশ্বব্যবস্থা, যোগাযোগের আধুনিক রূপ এবং প্রয়োজনীয়তার প্রেক্ষিতে বিভিন্ন সীমান্ত সংস্থার দক্ষতা বৃদ্ধি এবং যৌথ কার্যকারিতা আরও জোরদার করতে হবে। বাংলাদেশের অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে আইওএম সর্বাত্মক সহযোগিতা দিয়ে পাশে থাকবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় মানবাধিকার ও সুরক্ষার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

কৌশলগত রূপরেখার মূল উপাদান ও উপস্থিতি

আইওএমের প্রস্তাবিত এই কৌশলগত পরিকল্পনায় সহযোগিতার চারটি মূল দিক নির্ধারণ করা হয়েছে

  • সমন্বিত সীমান্ত সুরক্ষা ও কার্যকরী ব্যবস্থাপনা রূপরেখা তৈরি।
  • ডিজিটাল প্রযুক্তির ছোঁয়া ও স্পর্শহীন তথ্য আদান-প্রদান সুবিধা বাড়ানো।
  • সীমান্তকর্মীদের পেশাগত জ্ঞান ও প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধি।
  • নির্দিষ্ট সীমান্ত পয়েন্টে ভৌত অবকাঠামো ও সেবার মান আধুনিকায়ন।

এই বিস্তারিত রূপরেখাটি চূড়ান্ত করতে বাংলাদেশ সরকারের ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০৩১ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদের কৌশলগত উন্নয়ন পরিকল্পনাকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্য সম্মানীয় অতিথিদের মধ্যে ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক ও বহিরাগমন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান, স্পেশাল ব্রাঞ্চের প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. কামরুল আহসান এবং উপপুলিশ মহাপরিদর্শক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন। এছাড়াও ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো, কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং এবং আন্তর্জাতিক অংশীদার সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিরা সভায় সক্রিয় অংশগ্রহণ করে তাদের বক্তব্য পেশ করেন।