শাপলা বিক্রি করে সংসার চালান ৭৫ বছরের আব্দুল বারেক
- আপডেট সময় : ০৩:০৮:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে
ভোলার লালমোহন উপজেলার লালমোহন ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কর্তারকাচারি এলাকার বাসিন্দা ৭৫ বছর বয়সী আব্দুল বারেক পাটোয়ারী। বয়সের ভারে ন্যুব্জ শরীর আর নানা অসুস্থতা নিয়ে প্রতিনিয়ত জীবনসংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। প্রতিদিন ভোরের আলো ফোটার আগেই শুরু হয় তার কর্মযজ্ঞ। ফজরের নামাজ আদায় করেই তিনি বিলের বুকসমান পানিতে নেমে পড়েন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা পানিতে কাটিয়ে সংগ্রহ করেন শাপলা। এরপর মাথায় সেই শাপলার বোঝা নিয়ে বেরিয়ে পড়েন হাটবাজার ও পাড়া-মহল্লায়। জীবিকার তাগিদে রোদ-বৃষ্টি বা কাদা-পানির কোনো প্রতিকূলতাই তাকে ঘরে আটকে রাখতে পারে না। এছাড়া বছরের অন্যান্য সময়ে তিনি বিল, ক্ষেত বা বাগান থেকে শাকসবজি সংগ্রহ করে বিক্রি করেন। বাড়িতে ফিরে গোসল সেরে সেই শাপলা নিয়ে বের হন বিক্রির জন্য। বয়সের কারণে শরীরে নানা অসুস্থতা দেখা দিয়েছে।
আব্দুল বারেক জানান, সারাদিনের হাড়ভাঙা খাটুনির পর শাপলা বা শাকসবজি বিক্রি করে দিনে তার আয় হয় মাত্র ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। এর মধ্যে যাতায়াত খরচেই চলে যায় ৫০ টাকা। বাকি টাকায় সাত সদস্যের সংসার চালানো অত্যন্ত কঠিন। অনেক সময় ক্রেতাদের কাছে এক মুঠা শাপলার দাম ১৫ থেকে ২০ টাকা চাইলেও তা ১০ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা পানিতে পরিশ্রম করেও তিনি পণ্যের ন্যায্য দাম পান না। সংসার চালাতে গিয়ে হিমশিম খাওয়া এই বৃদ্ধ জানান, তার ছেলে আয় করলেও সংসারের বড় একটি অংশ তাকেই বহন করতে হয়। শারীরিক কষ্ট হলেও পরিবারের সাত সদস্যের মুখের দিকে তাকিয়ে প্রতিদিন কাজে বের হতে হয় তাকে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত হাঁটাহাঁটি করে শাপলা বিক্রি করে আয় হয় মাত্র ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। এর মধ্য থেকে যাতায়াতেই খরচ হয় ৫০ টাকা। নিজের সংসারের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, তার পরিবারে ছেলে, ছেলের বউ ও নাতনিসহ মোট সাতজন সদস্য রয়েছেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সময়ও কিছু পাননি, এখনো পান না। কাজ করেন, উপার্জন করেন, সেই টাকা দিয়েই সংসার চালান।
দীর্ঘ কর্মজীবনে সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধা পাননি বলে আক্ষেপ করেন আব্দুল বারেক। তিনি জানান, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরেও বয়স্ক ভাতা কিংবা সরকারি চাল—কোনো কিছুই তার কপালে জোটেনি। শরীরের নানা অসুস্থতা সত্ত্বেও পেটের দায়ে তাকে প্রতিদিন পানিতে নামতে হয়। সরকারি সহায়তা পেলে তার এই কষ্ট কিছুটা লাঘব হতো বলে তিনি মনে করেন।
এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক বলেন, আব্দুল বারেক পাটোয়ারী যদি উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, তবে তাকে বয়স্ক ভাতাসহ অন্যান্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।

























