ঢাকা ১২:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

এলএনজি টার্মিনাল রক্ষণাবেক্ষণ: গ্যাস সরবরাহে কমেছে চাপ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৩১:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশজুড়ে গ্যাসের সরবরাহ বর্তমানে কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের মধ্যে একটিতে রক্ষণাবেক্ষণ কাজ চলায় ৪ নভেম্বর সকাল ৮টা থেকে ৭ নভেম্বর বিকেল ৪টা পর্যন্ত সামিটের ভাসমান টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। এই পরিস্থিতির কারণে গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাসের চাপ স্বাভাবিকের চেয়ে কম থাকতে পারে। তবে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। এর সূত্রপাত হয়েছে গ্যাস সরবরাহের চাপ কমার সংবাদ থেকে। এতে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে খোঁজখবর নিতে শুরু করেন। গ্যাসের অভাবে শিল্পকারখানা পুরো সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছিল না।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, আজ বুধবার সকাল ৮টায় সারা দেশে মোট ২৫৪ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৯৭ কোটি ঘনফুট এসেছিল এলএনজি থেকে। এরপর বেলা বাড়ার সাথে সাথে সকাল ১০টার দিকে সরবরাহ কমে ২০৮ কোটি ঘনফুটে নেমে আসে এবং এলএনজি থেকে সরবরাহ পাওয়া যায় ৫১ কোটি ঘনফুট। অর্থাৎ নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে গ্যাস সরবরাহ ৪৬ কোটি ঘনফুট হ্রাস পেয়েছে। বেলা ২টা নাগাদ সরবরাহ আরও কমে ৫৪ কোটি ঘনফুটে দাঁড়ায়। উল্লেখ্য, দুটি টার্মিনাল মিলিয়ে মোট সক্ষমতা ১০৫ কোটি ঘনফুট হলেও স্বাভাবিক সময়ে ৯২ থেকে ৯৭ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করা হতো। বাংলাদেশ তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) সূত্র বলছে, আজ সকাল ৮টায় সারা দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ হয়েছে ২৫৪ কোটি ঘনফুট।

গ্যাস সরবরাহ বন্ধের বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন গুজব ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি পেট্রোবাংলার নজরে এসেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, একটি কুচক্রী মহল কিছু সংবাদমাধ্যমের ফটোকার্ড এডিট করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জনমনে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করছে। পেট্রোবাংলার পক্ষ থেকে জানানো হয়, ১ নভেম্বরের ঘোষণা অনুযায়ী কেবল এলএনজি সরবরাহ হ্রাসের কারণে চার দিন গ্যাসের চাপ কম থাকার কথা ছিল, যা রক্ষণাবেক্ষণ কাজের সাথে সম্পর্কিত। তারা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।

এর আগে আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসেও দেশে গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছিল। সেই সময় জ্বালানি সংকটের জেরে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেড়ে গিয়েছিল। এছাড়া শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি রান্নার গ্যাস ও পরিবহন খাতে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছিল। বর্তমানের রক্ষণাবেক্ষণ কাজটি শেষ হলে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি আবারও স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। রান্না ও পরিবহনে ভোগান্তি পোহাতে হয় মানুষজনকে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

এলএনজি টার্মিনাল রক্ষণাবেক্ষণ: গ্যাস সরবরাহে কমেছে চাপ

আপডেট সময় : ১০:৩১:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

দেশজুড়ে গ্যাসের সরবরাহ বর্তমানে কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের মধ্যে একটিতে রক্ষণাবেক্ষণ কাজ চলায় ৪ নভেম্বর সকাল ৮টা থেকে ৭ নভেম্বর বিকেল ৪টা পর্যন্ত সামিটের ভাসমান টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। এই পরিস্থিতির কারণে গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাসের চাপ স্বাভাবিকের চেয়ে কম থাকতে পারে। তবে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। এর সূত্রপাত হয়েছে গ্যাস সরবরাহের চাপ কমার সংবাদ থেকে। এতে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে খোঁজখবর নিতে শুরু করেন। গ্যাসের অভাবে শিল্পকারখানা পুরো সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছিল না।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, আজ বুধবার সকাল ৮টায় সারা দেশে মোট ২৫৪ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৯৭ কোটি ঘনফুট এসেছিল এলএনজি থেকে। এরপর বেলা বাড়ার সাথে সাথে সকাল ১০টার দিকে সরবরাহ কমে ২০৮ কোটি ঘনফুটে নেমে আসে এবং এলএনজি থেকে সরবরাহ পাওয়া যায় ৫১ কোটি ঘনফুট। অর্থাৎ নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে গ্যাস সরবরাহ ৪৬ কোটি ঘনফুট হ্রাস পেয়েছে। বেলা ২টা নাগাদ সরবরাহ আরও কমে ৫৪ কোটি ঘনফুটে দাঁড়ায়। উল্লেখ্য, দুটি টার্মিনাল মিলিয়ে মোট সক্ষমতা ১০৫ কোটি ঘনফুট হলেও স্বাভাবিক সময়ে ৯২ থেকে ৯৭ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করা হতো। বাংলাদেশ তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) সূত্র বলছে, আজ সকাল ৮টায় সারা দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ হয়েছে ২৫৪ কোটি ঘনফুট।

গ্যাস সরবরাহ বন্ধের বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন গুজব ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি পেট্রোবাংলার নজরে এসেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, একটি কুচক্রী মহল কিছু সংবাদমাধ্যমের ফটোকার্ড এডিট করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জনমনে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করছে। পেট্রোবাংলার পক্ষ থেকে জানানো হয়, ১ নভেম্বরের ঘোষণা অনুযায়ী কেবল এলএনজি সরবরাহ হ্রাসের কারণে চার দিন গ্যাসের চাপ কম থাকার কথা ছিল, যা রক্ষণাবেক্ষণ কাজের সাথে সম্পর্কিত। তারা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।

এর আগে আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসেও দেশে গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছিল। সেই সময় জ্বালানি সংকটের জেরে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেড়ে গিয়েছিল। এছাড়া শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি রান্নার গ্যাস ও পরিবহন খাতে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছিল। বর্তমানের রক্ষণাবেক্ষণ কাজটি শেষ হলে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি আবারও স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। রান্না ও পরিবহনে ভোগান্তি পোহাতে হয় মানুষজনকে।